advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মোবাইল হতে পারে বিপদের বন্ধু!

অনলাইন ডেস্ক
২১ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৯:৪৮ | আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৯:৪৮
প্রতীকী ছবি
advertisement

মোবাইল ফোনে কথা বলা ছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। তবে এই মোবাইল ফোন হতে পারে বিপদে বন্ধু, জীবন বাঁচাতে হতে পারে সহায়ক।

নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ করে গ্রাহকদের জন্য সুবিধাজনক মোবাইল বিমা সুবিধা প্রদান করছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল এবং বাংলালিংক।

মোবাইল জীবন বিমা কী?

‘মোবাইল লাইফ ইন্স্যুরেন্স’ টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো প্রদত্ত বিশেষ ধরনের জীবন বিমা। এটি নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবন ঝুঁকিসহ বিভিন্ন সময় সুরক্ষা দেয়। আর্থিক ক্ষতিপূরণটি নিবন্ধিত গ্রাহকের মৃত্যু, দুর্ঘটনা বা হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রদান করা হয়। সাধারণ জীবন বিমার মতো, মোবাইল জীবন বিমার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এই বিমা সুবিধা পেতে রেজিস্ট্রেশনের মতো কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় গ্রাহকদের।

চলুন দেখে নেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোবাইল বিমা অফারের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ :

গ্রামীণফোনের জীবন বিমা পরিকল্পনা ‘নির্ভয়’

বাংলাদেশের অন্যতম বড় মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন ২০১৩ সালে তাদের গ্রাহকদের জন্য ‘নির্ভয়’ নামে একটি জীবন বিমা পরিকল্পনা চালু করে। নিয়মিত জীবন বিমার বিপরীতে ‘নির্ভয়’ একটি বিনামূল্যের জীবন বিমা পরিকল্পনা, যা গ্রামীণফোন (জিপি) গ্রাহকরা তাদের নিজেদের সিম নম্বরে নামমাত্র পরিমাণ রিচার্জের মাধ্যমে চালু করতে পারেন।

গ্রাহকদের জীবন ঝুঁকির পরিমাণ হ্রাস করতে সুযোগ প্রদান করাই ‘নির্ভয়’ জীবন বিমা পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। এই বিমার অধীনে, কোনো নিবন্ধিত গ্রাহক তার তার আওতাভুক্ত বিমা সময়কালে মারা গেলে, দুর্ঘটনার শিকার হলে বা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হলে গ্রামীণফোন তাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

এই বিমা পরিকল্পনা শুরু হয় ন্যূনতম মাসিক রিচার্জ ১৫০ টাকা থেকে। এ ছাড়া ‘নির্ভয়’ জীবন বিমার অধীনে যেসকল গ্রাহকরা মাসে ৫০০ টাকা বা তার অধিক রিচার্জ করবেন, গ্রামীণফোন তাদেরকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। অফারটি পেতে জিপি গ্রাহকদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে (ইউএসএসডি ব্যবহার করে) নিবন্ধন করতে হবে অথবা নিকটস্থ জিপি সেবাকেন্দ্রে যেতে হবে।

বাংলালিংকের জীবন বিমা অফার ‘ডাক্তারবাড়ি’

চলতি বছরের ২২ আগস্ট ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্লাটফর্ম ‘ডাক্তারবাড়ি’ চালু করে বাংলালিংক (বিএল)। ‘ডাক্তারবাড়ি’ প্রিমিয়াম সেবাগুলির মধ্যে তিন ধরনের বিমা সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেগুলো হলো :

*হাসপাতালে ভর্তি হলে নগদ বিমা সেবা

*দুর্ঘটনাজনিত মেডিকেল বিমা সেবা

*জীবন বিমা (সম্মানসূচক)

বিমা সুবিধা প্রদানের জন্য ‘ডাক্তারবাড়ি’ বিমার অধীনে থাকা গ্রাহকদের বাংলালিংক মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে মাসিক টাকা ছাড়ের ভিত্তিতে পাঁচটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে।

গ্রাহকরা নিজেদের মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনিক (২ টাকা+ট্যাক্স), মাসিক (৫০ টাকা+ট্যাক্স) বা বাৎসরিক (৫৭৫ টাকা+ট্যাক্স) চার্জ দিয়ে এই বিমা সুবিধা চালু করতে পারেন।

রবি’র ‘মাইহেলথ কম্বো’ বিমা অফার

২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ‘মাইহেলথ কম্বো’ সেবার আওতায় জীবর বিমার পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তির জন্য নগদ বিমা সুবিধা দিয়ে আসছে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি। ‘মাইহেলথ কম্বো’ বিমার শর্তাবলী অনুযায়ী, নিজেদের বেছে নেয়া মাসিক বিভিন্ন প্লানের ওপর ভিত্তি করে এর গ্রাহকদের সাতটি বিভাগে ভাগ করা হয়। মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘মাইহেলথ কম্বো’ বিমার অধীনে থাকা গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা পেতে পারেন। এ ছাড়া হাসপাতাল খরচের জন্য বাৎসরিক সর্বোচ্চ পেতে পারেন ২০ হাজার টাকা।

এয়ারটেলের বিমা অফার ‘মাইহেলথ কম্বো’

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্লাটফর্ম ‘মাইহেলথ কম্বো’ চালু করেছে এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড। এয়ারটেলের মাইহেলথ কম্বোতে সাবস্ক্রাইব করা গ্রাহকরা পাঁচটি বিভাগে বিভক্ত। তবে সব গ্রাহকরা এই সেবা নিতে পারবেন না। হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে রবি’র ‘মাইহেলথ কম্বো’ বিমার মতো এয়ারটেলও একই ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে। এয়ারটেল গ্রাহকরা ‘মাইহেলথ কম্বো’ বিমা চালু করতে চাইলে ইউএসএসডি এর মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন।

মোবাইল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ‘বিমাপ্রাপ্ত’ গ্রাহক এবং তার পরিবারকে সুরক্ষা সরবরাহ করে থাকে। কিছু মোবাইল বিমা পরিকল্পনার মধ্যে দুর্ঘটনাজনিত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং হাসপাতালে ভর্তির জন্য নগদ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান টেলিযোগাযোগ পরিষেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের এসব মোবাইল বিমা মানুষের দুঃসময়ে সহায়তা দিতে পারে।

advertisement