advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাসপোর্ট বিড়ম্বনা : ফের বাড়ছে ওমরাহ যাত্রীদের ভিসার খরচ

কামাল পারভেজ অভি,সৌদিআরব
১৩ জানুয়ারি ২০২০ ১৯:০৯ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২০ ১৯:০৯
advertisement

পাসপোর্ট বিড়ম্বনায় ওমরাহ যাত্রীদের ভিসার খরচ ফের বাড়ছে। আবার অনেকে কাগজপত্র জমা দেওয়ার দুই-তিন মাস পরেও ওমরাযাত্রীর ভাগ্যে মিলছে না পাসপোর্ট। এদিকে সময়মতো পাসপোর্ট না পাওয়ায় ওমরাহ যাত্রীরা বিমানের টিকিট কেটেও সৌদি আরবে যেতে পারছেন না। অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে ওমরাগামী যাত্রীদের টিকিটের মূল্যও।

পাসপোর্টের অভাবে ২০২০ সালে হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হলেও আগামীতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এখানকার একাধিক হজ এজেন্সির মালিক এ অভিমত ব্যক্ত করেছে।

এদিকে, গত ১ জানুয়ারি থেকে সৌদি সরকার ওমরার ভিসার মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স বাবদ ১৮৯ রিয়াল ধার্য্য করছে। এতে চলতি বছর ওমরাহ প্যাকেজের মূল্য আরও অতিরিক্ত সাড়ে চার হাজার টাকা বেড়েছে। সৌদি আরব সরকারের বাড়ানো মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স ১৮৯ রিয়ালের সমপরিমাণ বাংলাদেশি টাকা অনেক ওমরাযাত্রী পরিশোধ করতে অনীহা প্রকাশ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক বছর যাবত পাঁচটি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ইতিমধ্যে গুটিয়ে নিয়েছে। এতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে টিকিটের চরম সঙ্কট আকার ধারণ করেছে। এ সুবাদে এক শ্রেণির অসাধু ট্রাভেল এজেন্ট ওমরাযাত্রীদের টিকিটের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় বন্ধ রাখা এয়ারলাইন্সগুলো হচ্ছে, ইত্তেহাদ এয়ার, ওমান এয়ার, জেড এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাই দুবাই।

এদিকে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স প্রতিদিন ঢাকা-জেদ্দা রুটে তিনটি ফ্লাইট চালু করে দেদারসে ওমরাযাত্রী পরিবহন করছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও প্রতিদিন এ রুটে মাত্র একটি ফ্লাইট দিয়ে লেবারসহ ওমরাযাত্রী পরিবহন করছে। এতে ওমরাযাত্রীর ফ্লাইট সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে।

ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক থার্ড ক্যারিয়ারগুলোও প্রতিদিন স্ব স্ব দেশের ট্রানজিট সুবিধা নিয়ে প্রচুর ওমরাযাত্রী পরিবহন করছে।

১৪৪১ হিজরীর ১ মুহাররম থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ওমরাগামীগণ সৌদি আরবে যাওয়া শুরু করেন। গত ১৫ রবিউস সানি পর্যন্ত সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বিশ্বের ২০ লাখ ৩১ হাজার ৭৫১ জন ওমরাযাত্রীর মোফা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫৪ জন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদিআরব গেছেন এবং ১২ লাখ ২১ হাজার ৩০৪ জন ওমরাহ পালন শেষে নিজ নিজ দেশে ফিরেছেন।

১৫ রবিউস সানি পর্যন্ত সৌদি আরবে সর্বাধিক ওমরাযাত্রী গেছে পাকিস্তানের ৪ লাখ ১১ হাজার ১৪০ জন, ইন্দোনেশিয়ার গেছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৩ জন, ভারতের গেছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৫৬ জন, মালয়েশিয়ার ৯৭ হাজার ৭০৯, তুরস্কের ৬৫ হাজার ৮৩, মিসরের ৫৩ হাজার ৯৬২, বাংলাদেশের ৪৭ হাজার ৯৬২, আলজেরিয়ার ৪৫ হাজার ৯৫০, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৯ হাজার ৫৪৪ এবং জর্দান থেকে ২৩ হাজার ৯২৬ জন।

২০১৭ এবং ২০১৮ সনে যেখানে ওমরার ভিসা করতে খরচ হতো মাত্র ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা, সেখানে ২০১৯ সালে তা ১৮ হাজার টাকা থেকে ১৯ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।

advertisement