advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সৌদিতে ধর্ষণের শিকার বাংলাদেশি কিশোরী

কামাল পারভেজ অভি,সৌদি আরব
১৫ জানুয়ারি ২০২০ ১৭:০৩ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২০ ১৮:৫৬
সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি কিশোরী। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ধর্ষণের শিকার হয়ে দেশটির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার এক কিশোরী। সংসারের অভাব ঘোঁচাতে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে গত বছরের ৪ অক্টোবর মরুর দেশে পাড়ি জমায় সে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, পাসপোর্টে ২৫ বছর বয়স দেখিয়ে ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে সৌদি আরব পাঠানো হয়। সাদ্দাম নামে এক দালালের মাধ্যমে জেনিয়া ওভারসিজ (লাইসেন্স নম্বর-১২২০) নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ভিসা নিয়ে সৌদিতে পাড়ি জমায় সে। ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে সৌদির রাজধানী রিয়াদের পাশ্ববর্তী শহর মাজমার তোমাইর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নির্যাতনের শিকার কিশোরী জানায়,  সৌদি আরব যাওয়ার ১০ দিনের মাথায় তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ওই কক্ষে টানা তিন দিন তাকে কয়েকজন ধর্ষণ করেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ওই কিশোরীকে রিয়াদের ছিমুছি হাসপাতালে রেখে যান তারা।

সেখানে তিন মাস চিকিৎসার নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে ওই কিশোরী। এর মাঝে গত রোববার তাকে ছিমুছি হাসপাতাল থেকে ১৫০ মাইল দূরে তোমাইর জেনারেল হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে ভাঙা গলায় একটু একটু কথা বলতে পারলেও বিছানা থেকে উঠে বসতে পারছে না সে।

তোমাইর হাসপাতালে কর্মরত এক বাংলাদেশি বলেন, ‘কীভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ধর্ষণের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিশোরী জানায়, সে যে অফিসের মাধ্যমে সৌদিতে এসেছিল সেখানকার বাংলাদেশিরাও এ ঘটনায় জড়িত ছিল। সে এতটুকু বলতে পারে তার উপর কিছু লোক ঝাপিয়ে পড়েছিল। অজ্ঞান হয়ে গেলে আর কিছুই মনে নেই তার।’

ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘দালাল সাদ্দাম হোসেনের কাছে আমার মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, আমার মেয়ে রোড অ্যাকসিডেন্ট করে হাসপাতালে ভর্তি আছে। পরে ওই হাসপাতালে কর্মরত এক বাংলাদেশির ফোন নম্বর নিয়ে মেয়ের সাথে কথা বলে আমরা আসল  ঘটনা জানতে পারি।’

ওই কিশোরীর বাবার দাবি, সৌদিতে হাসপাতালের ক্লিনারের কাজ দেওয়ার কথা বলায় তিনি মেয়েকে বিদেশ পাঠাতে রাজি হন।

এ বিষয়ে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘এই জঘন্য কাজের সাথে যারা যারা জড়িত তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশ দূতাবাস ওই কিশোরীর চিকিৎসাসহ সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে।’

এ ঘটনায় সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে অপরাধীদের বিচার সুনিশ্চিত করে তাকে দেশে পাঠানোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

advertisement