advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সেচকালীন বিদ্যুৎ ও তেল সরবরাহে প্রস্তুত মন্ত্রণালয়

লুৎফর রহমান কাকন
১৭ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২০ ০৮:৪৬
advertisement

সেচকালীন প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের চাহিদা সরবরাহে প্রস্তুত মন্ত্রণালয়। এ বছর সেচকালীন বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। যা গত বছর ছিল ১২ হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় চলতি বছর গ্যাসের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০০ মিলিয়ন ঘটফুট। যা গত বছর ছিল ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ বছর সেচকাজে ফার্নেস অয়েলের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার টন আর ডিজেলের চাহিদা ৫ হাজার ৬০০ টন।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে গত সোমবার সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সেচকালে কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ চাইলে দ্রুত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কৃষি খাতের উন্নয়নে সেচকালীন বিদ্যুৎ, এবং জ্বালানি তেল সরবরাহের সব ধরনের প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- যেসব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম সেসব কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ছাড়া তেল সরবরাহে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপদ, নৌপথ মন্ত্রণালয় এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলয়ের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, যেহেতু সঞ্চালন লাইন, উপকেন্দ্র এবং বিতরণ ব্যবস্থায় সংকট রয়েছে ফলে যেখানে সংকট বিদ্যমান সেগুলো আগে সংস্কার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় ন্যূনতম দুই মাসের উৎপাদন সক্ষম তেলের চাহিদা মজুদ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বিতরণ ব্যবস্থায় জিপিএিস কল সেন্টার ও হটলাইন চালুরও নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বরাবরের মতো পিক অফপিক আওয়ারের বিবেচনায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেচ মৌসুমে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বলা হয়েছে পর্যাপ্ত ট্রান্সফরমার মজুদ রাখতে।

ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত সেচ মৌসুম নির্ধারণ করা হলেও কার্যত ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পরিপূর্ণ কৃষিকাজের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। ফলে এ সময় জ্বালানি তেল সরবরাহের বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসি কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তেলের চাহিদা নির্ধারণ করে কৃষকদের দোরগোড়ায় জ্বালানি তেল পৌঁছতে প্রস্তুত গ্রহণ করে।

সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেচ মৌসুমের শুরুতেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তার অধিনস্থ তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে সর্বত্র তেল সহজে পৌঁছে দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তেল সহজে কৃষকদের কাছে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে পৌঁছে দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তেল পরিবহনের রেলের ওয়াগন প্রস্তুত রাখতে। নৌপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শুষ্ক মৌসুমে যেসব নদীতে কম পানি। সেগুলোকে ড্রেজিং করে নৌপথে তেল পরিবহনের স্বাভাবিক অবস্থা চালু রাখতে।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বর থেকেই কৃষিকাজে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি তেলের চাহিদা শুরু হয় ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত। এ সময় পর্যায়ক্রমে তেলের চাহিদা বাড়তে থাকে।

বিপিসি সূত্রে আরও জানায়, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানি তেল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গুপ্তখালে ট্যাংকারে রাখা হয়। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত ডিপোগুলোয় সরবরাহ করা হয়। পরে গোদনাইল ফতুল্লা ডিপো থেকে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোয় তেল সরবরাহ করা হয়। খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে খুলনা যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সবরাহ করা হয়েছে।

এর মধ্যে বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, পাবনা আশপাশের জেলাগুলোয়; রংপুর রেলহেড ডিপো থেকে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম আশপাশের জেলায়; রাজশাহীর হরিয়ান রেলহেড ডিপো থেকে রাজশাহী অঞ্চলে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো থেকে দিনাজপুরের আশপাশে বিভিন্ন জেলায় এবং শ্রীমঙ্গল, বরিশাল, ঝালকাঠি ভৈরবসহ যেসব এলাকায় ডিপো রয়েছে সেখান থেকে বিভিন্ন জেলায় তেল সরবরাহ করা হয়।

বিপিসি বলছে, দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ হলো ডিজেল। যার মধ্যে ১৬ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে কৃষিকাজে ব্যবহৃত তেল যাতে সেচকালীন সহজে পৌঁছানো যায় এ লক্ষ্যে বিপিসি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কন্ট্রোলরুম পর্যন্ত স্থাপন করে থাকে শুষ্ক মৌসুমে।

advertisement
Evall
advertisement