advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা
বিলম্বে পদোন্নতির অবসান ঘটছে

ইউসুফ আরেফিন
১৭ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২০ ১৩:২৯
advertisement

দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত করা হয় বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডারকে। এর পর প্রশাসন ক্যাডারের মতো ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকতাদেরও পদোন্নতির পথ বিস্তৃত হয়ে যায়। কিন্তু একীভূত হওয়ার পরও প্রশাসন ক্যাডারের মতো ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হচ্ছিল না। তাদের ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছিল। সেই বিলম্বের অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবার। গত বুধবার জনপ্রশাসন সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ধাপে ধাপে পদোন্নতি এবং মাঠ প্রশাসনে পদায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্রমতে, সিনিয়র সহকারী প্রধান এবং সহকারী প্রধান কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা আইন ও প্রশাসন কোর্স সম্পন্ন করেছেন, তাদের শিগগির মাঠ প্রশাসনে পদায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য কর্মকর্তাদেরও যোগ্যতা বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হবে। ফলে তাদের নামের আগে সহকারী প্রধান, সিনিয়র সহকারী প্রধান, উপপ্রধান, যুগ্ম প্রধান ও প্রধান পদবির পরিবর্তে প্রশাসন ক্যাডারের মতোই পদবি ব্যবহৃত হবে।

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন আমাদের সময়কে বলেন, একীভূত করার পরও ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে। যেমন- কর্মকর্তাদের পিডিএস (পার্সোনাল ডেটা শিট), শৃঙ্খলা রিপোর্ট, এসিআর রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব তৈরির জন্য আমরা সুনির্দিষ্ট সময়ও বেঁধে দিয়েছি।

রিপোর্টগুলো তৈরি হলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি দেওয়া হবে। প্রতি ১৫ দিন পর পর এ বিষয়ে অগ্রগতি সভা করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো সব সুযোগ-সুবিধা ও পদমর্যাদা ভোগ করবেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, একীভূত দুই ক্যাডারের কর্মকর্তাদের একসঙ্গে প্রশিক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ইকোনমিক ক্যাডারের ২০তম ব্যাচ থেকে ২৭তম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের এসএসবির মাধ্যমে পদোন্নতি দিয়ে উপসচিব করা হবে। আর অন্যান্য ব্যাচের কর্মকর্তাদেরও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যাচ অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে দুই ক্যাডার একীভূতকরণ ইস্যুতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। বৈঠকে উভয় ক্যাডারের প্রতিনিধিরা জানান, বিসিএস প্রশাসন ও ইকোনমিক ক্যাডার একীভূতকরণে কারওই আপত্তি নেই। এতে সরকারের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষমতা ও কাজের পরিধি বাড়বে।

ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, দুই ক্যাডার একীভূতকরণ করতে একটি সারসংক্ষেপ প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে পাঠানো হবে। এর পর ২০১৭ সালের ৩০ মে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে ওই সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়।

এতে বলা হয়, ১৯৯৮ সালে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নতুন ক্যাডার গঠন না করে ক্যাডারের সংখ্যা কমানোর পক্ষে সুপারিশ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যেসব ক্যাডারের কাজের ধরন একই, সেসব ক্যাডারকে একীভূত করার পরিকল্পনা শুরু হয় সরকারের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে সচিবালয় ক্যাডার একীভূত করার মতো ইকোনমিক ক্যাডারও একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০১০ সালে তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর দুই ক্যাডার একীভূত হওয়ার বিষয়ে উভয় ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিও হয়। ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট তৎকালীন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে একটি আধা-সরকারিপত্র (ডিও) দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

পত্রে তিনি বলেন, ইকোনমিক ক্যাডার বিলুপ্ত করে এর সদস্যদের প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন হবে। উভয় ক্যাডারের কার্যপরিধির বিষয়ে সচিব কমিটির সারসংক্ষেপে বলা হয়, দুই ক্যাডারের কর্মকর্তারা সরকারের নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জড়িত। তাদের কাজের প্রকৃতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রায় একই রকম এবং পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।

 

advertisement
Evall
advertisement