advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জয়পুরহাটের নান্দনিক দীঘি নান্দাইল

শাহিদুল ইসলাম সবুজ জয়পুরহাট
১৭ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২০ ২৩:৩৬
advertisement

সাইবেরিয়ান হাঁস, অস্ট্রেলিয়ান হাঁস, বুনো হাঁস, সারস, কাউন পাখি, বকের সারি, রাজহাঁস, চীনা হাঁসসহ নাম না জানা দেশি-বিদেশি অগণন পাখির শোভায় সবার মুগ্ধ দৃষ্টি কাড়া দিঘিগুলোর অন্যতম নান্দাইল দিঘি। শীতে অতিথি পাখির আগমনে নান্দনিক হয়ে ওঠে এই নান্দাইল দিঘি। জেগে ওঠা ক্ষুদ্র চর ও স্বচ্ছ পানিতে এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা হয় এখানে।

দিঘিটি জয়পুরহাট শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার পূর্বে কালাই থানার নান্দাইল গ্রামে অবস্থিত। মৌর্য বংশের সম্রাট নান্দলাল এই দিঘি নির্মাণ করেন। এ দিঘির আয়তন প্রায় একশত একর অর্থাৎ ৩০০ বিঘা। এর মধ্যে প্রায় ১৮০ বিঘা জলকর। দিঘির চতুর্দিকে রয়েছে উঁচু-নিচু টিলা এবং সবুজ শ্যামল বৃক্ষ পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা। দিঘিটি পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে।

কথিত আছে, ১৬১০ সালে রাজা নান্দাইল এটি খনন করান। স্থানীয় প্রবীণরা বলেন, এ দিঘি এক রাতে খনন করা হয়েছিল। করতোয়া নদী খনন করার ফলে এ অঞ্চলের পানি ওই নদীতে নেমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যেত এক সময়। ফলে চারদিকে শুধু খাঁ-খাঁ করত এ এলাকা। সে সময় প্রজাকুলের দুঃখের কথা ভেবে রাজা নন্দলাল বিশালায়তনের এই দিঘি খনন করেন। রাজা নন্দলাল থেকেই নান্দাইল দিঘির নামকরণ হয়েছে।

নান্দাইল দিঘির জলরাশিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে বেশ কয়েটি স্পিডবোট। এ ছাড়া দিঘির টিলার ওপর বসে শেষবেলার সূর্যোদয়ের দৃশ্য খুবই উপভোগ্য। চাঁদনি রাতে চাঁদের আলোয় মৃদু বাতাসে দিঘির স্বচ্ছ পানি রুপার মতো ঝলমল করে প্রকৃতি প্রেমিককে নিয়ে যায় এক অন্য ভুবনে। তাই রাতে দিঘিটি হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয় ও মনোরম।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোবারক হোসেন জানান, বর্তমানে নান্দাইল দিঘিটির মোটামুটি উন্নয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যটক থাকার জন্য একটি মাঝারি ধরনের বিশ্রামাগার, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ১টি ছোট ধরনের গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, পাকা প্রবেশপথ, ৩টি স্পিডবোট, ২টি নৌকা, বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান, বসার জন্য ১টি ছোট ধরনের টিনের গোলঘর এবং ছোট-বড় মিলে ৩টি ঘাট স্থাপন করা হয়েছে। দিঘিটি হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। আমাদের আরও অনেক কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অন্য ঐতিহাসিক স্থানের মূল্যায়ন হলেও দীর্ঘদিন ধরে নান্দাইল দিঘিটি অবহেলিত। এই ঐতিহাসিক দিঘিকে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সরকারিভাবে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের উত্তর পাশে নান্দাইল দিঘিটি অবস্থিত। জয়পুরহাট থেকে বাসযোগে কালাই বাসস্ট্যান্ডে নেমে অথবা বগুড়া থেকে বাসে পুনট বাসট্যান্ডে নেমে রিকশা বা ভ্যানে নান্দাইল দিঘিতে যাওয়া যায়।

advertisement
Evall
advertisement