advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টিভি নায়কদের সিনেমায় সফলতার অঙ্কে অব্যর্থ সূত্র
অপূর্ব-নিশো কি পারবেন

১৭ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২০ ০২:০৪
advertisement

অপূর্ব ও নিশো সিনেমায় আসছেন। দুই তারকার ভক্তরা প্রবল উত্তেজিত। টিভিতে রাজত্বের পর এবার তারা শাকিব খানের দূর্গে হানা দিতে যাচ্ছেন। চারদিকে যুদ্ধ যুদ্ধ রব। বেরসিক আমার মুখে মুচকি হাসি। এর আগেও টিভি থেকে অনেকেই সিনেমার শাসনকর্তা হতে কুরুক্ষেত্রে নেমেছেন। কারও হাতেই ক্ষমতার তরবারি ধরা দেয়নি। তবে নায়কদের প্রথম কাতারে এসেছেন দুজন।

একজন আরিফিন শুভ, আরেকজন সিয়াম। ইমন ও নিরবের কথা বলছি না। তারা বছর দশক আগের খেলোয়াড়। তাদের স্কোর কেমন, সকলেই জানেন। তারা এখনো ক্রিজে আছেন। লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি। উল্লিখিত চার তারকাই সিনেমায় নেমে টেলিভিশন ছেড়ে দিয়েছেন। নাটকে কাজ করে কাঁচা পয়সা উপার্জনের লোভ সংবরণ করতে পেরেছেন বলেই চিত্রনায়কের তালিকায় এদের নাম বলতে কারও মুখে আটকায় না। বাকি যারা নানা সময় ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় লম্ফ দিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই সিনেমায় ব্যর্থতার স্বাদ গ্রহণের পর সিনেমাকে গুডবাই জানিয়েছেন।

জাহিদ হাসান বলুন, মাহফুজ আহমেদ বলুন, এমনকি মোশাররফ করিম বলুন; কেউই সিনেমার জন্য ড্রয়িং রুমের তারকাখ্যাতিকে ছাড়তে রাজি হননি। আর এটাই হচ্ছে ছোটপর্দার নায়কদের বড়পর্দায় ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ। সজল বছর দশক আগে যখন সিনেমায় নাম লেখান, তখন তার ভরা যৌবন। বছরে শয়ের ওপরে নাটক করেন। এখনো তিনি নাটকের ব্যস্ত অভিনেতা। তিনি নতুন একটি ছবি নিয়ে আসছেন। এ ছবির পরিণতিও তার আগের ছবির চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু হবে বলে মনে হয় না।

সিনেমাকে টিভি তারকারা বোনাস হিসেবে দেখেন। ছবি চলে তো চলল, না চললে টিভিতে দুই শিফটে কাজ করে জীবিকা চালাও। টাকার জায়গায় সমঝোতা করতে পারেননি বলেই বহু টিভি অভিনেতাকে আজ ব্যর্থ নায়কের গাল শুনতে হয়। শুভ, সিয়ামরা সিনিয়রদের মতো ভুল করেননি। ইমন, নিরবরা ছোটপর্দাকে কোরবানি দিয়েই সিনেমায় নেমেছেন। এর সুফল তারা হাতেনাতে পেয়েছেন। আনিসুর রহমান মিলন, শাহেদ শরীফ, তাহসান খানরা দুই নৌকায় পা দিয়ে পিছলে গেছেন সিনেমার নায়কদের ইঁদুর দৌড় থেকে। একই সঙ্গে সিনেমা আর নাটকে অভিনয় চলতে পারে না। বক্স অফিসের জন্য এমন অবস্থা অশনিসংকেতবিশেষ। যখন নায়কের কয়েকশ নাটক ছড়িয়ে রয়েছে ইউটিউবে, চাইলেই একটা ক্লিক করে তার অভিনয় দেখা যাচ্ছে, টিভিতে প্রতিদিন তার নাটক প্রচার হচ্ছে; তাকে দেখার জন্য দর্শকরা সিনেমা হলে নিশ্চয়ই যাবেন না।

ব্যতিক্রম এখানেও আছে। নাম তার চঞ্চল চৌধুরী। যখন তিনি টিভিতে লাগাতার কাজ করছেন, তখন ‘মনপুরা’ সিনেমায় ব্লক বাস্টার হয়। অমন ছবি আসে কয়েক বছরে একখানা। ব্যতিক্রমী ছবির ব্যতিক্রমী নায়কের আসনে বসে যান চঞ্চল। ‘মনপুরা’ থেকে চঞ্চলের ছবি মানেই হিট। ‘আয়নাবাজি’ সব দিক থেকেই হিট হওয়ার মতো ছবি। ‘দেবী’ দুর্বল ছবি হওয়া সত্ত্বেও চঞ্চলের কারণে থিয়েটারের দর্শক টেনেছে। চঞ্চল কখনই নাটক ছাড়েননি। কিন্তু তিনি ছবি করেছেন বেছে বেছে। তার শত শত টেলিফিল্মে চ্যানেলভর্তি থাকলেও দর্শকরা তাকে কখনো ফিরিয়ে দেননি। সবাই চঞ্চল নন। অপূর্ব, নিশোরা এখন বেহিসেবী অভিনেতা। সংখ্যা গুনে তারা নাটক করছেন। টাকার পাহাড়ে চড়াই তাদের লক্ষ্য।

এমন অভিনেতারা সিনেমায় যাওয়ার অর্থ কোনো বিপ্লব নয়, স্রেফ চমকবাজি। সিনেমায় সাফল্য পেতে চাইলে অপূর্ব ও নিশোকে বোকা বাক্সে মুখ দেখানো বন্ধ করতে হবে। একটা লম্বা ব্যবধানের পর দর্শক যখন তাদের নতুন কাজ দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবে, তখন তাদের ছবি রিলিজ দিতে হবে। জনপ্রিয়তা, মেধা ও নায়কোচিত গুণাবলি তাদের দুজনেরই আছে। ছবি হিট না হয়ে যাবে কোথায়! কিন্তু টেলিভিশনের নেশা যে শক্ত নেশা। এ জগতের আরাম, আয়েশ, অবস্থান ছেড়ে সিনেমার অনিশ্চিত সংগ্রামে কে আর ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়! আর এমন উৎসর্গী অভিনেতা না হলে সিনেমায় সাফল্য সোনার হরিণ।

হ লেখক : চলচ্চিত্র সাংবাদিক

advertisement
Evaly
advertisement