advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মোবাইল ফোনই কাল হলো শিশু ইসমাইলের

রুহুল হাসান শরীফ,হবিগঞ্জ
১৭ জানুয়ারি ২০২০ ০১:৩৬ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২০ ০৮:৩৭
ইসমাইল হোসেন। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

বাবার পাঠানো মোবাইল ফোনটাই কাল হলো শিশু ইসমাইল হোসেনের (১০)। এই মোবাইলটি ছিনিয়ে নিতেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে প্রতিবেশী নবম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার। হবিগঞ্জ থানাপুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

হবিগঞ্জ শহরতলির তেঘরিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী ফারুক মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। মাসখানেক আগে ছেলের জন্য বিদেশ থেকে মোবাইল ফোন পাঠান ফারুক। ফোনটির লোভে পড়ে প্রতিবেশী শাহরিয়ার মারুফ ওরফে সাইমিন। সে হবিগঞ্জ জেকে অ্যান্ড এইচকে হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র।

শাহরিয়ারের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লা জানান, এক মাসের পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে শাহরিয়ার। গত ১০ জানুয়ারি সে ইসমাইল হোসেনকে পোদ্দারবাড়ি এলাকায় নাটক দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। রাত ৮টায় বাড়িতে ফিরে না আসায় বারবার তার (ইসমাইলের) মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ পান স্বজনরা। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে মা শাহেনা আক্তার ওই দিন সদর মডেল থানায় জিডি করেন।

১৩ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সদর উপজেলার চরহামুয়া গ্রামের পাশে খোয়াই নদী থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ব্যাপারে নিহত ইসমাইলের চাচা মো. টেনু মিয়া ১৪ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ১৪ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শাহরিয়ারকে তেঘরিয়া এলাকা থেকে পুলিশ আটক করে। পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। বুধবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে শাহরিয়ার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আদালতে শাহরিয়ার জানায়, পার্শ্ববর্তী বাড়ির ইসমাইল হোসেনের হাতে এক মাস আগে একটি বিদেশি মোবাইল দেখে। মোবাইল দিয়ে নদীর পারে তার সহপাঠীদের ছবি তোলে। মোবাইলের লোভে সে ইসমাইলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ১০ জানুয়ারি বিকালে শাহরিয়ার হবিগঞ্জ শহরে পোদ্দারবাড়ি এলাকায় একটি নাটকের ছবি ও ভিডিও করার পরামর্শ দেয়। এতে ইসমাইল রাজি হয়। সে অনুযায়ী শাহরিয়ার বিকাল ৪টার দিকে ইসমাইলকে নিয়ে রওনা হয়। তারা ধুলিয়াখাল-মিরপুর রোডে মশাজান ব্রিজের কাছে সিএনজি থেকে নামে।

ইসমাইলকে নিয়ে শাহরিয়ার তার নানাবাড়ি চরহামুয়া নোয়াবাদ যাওয়ার জন্য নদীর তীর ধরে দিয়ে রওনা হয়। একপর্যায়ে নদীর কিনারে নিয়ে নাটকের মতো অভিনয় করার জন্য শাহরিয়ার কলাগাছের ছোলা দিয়ে ইসমাইলের হাত ও পা বাঁধে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছবি তোলার ভান করে একটি বাঁশের মোড়া দিয়ে ইসমাইলের মাথায় কয়েকটি আঘাত করে শাহরিয়ার। এতে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে ইসমাইলকে ধাক্কা মেরে খোয়াই নদীতে ফেলে দ্রুত মোবাইল ফোনটি নিয়ে বাড়িতে চলে যায় শাহরিয়ার।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লা বলেন, নিহত ইসমাইলের মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শাহরিয়ার এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনুতপ্ত।

advertisement
Evall
advertisement