advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নির্ভয়া কাণ্ড : চার আসামির ফাঁসি কার্যকর ১ ফেব্রুয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০২০ ১৮:২০ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২০ ২১:১৩
নির্ভয়া-কাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি
advertisement

ভারতের মেডিকেলছাত্রী ‘নির্ভয়া’কে ধর্ষণে অভিযুক্ত চার আসামিকে আগামী ২২ জানুয়ারি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন দেশটির আদালত। আজ শুক্রবার সেই তারিখ পরিবর্তন করেন দিল্লির বিচারপতি সাতিশ কুমার আরোরা। ওই চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায়।  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, গণধর্ষণের অন্যতম আসামি মুকেশ সিংয়ের দায়ের করা প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন করে এই ফাঁসির পরোয়ানা জারি করে দিল্লির আদালত। বিনয় শর্মা, মুকেশ সিং, অক্ষয় কুমার সিং ও পবন গুপ্তকে ২২ জানুয়ারি সকাল ৭টায় দিল্লির তিহার জেলে ফাঁসিতে ঝোলানোর কথা ছিল। কিন্তু আসামি মুকেশ নতুন করে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করায় ওই তারিখ পিছিয়ে যায়।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার সময় চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন প্যারামেডিকেলের ছাত্রী নির্ভয়া। মুকেশ, বিনয়, পবন, অক্ষয় ও বাসচালক রামসিংহসহ মোট ছয় যুবক বাসের ভেতর নির্ভয়ার বন্ধুকে মারধর করে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। গণধর্ষণের পর নির্ভয়া ও তার বন্ধুকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয় তারা।

ঘটনার দুই সপ্তাহ পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নির্ভয়া। পুরো ভারতজুড়ে এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ছাত্র-জনতা। ভুক্তভোগীর নাম অন্য হলেও ভারতীয় গণমাধ্যম তাকে ‘নির্ভয়া’ বিশেষণ দেয়।

মামলায় অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে একজন ওই সময় ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাই কিশোর অপরাধীদের জন্য প্রযোজ্য আইনে ২০১৫ সালে  তিন বছরের জন্য তাকে সংশোধনাগারে পাঠান আদালত। আইন অনুযায়ী সেটাই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ সাজা। প্রধান আসামি বাসচালক রাম সিং কারাগারে মারা গেলে তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

২০১৫ সালে শাস্তির মেয়াদ কাটিয়ে ওই ‘কিশোর’ অপরাধী মুক্তি পেলে ফের ক্ষোভে ফেটে পরে ভারত। তারপর দেশটির সরকার ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদেরও ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ বিবেচনা করে বিচারের আইন প্রয়োগ বাস্তবায়ন করে। ২০১৩ সালে ভারতের একটি দ্রুত বিচার আদালত ৪ আসামির ফাঁসির রায় দেয়। ২০১৪ সালে ভারতের হাইকোর্ট ও ২০১৮ সালে আপিল বিভাগ একই দণ্ড বহাল রাখে।

২০১৮ সালের ‍জুলাইয়ে মুকেশ, পবন ও বিনয়ের রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আরেক আসামি অক্ষয় গত ১০ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে তার ওপর শুনানি শুরু হয়। পরে অক্ষয় ঠাকুরের করা রিভিউ আবেদন ১৮ ডিসেম্বর খারিজ হয়ে যায়। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার পথই খোলা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

advertisement