advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইরানের 'নিরাপত্তা রক্ষার্থে' ইউক্রেনের বিমানে হামলা : রুহানি

অনলাইন ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০২০ ১৯:৫৪ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২০ ২১:৩৯
ছবি : এএফপি
advertisement

ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ইরানের 'নিরাপত্তা রক্ষার্থে' ভুল করে ওই বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আট বছর পর জুমার নামের ইমামতি করেন খামেনি। ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর জুমার নামাজে ইমামতি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। খুতবায় ইরানের 'জাতীয় ঐক্য' গঠনের আহ্বান জানান খামেনি।

খামেনি বলেন, ‘কাসেম সোলেইমানি হত্যার ঘটনায় আমরা যতটা দুঃখিত হয়েছি, বিমান ধ্বংসের ঘটনায় আমাদের শত্রুরা ততটাই খুশি হয়েছে। তারা আমাদের বিপ্লবী গার্ড ও সশস্ত্রবাহিনীকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটা সুযোগ পেয়ে গেছে।’

খুতবায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা জানান, ইরানের নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে ভুলক্রমে ইউক্রেনের বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। মার্কিন ড্রোন হামলায় জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই ইরানের 'শত্রু' যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা বিমান হামলা নিয়ে কথা বলছে।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান হামলার ঘটনায় ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে 'অসৎ' বলে সমালোচনা করেছেন খামেনি। তিনি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের 'মুখে চড়' বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ইরানের অভিজাত কুদস ফোর্সকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন বলা হলেও সেটিকে 'মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানবিক সংস্থা' হিসেবে বর্ণনা করেন খামেনি।  

এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। এরপর গত সপ্তাহে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী। ওই যাত্রীবাহী বিমান হামলায় ১৭৬ জন আরোহী নিহত হয়। এ ঘটনায় ইরান জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত কয়েকদিন ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলন হচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ  জুমার নামাজে ইমামতি করান খামেনি।

গত আট বছরে এই প্রথমবারের মতো জুমার নামাজে নেতৃত্ব দেন খামেনি। এর আগে ২০১২ সালে ইসলামী বিপ্লবের ৩৩তম বার্ষিকীতে তেহরানের মোসাল্লা মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করেছিলেন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ এ ধর্মীয় নেতা। তখন আরব বসন্তের প্রভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তাল ছিল।  

 

advertisement