advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ছুটির দিনে জমজমাট প্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০৮:৪৬
বা থেকে শেখ ফজলে নূর তাপস, আতিকুল ইসলাম, তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

এক সপ্তাহের মাথায় জমে উঠেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার। প্রতীক বরাদ্দের পর গতকাল শুক্রবারই ছিল কার্যত প্রথম ছুটির দিন। ফলে দিনটি হাতছাড়া করেননি কোনো প্রার্থীই। দিনব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন দুই সিটির মেয়র ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন প্রার্থীসহ তাদের নেতাকর্মী-সমর্থকরা। জুমার নামাজ শেষে প্রচারে ভিন্নতা পায়। মসজিদের সামনেই শুরু হয় লিফলেট বিতরণ। মুসল্লিদের সঙ্গে প্রার্থীদের কুশল বিনিময় ও ভোট প্রার্থনা চলছিল একই সঙ্গে। সব মিলিয়ে গতকাল জমজমাট হয়ে উঠেছিল ঢাকা মহানগরী।
বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীরা গতকাল তুমুল ব্যস্ত একটি দিন কাটিয়েছেন। ঢাকা উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম ‘জবাবদিহিতা মূলক
ঢাকা’ এবং ঢাকা দক্ষিণের ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ‘ঐতিহ্যের ঢাকা’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে প্রচার চালান। ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল ভোটাধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ঢাকাবাসীকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। যত বাধাই আসুক ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করেন দলটির ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী ইশরাক হোসেন।
এর আগের শুক্রবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করে নির্বাচন কমিশন। ওই দিন বিকালেই কোনো কোনো প্রার্থী মাঠে নামেন। তবে মূলত পরদিন শনিবার থেকেই প্রচার শুরু হয়। প্রতীক বরাদ্দের পর গতকাল ছিল আরেক শুক্রবার। এদিন জুমার নামাজের আগে-পরে জমে ওঠে গণসংযোগ।
ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে প্রচার মিছিল, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়েছেন। ছুটির দিন মাথায় রেখেই পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয় পুরো নগরী। প্রচারে নামেন দুই দলের সিনিয়র নেতারাও।
জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে
আতিকুল ইসলাম গতকাল বাউনিয়াবাদ এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় তিনি পূজার তিথিতে নির্বাচনের তারিখ থাকায় বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে আবারও ভেবে দেখার অনুরোধ জানান। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্বাচিত হলে মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার। তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিমাসে কাউন্সিলরসহ সবাইকে নিয়ে টাউন হলে মিটিং করব। এলাকার যত সমস্যা, যা সমাধান হয়নি, এলাকার উন্নয়নে আর কী কী করার বাকি আছেÑ সব কিছু নিয়ে আলোচনা হবে টাউন হল মিটিংয়ে। এর মাধ্যমে জনগণের কাছে আমাদের সবার জবাবদিহিতা থাকবে।
গতকাল তিনি জুমার নামাজের আগে-পরে মানিকদি, মাটিকাটা, লালসরাই, ভাসানটেক, বাইগারটেক, আলব্দীটেক, বারনকোট, দামালকোট ও বিআরবি কলোনি এলাকায় গণসংযোগ করেন। এদিন তার পক্ষে কড়াইল বস্তি এলাকায় প্রচারে নামেন তার স্ত্রী ডা. শায়লা শাগুফতা ইসলাম।
ভোটাধিকার আদায়ের লড়াই
জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমেছেন উল্লেখ করে তাবিথ আউয়াল বলেন, যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। এভাবেই ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সবাইকে মাঠে থাকতে হবে। অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে সবাইকে শরিক হতে হবে। তিনি বলেন, ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, স্যুয়ারেজসহ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত নগরবাসী। নির্বাচিত হলে আমরা সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। গতকাল সকালে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গণসংযোগ শুরু করে তিনি এ আহ্বান জানান। এদিন তিনি শ্যামলী শাহী মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে খিলজি রোড হয়ে বাবর রোড এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এদিন উত্তরার মাসকট প্লাজা, ডুমনি, খিলক্ষেত ও পল্লবীসহ কয়েকটি এলাকায় তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচার চালান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ^রচন্দ্র রায়। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, উত্তর বিএনপির নেতা বজলুল বাসিত আঞ্জু, আহসান উল্লাহ হাসান, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আক্তার হোসেন প্রমুখ।
মৌলিক ৫টি উন্নয়নের রূপরেখা তাপসের
ঢাকা দক্ষিণের উন্নয়নে মৌলিক পাঁচটি রূপরেখা দিয়েছেন জানিয়ে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমিই একমাত্র মেয়র পদপ্রার্থী ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে নিয়ে চিন্তা করে সুনির্দিষ্ট উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছি। আমাদের রূপরেখা হলো- ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা। এই ৫টির সমন্বয়ে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা হবে। ঢাকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে আমরা পুনরুজ্জীবিত করব। গতকাল সকালে ফুলবাড়িয়ায় কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের সামনে গণসংযোগে তিনি এসব কথা বলেন।
তাপস বলেন, আমরা অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে গণসংযোগ করছি। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অবকাশ নেই। নেতাকর্মী ও জনগণের মধ্যে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ আছে। বিএনপি অভিযোগ নিয়ে ব্যস্ত, আমরা ব্যস্ত আছি গণসংযোগ নিয়ে।
এ সময় তিনি ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মীর সমীর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী রুনা হুমায়ুন পারভীনকে পরিচয় করিয়ে দেন। দুপুরে আরমানিটোলার তারা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তিনি। পরে চকবাজার, বংশাল ও কোতোয়ালি এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন।
বাধা উপেক্ষা করে কেন্দ্রে আসুন
সব বাধা উপেক্ষা করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ইশরাক হোসেন। গতকাল সকালে কদমতলীতে গণসংযোগকালে এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কারও কাছে মাথা নত করবেন না। সব বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে। বিভিন্ন স্থানে প্রচারে বাধা ও গ্রেপ্তার-হয়রানির অভিযোগও করেন ইশরাক হোসেন।
এদিন তিনি কদমতলীর বর্ণমালা স্কুল থেকে গণসংযোগ শুরু করে জাপানি মার্কেট, কদমতলা, মুরাদপুর, পূর্ব জুরাইন, পোস্তগোলা আলম মার্কেট রোড, শ্যামপুর রোড, শ্যামপুর বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। শ্যামপুর লাল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে দনিয়া, আনন্দবাজার, কদমতলার সলিমুল্লাহ রোড, বরইতলা, জিয়া সরণি রোড, নামা শ্যামপুর, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। দুপুরে ইশরাকের পক্ষে প্রচার চালান তার প্রচার কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা।
সাতটি পথসভা করলেন জাপার মেয়র প্রার্থী মিলন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন গতকাল বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। সেখান থেকে মতিঝিল, গোপীবাগ, ধলপুর, টিকাটুলী, রাজধানী মার্কেট, ওয়ারী, জজকোর্ট প্রাঙ্গণ, শ্যামবাজার, সদরঘাট, মিটফোর্ড ও লালবাগে লাঙল মার্কায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও প্রচারে অংশ নেন। গণসংযোগে তিনি সাতটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
পথসভায় মিলন বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ যেমনভাবে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে ঢাকা মহানগরকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন, আমিও ঢাকাবাসীর সেবক হতে চাই। নির্বাচিত হতে পারলে ড্রেনেজ সমস্যা, যানজট নিরসন এবং পরিচ্ছন্ন ঢাকা উপহার দেব ইনশাল্লাহ।

advertisement