advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সংবাদ পর্যালোচনা
ইরান ঘর সামলাবে, না বাহির?

যুবা রহমান
১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০৯:৫০
ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় গতকাল তেহরানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি : এএফপি
advertisement

জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার বদলা নিয়ে যখন হিসাব-নিকাশ করার কথা ঠিক সেই সময় ইরানকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষুব্ধ দেশবাসীকে কী দিয়ে ‘বুঝ’ দেবেন, সে কথাই ভাবছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিষয়টি গত কয়েক দিন ইরানি নেতাদের বক্তব্য শুনলে আঁচ করা যায়। অন্যদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ দেশ ইরানের ওপর প্রবল চাপ প্রয়োগ করছে। গতকালই আফগানিস্তান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইডেন ও ইউক্রেনের পরাষ্ট্রমন্ত্রীরা লন্ডনে এক বৈঠক থেকে জানিয়েছে ইরানকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার বিষয় তো আছেই।

তেহরানে চলমান ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের সামাল দিতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ‘দায়ী বেশ কয়েক জনকে’ আটক করার খবর দেয় তেহরান। যদিও কতজন আটক করা হয়েছে, সেটি বলা হয়নি। এর পর যে ব্যক্তি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ভিডিও ধারণ করেছে, তাকেও গ্রেপ্তারের দাবি করল তেহরান। যদিও পরবর্তীতে সে দাবি যুক্তরাজ্যের এক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন, ইরান যাকে গ্রেপ্তার করেছে, তিনি ‘প্রকৃত ভিডিওকারী’ নন। সব শেষে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জানালেন, দেশে সেনা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে হবে। এ জন্য একটি বিশেষ আদালত স্থাপন করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন। আপাতত এই পন্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইল রুহানি সরকার। যদিও ইতোমধ্যে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। বেশ কয়েকজন তারকা নাগরিক ইরান ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্যে খামেনির অপসারণ চাইছে, যা ইরানের মতো দেশে অনেক বড় ঘটনা। তাদের কথা একটিইÑ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সরকার প্রথমে কেন ‘মিথ্যাচার’ করেছে।

সব কিছুর পর ইরানের এক নম্বরের ‘শত্রু’ হলো যুক্তরাষ্ট্র। আর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মূল দ্বন্দ্ব হলো মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। সেখানে তেল সম্পদ কে নিয়ন্ত্রণ করবেÑ সেটিই মূল ইস্যু। আর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিস্তারের কৌশল নির্ধারণ করতেন জেনারেল কাসেম সোলেইমানি। তেহরান কোথায় কতটা জড়াবে, কোথায় হস্তক্ষেপ করবে, কোথায় চোরাগোপ্তা হামলা করতে হবেÑ এসব নকশা করতেন সোলেইমানি। আর যুক্তরাষ্ট্রও ঠিক এই কারণে সোলেইমানিকে হত্যা করেছে। শুধু হত্যই করেনি, ‘স্বীকারও’ করেছে। বলেছে তাদের আত্মরক্ষার স্বার্থে এবং অনেক মার্কিনিকে হত্যার কারণে সোলেইমানির ওপর হামলা করা হয়েছে। কিন্তু আসল কথা হলোÑ সোলেইমানি থাকলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কায়দা করতে পারছিল না। কেননা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পথের কাঁটা একমাত্র ওই ইরানই। আর ইরানের বিশেষ শক্তি ছিল চৌকস জেনারেল সোলেইমানি। এখন তাকে হারিয়ে ইরান অনেকটা কাবু হয়েছে। এর মধ্যে সোলেইমানি হত্যার বদলা নিতে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় যারপরনাই বিপাকে পড়েছে তেহরান। যদিও এ চাপ কাটিয়ে উঠতে ইউরোনিয়াম মজুদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন রুহানি। তার কথায়, ইরান চাপে আছে এটা ঠিক, কিন্তু আমাদের এগিয়ে যেতেই হবে। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, পারমাণবিক চুক্তির আগে যে পরিমাণ ইউরোনিয়ম তারা মজুদ করতেন এখন সেটি বাড়বে। অর্থাৎ জনগণের আস্থা পেতে সরকার ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে হাঁটছে।

জেনারেল সোলেইমানি হত্যার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দুজনই একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। রুহানি বলেছিলেন, সোলেইমানির শরীরকে পাঁচ টুকরা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর আমরা এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পা কেটে ফেলব। একই কথা বলেছেন খামেনিও। তিনি বলেছেন, এই অঞ্চল থেকে বিদেশি শক্তিকে বিতাড়িত করা হবে। আসলে সামনের দিকে ইরান-মার্কিন তোড়জোড় শুরু হবে এটা নিয়ে। যদিও এ লড়াই নতুন নয়; তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে লড়াই আরও তীব্র হবে। সেটি হয়তো যুদ্ধে রূপ নেবে না, কিন্তু যুদ্ধের মতো একটা পরিস্থিতি জিইয়ে থাকবে। সোলেইমানি ইস্যুতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সংবাদমাধ্যমগুলো বলতে শুরু করল এই বুঝি যুদ্ধ লেগেই গেল। এমনকি দু-একটি সংবাদমাধ্যম ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের’ শঙ্কাও করেছিল। কিন্তু দেখা গেলÑ ট্রাম্প সোলেইমানিকে হত্যা করে সাফাই গেয়ে বললেন, তিনি ‘যুদ্ধ থামাতেই’ এটি করেছেন। অন্যদিকে ইরান ইরাকি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করে ঘোষণা দেয়, তারা যুদ্ধ চায় না। ওই হামলায় ইরান দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ সেনা নিহত হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র বলে তাদের কেউ হতাহত হয়নি। যদিও ইরান তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। আর এই সময়টিতে ইরানকে আসলে ‘ঘর সামলাতেই’ বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে; ঘর ঠিক হলে বাইরেরটা পরে দেখা যাবে!

advertisement