advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ছেলে না হওয়ায় শিশুকন্যা হত্যা!

বরগুনা প্রতিনিধি
১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০১:২৪
প্রতীকী ছবি
advertisement

পরপর দুটি মেয়ের বাবা হন গোজখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদার। তৃতীয়বার আশায় ছিলেনÑ ছেলে হবে। কিন্তু এবারও মেয়ে হওয়ায় স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একটি জামাও কিনে দেননি ছোট্ট মেয়েটিকে। এছাড়াও নানা আচরণের মধ্য দিয়ে প্রায়ই রাগ প্রকাশ করতেন। বিষয়টি টের পান প্রতিবেশীরাও। দিন দিন বাড়তে থাকে তার ক্ষোভ ও হতাশা। অবশেষে ৪০ দিন বয়সী জিদনী নামের ওই শিশুকন্যাকে পানিতে ফেলে হত্যা করেন ‘পাষ- বাবা’! প্রতিবেশী ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা- ছেলে না হওয়ার ক্ষোভে জাহাঙ্গীরই মেয়েকে হত্যা করেছেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের

জন্য বরগুনার হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শিশুর মা সীমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওসি আরও বলেন, শিশুটির মা জানিয়েছেন- ঘটনার সময় জাহাঙ্গীর সিকদার ঘরে একাই ছিলেন। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তিনি এখনো হত্যার কথা স্বীকার করেননি। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাবাই মেয়েকে হত্যা করেছেন।

শিশুটির মা সীমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার গর্ভে তৃতীয় মেয়ে জন্ম হওয়ায় স্বামী খুশি হতে পারেননি। আমার ৪০ দিন বয়সী মেয়ে জিদনীকে এভাবে মেরে ফেলল।’ কে মেরে ফেলছে? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তো দেখিনি’।

পানিতে ফেলে শিশু হত্যার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর) মহরম আলী, সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী- তালতলী সার্কেল) সৈয়দ রবিউল ইসলাম ও আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোজখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর সিকদার ও সীমা দম্পতির সোহাগী (৯) ও জান্নাতী (৩) নামে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এরপর গত ৮ ডিসেম্বর ওই দম্পতির জিদনী নামে আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর সিকদার জিদনীকে নিয়ে ঘরের মধ্যে শুয়ে ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী সীমা বেগম ও শাশুড়ি পারুল বেগম বসতঘরের বাইরে বসে চাল ঝাড়ছিলেন। কাজ শেষে রাত ১১টায় শিশুটির মা সীমা বেগম ও নানি পারুল ঘরে গিয়ে জিদনীকে দেখতে না পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীসহ বাড়ির অন্য লোকজন ছুটে আসেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘরের পেছনের ডোবায় পানিতে জিদনীর কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রসহ মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে আমতলী থানাপুলিশ রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।

পরিবার ও এলাকাবাসীর ধারণা পরপর দুটি কন্যা সন্তান থাকার পরও আরেকটি মেয়ে হওয়ায় রাগে-ক্ষোভে পাষ- বাবা শিশুটিকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ময়না বেগম জানান, আবারো কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ায় স্ত্রী সীমা বেগমের সঙ্গে রাগ করে কথা বলতেন না জাহাঙ্গীর সিকদার। জন্মের পর জিদনীকে নতুন কোনো কাপড়ও কিনে দেননি তিনি।

 

 

advertisement