advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশে তরুণরাই বেশি প্লাস্টিক দূষণকারী

১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০২:১০
আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০২:১০
advertisement

তরুণ ও যুবকরা পরিবেশবাদী আন্দোলনে সক্রিয় থাকলেও দেশে ক্ষতিকর প্লাস্টিক দূষণের জন্য তারাই সবচেয়ে বেশি দায়ী। বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশনের (ইএসডিও) এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছেÑ তরুণ ও যুব জনগোষ্ঠী একবার ব্যবহার করা হয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক পণ্য বেশি ব্যবহার করে। অপচনশীল হওয়ায় ব্যবহারের পর যেসব প্লাস্টিক পণ্য ফেলে দেওয়া হয়, তার অধিকাংশই যুগের পর যুগ একইভাবে পরিবেশে টিকে থাকে। এর পরও জীবনযাত্রায় প্লাস্টিক পণ্য এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাদের এক গবেষণায় বলেছেÑ মুদি দোকান থেকে কেনা পণ্য বহনের জন্য যেসব ব্যাগ ব্যবহার হয়, সেগুলো প্রকৃতিতে মিশে যেতে ২০ বছর লাগে। চা, কফি, জুস কিংবা কোমল পানীয়র জন্য যেসব প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহার হয়, সেগুলো টিকে থাকে ৫০ বছর পর্যন্ত। আর ডায়াপার এবং প্লাস্টিক বোতল ৪৫০ বছরেও পচে না।

ইএসডিওর গবেষণায় দেখা যায়, যেসব খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিকের প্যাকেট রয়েছে, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে তরুণ ও যুবকেরা। আর দেশে যত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়, তার ৩৫ শতাংশ ব্যবহার করে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী। ৩৩ শতাংশ ব্যবহার করে ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা। অর্থাৎ তরুণ ও যুবকরাই সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী, মোট ৬৮ শতাংশ। অথচ পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই। তবে ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারীই বলেছে, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের বিকল্প দেওয়া হলে তাদের আপত্তি নেই।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার হোসেন জানান, ২০১৮ সালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগীয় শহরে ১ হাজার ২০০ মানুষের ওপর তারা জরিপটি চালান। এ ছাড়া ২০১৯ সালে জরিপ চালানো হয় ৮০০ জনের ওপর। এর মধ্যে ছিলেনÑ প্লাস্টিক উৎপাদক, খুচরা বিক্রেতা ও ব্যবহারকারী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন প্রতিবছর যে পরিমাণ বর্জ্য হয়, তার ৮৭ হাজার টনই সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক। এগুলো রি-সাইকেল করা যায় না। ফলে এসবের জায়গা হচ্ছে নদী-নালা ও খাল-বিলে।’
শাহরিয়ার আলম বলেনÑ ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আবর্জনার মধ্যে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের পরিমাণ ছিল মাত্র তিন শতাংশ। অথচ ২০১৯ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ শতাংশে। আর জরিপে দেখা গেছেÑ রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল, এয়ারলাইন্স ও সুপারশপ থেকে এসব প্লাস্টিক সবচেয়ে বেশি আসছে। এর মধ্যে বেশি আসে রেস্টুরেন্ট থেকে। এর পরেই এয়ারলাইন্স ও আবাসিক হোটেলের অবস্থান। আবাসিক হোটেল থেকে যেসব প্লাস্টিক বর্জ্য আসে, সেগুলো হচ্ছেÑ শ্যাম্পুর বোতল ও মিনিপ্যাক, কন্ডিশনার প্যাকেট, টুথপেস্ট টিউব, প্লাস্টিক টুথব্রাশ, টি-ব্যাগ ও বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট। এয়ারলাইন্স থেকে আসে প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, প্লেট, কাপ, গ্লাসসহ নানা ধরনের মোড়ক।
শাহরিয়ার হোসেন মনে করেন, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক থেকে সরে আসার লক্ষ্যে এখনই কাজ শুরু করতে হবে। যেসব পণ্যের জন্য প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারেই আবশ্যক নয়, সেগুলো এখনই বন্ধ করা যেতে পারে। আর যেসব পণ্যের জন্য কিছু সময় প্রয়োজন, সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা যেতে পারে ধাপে ধাপে। সারাবিশ্বেই এসব পণ্য ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে। একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশেও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

advertisement
Evaly
advertisement