advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ১ ফেব্রুয়ারি
অবশেষে পিছু হটল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ ০৯:০৪
advertisement

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজার তিথিতে ভোটগ্রহণ না করার জোরালো দাবির মুখে অবশেষে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণসংযোগ শুরুর এক সপ্তাহ পর গতকাল শনিবার ঢাকার দুই সিটির ভোটগ্রহণের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করে ইসি। এ কারণে পেছানো হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার সূচিও। দুদিন পিছিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হবে ৩ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচন পেছানোকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দুই সিটির বড় দলগুলোর মেয়র পদপ্রার্থীরা। ইসির নতুন সিদ্ধান্তের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

গতকাল রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভায় এ নতুন তারিখ ঠিক হয়। পরে সিইসি জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৩ ফেব্রুয়ারি। আর সিটি নির্বাচন হবে ১ ফেব্রুয়ারি।

ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। ওইদিন তিনি জানান, চেম্বার বিচারপতির আদালতে রবিবার (আজ) এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। এর আগেই ইসি ভোটের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করল।

আইনজীবী অশোক কুমার নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের নির্দেশনা চেয়ে ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত তা খারিজ করে দিলে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২৯ জানুয়ারি সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে পরদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত সরস্বতী পূজার তিথি রয়েছে। ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদসহ সামাজিক সংগঠনগুলো ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনে নামে।

এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন দুই সিটির মেয়র পদপ্রার্থীরাও। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও পূজার দিনে ভোটের সমালোচনা করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও জানায়, ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা হলে তাদের সমস্যা নেই। অবশ্য শুরু থেকেই নির্বাচনের দিন পরিবর্তন না করার বিষয়ে অনড় ছিল ইসি। এখন তারিখ পেছানোয় নির্বাচনী গণসংযোগের জন্য দুদিন বেশি সময় পাবেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

প্রায় দুই সপ্তাহজুড়ে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন, ইসি ও আদালতে একের পর এক আবেদন এবং বিভিন্ন মহলের তীব্র সমালোচনায় পড়ে ইসি। আন্দোলনে ব্যাপক সমর্থনের প্রেক্ষাপটে গতকাল বিকাল সোয়া ৪টায় জরুরি বৈঠক করে কমিশন। এতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের দুই রিটার্নিং কর্মকর্তাও ছিলেন।

বৈঠকের পর সিইসি নির্বাচনের পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই জটিল ছিল বলেই সময় লেগেছে। ৩০ জানুয়ারি পূজার দিনে ভোটের তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি আবারও বলেন, সরকারি ক্যালেন্ডার দেখে তারা ভোটের দিন ঠিক করেছিলেন। ক্যালেন্ডারে পূজা ২৯ জানুয়ারি দেখানো হয়েছিল।

গতকাল সিইসি কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে চার নির্বাচন কমিশনার বৈঠকে বসেন। সূত্র জানায়, তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের আগে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন কমিশনের সদস্যরা। এক কমিশনার আদালতের সিদ্ধান্তের আগে ভোটের তারিখ নির্ধারণের বিপক্ষে ছিলেন।

এর আগে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ এগোনো বা পেছানো সম্ভব কিনা- তা কমিশনসভায় বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভোটের তারিখ পরিবর্তন বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটের তারিখ এগোনো বা পেছানোর সুযোগ আছে কিনা সেটা এক জিনিস; আর সম্ভব কিনা সেটা আরেক জিনিস। পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে অবশ্য ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর একাধিকবার নির্বাচনের দিন পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে কমিশনের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। এমনকি তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

স্বাগত জানালেন মেয়র পদপ্রার্থীরা

ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভোটের তারিখ পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গতকাল রাতে আমাদের সময়কে তিনি বলেন, আমি আগেই তারিখ পরিবর্তনের আহŸান জানিয়েছিলাম। এটিই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিত্র।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে ঢাকা উত্তরে দলটির মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, ইসিকে ধন্যবাদ জানাই। আগে থেকে সতর্ক থাকলে এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন- আপনারা গণতান্ত্রিক একটি আন্দোলনে জয়ী হয়েছেন। আপনারা কেন্দ্রে আসুন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।

ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, পূজার দিনে নির্বাচনের বিষয়টি আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইবোনদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভোটের দিনটি পরিবর্তন করা একটি ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ দিনটি হিন্দু সম্প্রদায়ের আবেগ ও আকাক্সক্ষার জায়গা ছিল। তাদের আবেগের কথা আগেই নির্বাচন কমিশনের হিসাব করা উচিত ছিল।

দক্ষিণে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, আমি এ সিদ্ধান্তে খুশি। তফসিল ঘোষণার সময় এটি বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল।

ঢাকা দক্ষিণে জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ভোটের তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়েছে; যা তাদের প্রাপ্য ছিল। বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে পূজার দিনে নির্বাচন হতে পারে না, হয়নি- এ সিদ্ধান্তে তাই প্রমাণ হলো।

ভোটের তারিখ পরিবর্তন করায় সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা উত্তরে সিপিবির মেয়র পদপ্রার্থী ডা. সাজেদুল হক রুবেল বলেন, দেরিতে হলেও কমিশনের বোধোদয় হয়েছে। তিনি এবার ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে ইসির প্রতি আহ্বান জানান।

অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের ঘোষণায় অনশন ভেঙেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা আনন্দ মিছিলও করেন। তাদের পানি ও জুস পান করিয়ে অনশন ভাঙান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

পরে উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, যখন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো দাবির প্রতিফলন ঘটে, তখন আমাদের ভালো লাগে। নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ মূল্যবোধকে আমি শ্রদ্ধা করি। যখন সমাজের অনেক অংশ কথা বলতে পারে না, তখন অন্ততপক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহৎ মূল্যবোধ প্রতিফলনের জন্য বক্তব্য রাখে।

advertisement