advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উপনির্বাচন নিয়ে সুফিয়ানের অভিযোগ
৫ শতাংশ ভোট দেখানো হয়েছে ২২ শতাংশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৯ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ ১১:৩৬
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে উপনির্বাচনে পরাজিত বিএনপিপ্রার্থী আবু সুফিয়ান
advertisement

চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে উপনির্বাচনে পরাজিত বিএনপিপ্রার্থী আবু সুফিয়ান অভিযোগ করেন, নির্বাচনে মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পড়লেও সেটিকে ২২ শতাংশ বলে দেখানো হয়েছে। ভোটের দিন ১৭০ কেন্দ্রের সব আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এই সময়ে সুষ্ঠু ভোটের পক্ষে সাফাই গেয়ে ভোট ডাকাতির সহযোগী হয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের পাশাপাশি অভিলম্বে ঘোষিত ফল বাতিল করে ওই আসনে নতুন নির্বাচনেরও দাবি জানান তিনি। আবু সুফিয়ান বলেন, এক বছর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতের আঁধারে ভোট নিয়ে নেওয়া সত্ত্বেও এ আসনে তিনি ৬০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।

এবার ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার। এর আগে গত বছর চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনও ১৭ হাজার ভোট পেয়েছেন বলে দেখানো হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন করেন- ইভিএম পদ্ধতিতে সম্ভবত বিএনপির প্রার্থীদের জন্য ১৭ হাজার ভোটই ঠিক করে রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকাল সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠক ডেকেছেন। ওই বৈঠক শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আবু সুফিয়ান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, নগরীর ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের হামজারবাগের রহমানিয়া স্কুলে ১৪৮ নম্বর কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১২টায় দুই নম্বর কক্ষে কয়েকজন বহিরাগত নির্বাচন কমিশনের আইটি বিশেষজ্ঞ এবং প্রিসাইডিং অফিসার ছোটন চৌধুরীকে নিয়ে প্রবেশ করেন। আইটি বিশেষজ্ঞের মোবাইল থেকে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করে ডিভাইস নাম্বার দিয়ে কোড/পাসওয়ার্ড চাইলে #৮৫৮৪৭৭৬৭# নাম্বারটি দেওয়া হয়। তাদের বলা হয়, ১০ শতাংশ ম্যাচিং কোড দিয়ে তাড়াতাড়ি ভোট নিয়ে নেন। তখন অবৈধভাবে যেসব ভোট নেওয়া হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪২২, ৫০২, ৪৯৯ ও ৫৮০। এদের একজন মৃত ব্যক্তি, অন্যরা প্রবাসী।

তিনি বলেন, বোয়ালখালীর পোপাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষে ভোট দেখানো হয়েছে মাত্র একটি। অথচ ওই কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টই ছিলেন চারজন। একই উপজেলায় খিতাবচর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট পড়ে ৫৫৬টি। এবার দেখানো হয়েছে মাত্র ৫ ভোট। বেংগুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত নির্বাচনে ধানের শীষের ভোট ছিল ৫৫৩টি। এবার দেখানো হয়েছে মাত্র ৮ ভোট।

কধুরখীল ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে গত নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ৬৫৩ ভোট পড়লেও এবার মাত্র ১৪ ভোট দেখানো হয়েছে। এভাবে ১৫টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৯১টি। অথচ এসব কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টই ছিলেন ৭৬ জন।

আবু সুফিয়ান বলেন, উপনির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের অনিয়মের এই চিত্র থেকে দেখা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনে কোনো সুষ্ঠু ভোট হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ভোট কারচুপি ও ভোট ডাকাতির জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন একাকার হয়ে গিয়েছিল। নির্বাচনের আগে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম, তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ দেখানো হলো ১৪ শতাংশ। পরবর্তী দুই ঘণ্টায় দেখানো হয়েছে ৮ শতাংশ। অথচ তখন কেন্দ্রে লোকজনই ছিল না। স্বয়ং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন- আজান দিয়েও মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নেওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক এসএম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান প্রমুখ।

advertisement