advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘অল্পের জন্য বেঁচে যান নেত্রী’

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২১ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২০ ০০:৫৮
advertisement

চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি মাঠের সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় পুলিশ। ৩২ বছর আগে পরিকল্পিত এ হামলায় ২৪ নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছিলেন।

আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। সেদিনের মিছিলে থাকা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম সেই নৃশংস ঘটনার সাক্ষী। দীর্ঘদিন পর ওই ঘটনার বিচারে খুশি হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া সালামের চোখের সামনে সেদিনের রক্তাক্ত নেতাকর্মীর চেহারা এখনো ভাসছে।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরীর লালদীঘি মাঠে সমাবেশে যাওয়ার পথে পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৫ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন এমএ সালামসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

পূর্ব পরিকল্পিত হামলায় ২৪ জনের সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশের গুলিতে নিহত হলে বিশ্ব একজন নেতাকে হারাত বলে মন্তব্য করে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সালাম বলেন, আমাদের মিছিলের আগের সারিতে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ অন্য নেতারা। তাদের পেছনে মিছিলে ছিলেন নেত্রীকে বহনকারী ট্রাক। নেত্রীর ট্রাক যখন পুরনো বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আসে তখনই গুলি করা শুরু হয়। আমার চোখের সামনে মোশাররফ ভাই, গণতন্ত্রী পার্টির নেতা কামাল আজিজুল হকসহ গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। নেত্রীকে বহনকারী ট্রাক লালদীঘির মাঠের দিকে যেতে না পেরে দ্রুত কোর্ট বিল্ডিংয়ে দিকে চলে যায়। সেখানেও গুলি করা হচ্ছিল। মানুষ দিগি¦দিক ছুটছিল। চোখের সামনে অনেকের মৃত্যু দেখেছি। ভাগ্যক্রমে আমি সেদিন বেঁচে যাই।

এমএ সালাম বলেন, আহত অনেক নেতাকে আমি ও আমার কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত সরিয়ে নিয়েছিলেন। বিশেষ করে মোশাররফ ভাইকে সেদিন বাঁচাতে পেরেছিলাম। মোশাররফ ভাইয়ের পায়ে গুলি লেগেছিল। তিনি হাঁটতে না পেরে মাটিতে পড়ে রইলেন। আমরা কয়েকজন তাকে কাঁধে করে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। নিহত ২৪ জনের অধিকাংশই আমার পরিচিত।

৩২ বছর ধরে বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা নিহত হয়েছে তাদের পরিবার আজকে খুশি। আমাদের অনেক নেতাকর্মী এখনো সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছে।

আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা লালদীঘির ময়দানে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেদিন অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারপরও অমরা সমাবেশ করতে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। নেত্রীকে নিয়ে সমাবেশস্থলে অগ্রসর হলে অমাদের গাড়িবহরে হামলা হয়। অল্পের জন্য নেত্রী রক্ষা পান। এ সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। আমার পায়ে গুলি লাগে। আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেছি। এ মামলার রায় হয়েছে। রায়ে আমি সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ফরিদুল আলম খান আমাদের সময়কে বলেন, নগরীর কোতোয়ালি এলাকা থেকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে লালদীঘির দিকে যাচ্ছিলাম। পুরনো বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আসতেই বিডিআর জোয়ান ও কিছু মুখোশধারি লোক নেত্রীর দিকে গুলি করে। আমি এক বিডিআরের তাক করা বন্দুক নিজের হাতে সরানোর চেষ্টা করলে আমাকে সেখান থেকে মারতে মারতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। ততক্ষণ নেত্রীকে বহনকারী ট্রাক কোর্ট বিল্ডিংয়ের দিকে চলে যায়।

advertisement