advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৩১ বছর পর রায় ঘোষণা হ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
পরিকল্পিত গণহত্যা ছিল

চট্টগ্রামের লালদীঘিতে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা হ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ২৪ জন

মো. মহিউদ্দিন ও তৈয়ব সুমন, চট্টগ্রাম
২১ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২০ ০০:৫৮
advertisement

চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের কাছে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে তিন দশক আগে গুলি করে ২৪ জনের হত্যার ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ আখ্যা দিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায়ে তৎকালীন ৫ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় প্রত্যেকের আরও দশ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো কোতোয়ালি থানার তৎকালীন প্যাট্রোল ইন্সপেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (মামলার বিচার

শুরুর পর থেকেই পলাতক), সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, মো. আব্দুলাহ এবং মমতাজ উদ্দিন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সবু প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, সন্দেহাতীতভাবে ‘গণহত্যা’ প্রমাণিত হওয়ায় ৮ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরীর লালদীঘি ময়দানে সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ২৪ জন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে দু’শতাধিক মানুষ। ঘটনাটি ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

নিহতরা হলেন হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবারট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডিকে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আবদুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বিকে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, মসর দত্ত, হাশেম মিয়া, মো. কাশেম, পলাশ দত্ত, আবদুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও মো. শাহাদাত।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে প্রয়াত আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন। এতে হত্যাকাণ্ডের সময় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় রকিবুল হুদাকে ‘হত্যার নির্দেশদাতা’ উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বহুল আলোচিত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। আদালতের নির্দেশে সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি সিএমপির তৎকালীন কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে মীর্জা রকিবুল হুদাসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন প্যাট্রোল ইন্সপেক্টর (পিআই) জেসি মণ্ডল, পুলিশ কনস্টেবল আবদুস সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দিন, মো. আব্দুল্লাহ এবং মমতাজ উদ্দিন। আসামিদের মধ্যে রকিবুল হুদা, বশির উদ্দিন ও আবদুস সালাম মারা গেছেন। জেসি মণ্ডল পলাতক আর বাকি চারজন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছিলেন।

আদালতে দুই দফায় আলোচিত এ মামলার চার্জ গঠন (দ্বিতীয় দফায় সংশোধিত আকারে) করা হয়। প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ৫ আগস্ট এবং দ্বিতীয় দফায় ২০০০ সালের ৯ মে ৮ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/১০৯/৩২৬/৩০৭/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর ১৯৯৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার মোট সাক্ষী ১৬৭ জন। গত ১৪ জানুয়ারি ৫৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য কার্যক্রম শেষ হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. অনুপম সেন, সাংবাদিক অঞ্জন কুমার সেন ও হেলাল উদ্দিন চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী মামলায় সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। গতকাল সোমবার আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু যুক্তি উপস্থাপনে অসম্মতি জানালে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে রায়ের সময় নির্ধারণ করেন।

advertisement