advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আকাশপথে দুর্ঘটনায় সোয়া কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২০ ০০:৫৮
advertisement

আকাশপথে দুর্ঘটনায় যাত্রী আহত কিংবা নিহত হলে এবং লাগেজ নষ্ট বা হারিয়ে গেলে বাড়ানো হচ্ছে ক্ষতিপূরণ। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সংক্রান্ত ‘আকাশপথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন) আইন ২০২০’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে আইনটি কার্যকরের পর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে ১ কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার

৩৩৪ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন, এখন যা ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৬শ টাকা।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০১৯; চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসের পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া দিবস উদযাপনের প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ফিরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আকাশপথে চলাচলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আঘাত, ব্যাগেজ ও কার্গো নষ্ট বা হারানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ছিল খুবই নগণ্য। সেটি পেতেও লাগত অনেক সময়। ফলে ২০১৭ সালে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা নামমাত্র ক্ষতিপূরণ পাবেন। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ১৯৯৯ সালে মন্ট্রিল কনভেনশন-১৯৯৯ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ তাতে ওই বছরই স্বাক্ষর করে। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে যাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার সম্পত্তির বৈধ প্রতিনিধিত্বকারীরা ক্ষতিপূরণের অর্থ পাবেন। সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজের পক্ষ বা বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে, তা না হলে আদালতের মাধ্যমে সেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ফ্লাইট বিলম্বের কারণে আগে ক্ষতিপূরণ ছিল ২০ ডলার (প্রায় ১৭শ টাকা)। সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৩৪ ডলার (৫ লাখের কাছাকাছি)। ব্যাগেজ নষ্ট বা হারানো গেলে ক্ষতিপূরণ মিলত ২০ ডলার। সেটা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৮১ ডলার (সোয়া লাখ টাকার মতো) করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্গো নষ্ট বা হারানো গেলে ২০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৪ ডলার (প্রায় ২ হাজার টাকা)।

বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি আইন : নির্ধারিত সময়ের পর জরিমানা দিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি নবায়নের সুযোগ ও শাখা খোলার বিধান রেখে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এ বিষয়ে সচিব জানান, বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। তবে সেখানে বেশ কয়েকটি বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকায় ট্রাভেল এজেন্সির সেবা প্রদান ও বিদ্যমান আইনের বিধানগুলো বাস্তবায়নে ক্ষেত্রবিশেষে নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যমান আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ নবায়নের আবেদন করতে না পারলে ওই এজেন্সির নবায়নের আর সুযোগ থাকে না। মালিকানা হস্তান্তরেরও বিধান নেই। আবার নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের অর্থদণ্ড করার ক্ষমতা না থাকায় সামান্য অপরাধের জন্য এজেন্সির নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করতে হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সির শাখা খোলারও বিধান নেই। তাই বিদ্যমান আইনটি যুগোপযোগী করাসহ এর কতিপয় ধারা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত আইনে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইন সংশোধন করে শাস্তির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর ১৮৯৮-এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে বলে বিধান রাখা হয়েছে।’

আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন ২০২০ : মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, গলগণ্ডসহ আয়োডিনের অভাবজনিত নানা রোগ বিবেচনায় লবণে আয়োডিন মিশানোসংক্রান্ত ‘আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন ১৯৮৯’ করা হয়েছিল। এ আইনে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হলেও ভোজ্য লবণে আয়োডিনযুক্তকরণ এবং মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য তৈরিতে সে লবণ ব্যবহার নিশ্চিতের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়নি। সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের আয়োডিনযুক্ত লবণ খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।

advertisement