advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিচার শেষ করতে পারাই সন্তুষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২০ ২৩:৪১
advertisement

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘কয়েক দশক পর হলেও চট্টগ্রামের লালদীঘি হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকায় সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার বিচার যে শেষ করা গেছে, সেটিই সন্তুষ্টি।’ গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিন দশক আগে লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার

জনসভার আগে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা মামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে প্রায় দুই দশক আগে পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় ১০ জঙ্গির ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) দুটি রায় হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ঘৃণিত অপরাধ হয়েছে ১৯৮৮ সালে। এ বিচার সমাপ্ত হলো ৩১ বছর পর। সিপিবির বোমা হামলা ২০০১ সালে হয়েছে। এর মানে ১৮ বছর পর আমরা এর বিচার শেষ করতে পেরেছি। সন্তুষ্টি প্রথমেই যে, অন্ততপক্ষে বিচারটি শেষ হয়েছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল আইনের শাসনই প্রতিষ্ঠা করেননি, তা সুদৃঢ় করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সেগুলোও নিয়েছেন। তারই একটি অংশ হলো দ্রুত এসব মামলার বিচার শেষ করা। এ দুটি মামলার বিচারের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে, অপরাধীরা কেউ-ই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তাদের যতই ক্ষমতা থাকুক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশে প্রত্যেকটা অপরাধের, প্রত্যেকটা অন্যায়ের আইনিভাবে বিচার হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে সে সংস্কৃতি এখন গত। সাময়িকভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হয়তো কেউ কিছুদিনের জন্য আইনের ঊর্ধ্বে আছেন বলে একটি ইলিউশন বা ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে থাকতে পারেন। কিন্তু অপরাধীদের শেষ পর্যন্ত আইনের আওতায় আসতেই হবে।’

বিচার শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে যখন মামলায় গতি আনার প্রক্রিয়া চলছিল, তা শেষ হওয়ার আগেই সরকার পরিবর্তন হয়। এ মামলাগুলো যাতে বিচারের মুখ না দেখে সেই ব্যবস্থা করেছিল বিএনপি সরকার। তার পর শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করলেন, তখন থেকে এটি আবার তদন্তে। আবার নতুন করে সাক্ষীসাবুদ দেওয়ার ব্যবস্থা ও তদন্ত করে এসব মামলা চালানোÑ সে জন্য একটু দেরি হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তাকে সাজা দিয়েছেন আদালত এবং তিনি সাজা ভোগ করছেন। তার জামিনের আবেদন সর্বোচ্চ আদালত নাকচ করে দিয়েছেন। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। সরকার এটি নিয়ে এখন ভাবছে না। তা ছাড়া এটি রাজনৈতিক মামলাও নয়। কারণ মামলাটি করা হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নয়।’

এর আগে পাবনা আইনজীবী সমিতিতে বইকেনা বাবদ ৩০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব গোলাম সারওয়ার ও যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন।

advertisement
Evaly
advertisement