advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অর্ধেক প্রতিষ্ঠানেরই জার্নাল নেই, গবেষণাতেও অনীহা

এম এইচ রবিন
২২ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২০ ১০:১৫
advertisement

নতুন নতুন আবিষ্কার, জ্ঞানের অনুসন্ধান ও বিতরণ এবং গবেষণা ইত্যাদি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য; শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক নানা গবেষণা নিয়ে প্রকাশ হয় বিভিন্ন জার্নালও। কিন্তু দেশের ৫০ শতাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর কোনো জার্নাল প্রকাশ করেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে ব্যয় করতে উৎসাহী হলেও গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের অনীহা রয়েছে। গবেষণাহীন এমন উচ্চশিক্ষায় ডিগ্রি অর্জন করাটাই যেন মূল উদ্দেশ্য, যা আমাদের কাক্সিক্ষত ফল দিচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নতুন উদ্ভাবনের জন্য গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশের প্রতিও মনোযোগী হতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ৪০ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, ২০ বিশ্ববিদ্যালয় কোনো জার্নাল প্রকাশ করেনি গত বছর; একটি জার্নাল প্রকাশ করেছিল সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর ২৩৫১টি জার্নাল প্রকাশ করেছে এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় করেছে ১৩২টি।

এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, এখন লেখাপড়ার উদ্দেশ্য কী, এর স্বচ্ছ ধারণা হয়তো অনেকেরই নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্রেফ ডিগ্রি অর্জনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অভিভাবকরাও এতেই খুশি। বাস্তবে জীবনে গবেষণাহীন উচ্চশিক্ষা আমাদের কাক্সিক্ষত ফল দিচ্ছে না। রেগুলেটরি অথরিটির উচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার প্রতি জোর দিতে উৎসাহ দেওয়া। একই সঙ্গে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল পদে আছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশ-বিদেশি জার্নালে প্রকাশের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরও উৎসাহ দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেগুলোয় কোনো গবেষণা নেই। কর্তৃপক্ষও এ খাতে ব্যয়ে আগ্রহী নয়। তারা ভবনের পর ভবন বানাচ্ছে, চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার কিনছে। কিন্তু জ্ঞান অনুসন্ধানে বা গবেষণা খাতে ব্যয় নেই।

গবেষণায় লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেছে অথচ জার্নাল প্রকাশ করেনি যেসব প্রতিষ্ঠান

গত এক বছরে গবেষণা খাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ব্যয় করেছে ৯০ লাখ টাকা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ৪০ লাখ টাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ৭৫ লাখ টাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৭৫ লাখ টাকা, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় দশ লাখ টাকা, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯৯ লাখ টাকা, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৩৫ লাখ টাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় দেড় কোটি টাকা, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৬৫ লাখ টাকা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৫০ লাখ টাকা, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৩০ লাখ টাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ লাখ টাকা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ৩৮ লাখ টাকা এবং রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় চার লাখ টাকা। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান এ সময়কালে কোনো জার্নালই প্রকাশ করেনি।

যেসব প্রতিষ্ঠানের গবেষণাই নেই

গত এক বছরে গবেষণা খাতে কোনো ব্যয় নেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাদের কোনো জার্নালও প্রকাশ হয়নি এ সময়কালে। এ ছাড়া গত এক বছরে কোনো জার্নাল ছিল না চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ব্যতিক্রম দুই প্রতিষ্ঠান

এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যতিক্রম ছিল বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ৪০ লাখ টাকা গবেষণায় ব্যয় করেছে। এ সময়কালে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত জার্নাল সংখ্যা ১৩২টি। আর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর গবেষণায় ব্যয় করে ৪৪ লাখ টাকা। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ২ হাজার ৩৫১টি জার্নাল প্রকাশ করে এক বছরে সর্বোচ্চ জার্নাল প্রকাশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

 

advertisement
Evaly
advertisement