advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সৌদিতে দূতাবাসের সহায়তায়
বকেয়া সাড়ে ৯ লাখ টাকা পেলেন ইয়াসমিন

কামাল পারভেজ অভি,সৌদি আরব
২২ জানুয়ারি ২০২০ ২০:৫৫ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২০ ২০:৫৫
সৌদিতে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি গৃহকর্মী ইয়াসমিন আক্তার
advertisement

সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় চাকরিদাতার কাছ থেকে বকেয়া বেতন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা পেয়েছেন নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি গৃহকর্মী ইয়াসমিন আক্তার।

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার বাসিন্দা ইয়াসমিন গত ৪ বছর আগে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি গিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তা আব্দুল হাদিস আল আমরি তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন। কাজে যোগ দেওয়ার পরদিন আল আমরি তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন ওই নিয়োগকর্তা।

ঠিকমতো খাবার না দেয়ার পাশাপাশি সামান্য ভুল হলে পেটানোরও অভিযোগ তোলেন ইয়াসমিন। এমনকি দেশে পরিবারের সঙ্গেও কথা বলতে দিতেন না নিয়োগকর্তা আব্দুল হাদিস আল আমরি। মাস শেষে বেতনের টাকা চাইলে বৈদ্যুতিক শকসহ অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন।

সুযোগ বুঝে বাড়িতে ফোন করতেন ইয়াসমিন। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিনের শিকার হওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সৌদি দূতাবাসে আবেদন করা হয়। ইয়াসমিন জানান, নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে দূতাবাস থেকে অভিযোগ আসার পর তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে আশ্রয় নেন ইয়াসমিন।

দূতাবাস ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা বলার পর তাদের সহায়তায় স্থানীয় শ্রম আদালতে মামলা করা হয় নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে। চারটি শুনানির পর আদালত ইয়াসমিনের পক্ষে রায় দেন। তার ৪২ মাসের বকেয়া বেতন বাবদ ৪২ হাজার সৌদি রিয়াল আদায় করে ইয়াসমিনকে বুঝিয়ে দেন দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের মেহেদী হাসান। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্যমান ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দূতাবাসের প্রেস কাউন্সিল ফখরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ‘দীর্ঘদিন জেদ্দা কনস্যুলেটের প্রচেষ্টায় এবং পরে দূতাবাসের সহায়তায় ইয়সমিনের নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে স্থানীয় শ্রম আইনে মামলা করা হয়। নিয়োগকর্তা সৌদি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ায় মামলায় জয় পেতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি কথা প্রমাণিত হয়েছে, আইনের শাসন এবং যথাযথ ডকুমেন্ট থাকলে নিয়োগকর্তা যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন, শ্রমিকদের পাওনা দিতে বাধ্য হয়।’ দূতাবাসের পক্ষেও নির্যাতিত শ্রমিকদের জন্য কাজ করতে সহজ হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশি নারী শ্রমিকের প্রতি পরামর্শও দিয়েছেন ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারাই কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি জমাবেন তারা যেন দূতাবাসের নম্বরসহ যাবতীয় ডকুমেন্ট এবং সঠিক ট্রেনিং নিয়ে কাজ সম্পর্কে সচেতন হয়ে প্রবাসে আসেন। তাহলে ওইসব শ্রমিকদের সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।’

২০১৫ সালে এক চুক্তির পর বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক পাঠানো শুরু হয় সৌদিতে। বর্তমানে সেখানে প্রায় তিন লাখের মতো নারী শ্রমিক গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

advertisement