advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাকাকে ‘প্রতিবেশ সঙ্কটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করা উচিত : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জানুয়ারি ২০২০ ২০:৫৬ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২০ ২১:৪৪
ছবি : হাইকোর্ট
advertisement

দূষণের কারণে ঢাকা সিটিকে প্রতিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা (ইকোলোজিক্যাল ক্রিটিকাল এরিয়া) ঘোষণার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে চলা এক মামলার শুনানিকালে আজ বুধবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও মোহাম্মদ উল্লাহ’র বেঞ্চ এ মন্তব্য করেছেন।

বুড়িগঙ্গা নদী দূষণের ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য সংশোধনাগার ছাড়া চলা শিল্প কারখানার বৈধতা নিয়ে এদিন শুনানি চলছিল।

শুনানির এক পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় দেখলাম ঢাকা পৃথিবীর দূষণতম শহরে স্ট্যান্ড করে বসে আছে। দুই না তিন নাম্বারেই জানি আছে। এখন “প্রতিবেশ সঙ্কটাপন্ন” হিসেবে এটিকে ঘোষণা দেওয়া দরকার।’

আইনজীবী মনজিল এ মন্তব্যে সমর্থন জানালে এ বিচারপতি বলেন, ‘আপনি এ নিয়ে সম্পূরক আবেদন করতে পারেন। অথবা আলাদা আবেদনও করতে পারেন।’ তখন মনজিল মোরসেদ আদালতকে জানান, এ নিয়ে তার চিন্তা আছে।

শিল্প মালিক সমিতির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী আমাতুল করিম ও আবেদনকারী পক্ষে মনজিল মোরসেদ উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘বুধবার ওয়াসার এমডির আদালত অবমাননার রুলের ওপর আদেশের দিন ধার্য ছিল। এ অবস্থায় শিল্প মালিকদের আইনজীবী শুনানি করেন। শুনানিতে শ্যামপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার বিভিন্ন শিল্প কারাখানার মালিকপক্ষ যুক্তি উত্থাপন করছে যে, তারা এখানে যে ব্যবসা করছে, সে ব্যবসা অব্যাহত রাখার আইনগত অধিকার তাদের আছে। তারা বলছে, হাইকোর্ট এর আগে ২০১২ সালে একটি অর্ডার দিয়েছিলো। ওয়াসাকে জমি দিতে বর্জ্য শোধনাগার প্ল্যান্ট বা ইটিপি (ইফুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপন করার জন্য। পরে ইটিপি ছাড়া অবৈধভাবে চলা শিল্প কারাখানা উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদপ্তর যখন নোটিস দিয়েছিল, তখন সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে তারা উচ্চ আদালতে এসেছিল।২০১৬ সালে আপিল বিভাগ সেটেল করে দিয়েছিল যে, পরিবেশ অধিদপ্তরের উচ্ছেদ নোটিস বৈধ এবং ইটিপি ছাড়া কোনো শিল্প-কারাখানা চালানো যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালত এই শুনানির মধ্যেই বলছিলেন, এ সমস্ত কাজ অব্যাহত থাকলে ঢাকার অবস্থাটা বর্তমানে ঢাকাকে বিশ্বের এক নম্বর দূষিত শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবেশ আইনে তো আছে যদি এই রকম দুরাবস্থা হয়, সেক্ষেত্রে ইকোলোজিক্যাল ক্রিটিকাল এরিয়া ঘোষণা করার বিধান আছে। এখন যেহেতু ঢাকা সবচেয়ে দূষিত নগরী, তাই গোটা ঢাকা শহরটাকেই ইকোলোজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণার জন্য সময় এসেছে।’

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে আদালতে আবেদন করবেন কি না সাংবাদিককের এমন প্রশ্নে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আদালতের এ আলোচনাটা (ইকোলোজিক্যাল ক্রিটিকাল এরিয়া) শুনলাম, নিশ্চয়ই এর আইনগত দিকগুলো খতিয়ে দেখে পদপে নিবো।’

তিনি বলেন, ‘ওয়াসার এমডির ব্যাপারে বুধবার আদেশ হয়নি। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।’

প্রসঙ্গত, বুড়িগঙ্গার পানি দূষণরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ওই রিট করা হয়েছিল। সে রিটের শুনানি শেষে তিন দফা নির্দেশনা দিয়ে ২০১১ সালের ১ জুন রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের শুরুতে এ রায় নিয়ে এইচআরপিবি একটি সম্পূরক আবেদন করেন।

ওই আবেদনের পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বুড়িগঙ্গার ভেতরে যেসব সুয়ারেজ লাইন আছে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইন আছে সেগুলো ছয় মাসের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশের পাশাপাশি বুড়িগঙ্গার তীরে যাতে ময়লা আবর্জনা ফেলতে না পারে সে জন্যে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করার জন্য বলা হয়েছিল ২০১১ সালের রায়ে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এই নির্দেশনাগুলো পুরোপুরি পালন না করায় এ সম্পূরক আবেদন করা হয়েছিল।

এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ১৮ জুন ঢাকা ওয়াসার দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বুড়িগঙ্গায় ওয়াসার কোনো স্যুয়ারেজ লাইন নেই। কিন্তু এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন এলাকায় ৬৮টি স্থান দিয়ে দূষিত বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০টি ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন। দুই প্রতিবেদন দেখার পর গত বছরের ১৭ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসার এমডিকে শোকজ করেন হাইকোর্ট।

শোকজ নোটিশে আদালতের আদেশ অমান্য করা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় ঢাকা ওয়াসার এমডির একটি জবাব ২ ডিসেম্বর দাখিল করা হয় হাইকোর্টে। এতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গায় ৬৭টি স্থান দিয়ে বর্জ্য পড়ছে। তার মধ্যে ওয়াসার লাইন ১৬টি। ঢাকা ওয়াসার এই দুই ধরনের প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। এ অবস্থায় ওয়াসা ওই দিন তাদের আগের প্রতিবেদন প্রত্যাহার করে  নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর নতুন করে জবাব দাখিল করে। এই জবাবে ১৮ জুনের প্রতিবেদনের জন্য নিঃশর্ত মা চাওয়া হয়। এ বিষয়ে আদেশের জন্য বুধবার দিন ধার্য ছিল।

advertisement