advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ই-পাসপোর্ট যুগে দেশ

শাহিদ বাপ্পি
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০৫
advertisement

প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বৈশ্বিক পরিসরে বিভিন্ন দেশে যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০১০ সালে সরকার হাতে লেখা সাধারণ পাসপোর্টের পরিবর্তে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) প্রবর্তন করে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বাঙ্গনের সঙ্গে তাল মেলাতে এবার শুরু হয়েছে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১১৯তম রাষ্ট্র হিসেবে ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

ই-পাসপোর্টের আওতায় সর্বোচ্চ ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাবেন আবেদনকারী। এর মেয়াদ হবে ১০ বছরের। এ পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীকে হাতে হাতে কোনো ফরম জমা দিতে হবে না, প্রয়োজন হবে না কোনো নথি বা সনদের সত্যায়ন। শুধু অনলাইনে আবেদন করলেই চলবে।

ই-পাসপোর্টের চিপের মধ্যে পাসপোর্টধারী নাগরিকের সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত যুক্ত থাকবে। চিপের পাশাপাশি কাগুজে অংশও থাকবে। কম্পিউটারে পাঞ্চ করে পড়া যায় এমন

চিপের মধ্যে ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ সবকিছুই থাকবে। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ৫০টি ই-গেট স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ই-গেটগুলো বিভিন্ন বন্দরে স্থাপন করা হবে।

ই-পাসপোর্ট নিয়ে যখন একজন ব্যক্তি ই-গেটের কাছে যাবেন তখন একটি নির্দিষ্ট স্থানে ই-পাসপোর্টটি রাখলে সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে যাবে। নির্দিষ্ট নিয়মে গেটের নিচে দাঁড়ানোর পর ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। এরপর সব ঠিকঠাক থাকলে এক মিনিটের কম সময়ের মধ্যেই যাত্রী ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে কেউ যদি ভুল করেন তা হলে লাল বাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সঠিকভাবে ই-পাসপোর্ট ব্যবহারে সহযোগিতা করবেন।

ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ১০ বছরের। কিন্তু ১৮ বছরের কম বয়সী এবং ৬৫ বছরের বেশি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দেওয়া হবে ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট। এ ছাড়াও ৫ বছর মেয়াদি ফি দিয়ে পাওয়া যাবে ই-পাসপোর্ট। তবে ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য গুনতে হবে বাড়তি ফি। বর্তমানে এমআর পাসপোর্টের ক্ষেত্রে দুটি সেবা রয়েছেÑ সাধারণ ও জরুরি। তবে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এবার অতীব জরুরি সেবা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরিতে ৩ দিনে, জরুরিতে ৭ দিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনের পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়দোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতীব জরুরি পাসপোর্ট ২ দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।

ফি : সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৫শ (ভ্যাট ছাড়া) এবং সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা। বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯০০০ টাকা।

এ ছাড়া বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৭০০০ টাকা, জরুরি ফি ৯০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ১২০০০ টাকা।

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২০০ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার ধার্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে মানুষের যাতায়াতকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে হাতে লেখা পাসপোর্র্টের বদলে ২০১০ সালে প্রবর্তিত হয়েছিল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট। কিন্তু মেশিন রিডেবল পাসপোর্টেও জালিয়াতি করা হচ্ছে বিধায় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনাকে আরো নির্র্ভুল, সহজতর, সময়সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে দেশেও ই-পাসপোর্টে সুবিধা চালু করেছে সরকার।

প্রাথমিকভাবে স্বল্প পরিসরে রাজধানীর আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীর আঞ্চলিক অফিসে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। এসব আঞলিক অফিস থেকে প্রতিদিন ৩শ থেকে ৫শ আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে সব পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু করতে অধিদপ্তরের একাধিক টিম কাজ করছে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নাগরিকদের হাতে ই-পাসপোর্ট তুলে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে পাসপোর্ট বই ছাপার জন্য ৮টি মেশিনের মধ্যে ২টি বসানো হয়েছে। অবিশিষ্ট ছাপার মেশিনগুলো দ্রুত এসে পৌঁছাবে। সবগুলো প্রিন্ট মেশিন দিয়ে প্রতিদিন ৩০ হাজার বই প্রিন্ট করা সম্ভব হবে। রাজধানীর উত্তরায় পাসপোর্টের বই ছাপার কেন্দ্রীয় অফিস ছাড়াও আগারগাঁও এবং যশোরে রিকভারি সেন্টার থেকে পাসপোর্ট বই প্রিন্ট করা হবে। এতে পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের দ্রুত সময়ে পাসপোর্ট প্রদনা করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁওয়ের একটি অফিস পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়ে থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রকল্পটি গত অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু করে, শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনে। নতুন এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ভেরিডোস জার্মান কোম্পানি ৩ কোটি ই-পাসপের্টি বুকলেট সরবরাহ করবে পাশাপাশি ইমিগ্রেশন পারাপারের জন্য ৫০টি ই-গেট প্রদান করবে?এবং সব সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওর্য়াক ১০ বছরের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করবে?

এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ বলেন, দেশের সব পাসপোর্ট অফিস থেকে দ্রুততম সময়ে ই-পাসপোর্ট সেবা প্রদান শুরু করার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

advertisement
Evall
advertisement