advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভয়কে ‘জয়’ করে পাকিস্তানে টাইগাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০৫
advertisement

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পাকিস্তান গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতকাল রাত আটটায় বিশেষ ভাড়া করা বিমানে (চার্টার্ড ফ্লাইট) চড়ে লাহোরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ, তামিমরা। আগামীকাল সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। লাহোরে বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় শুরু হবে পাকিস্তান-বাংলাদেশের মধ্যকার ২২ গজের ময়দানী লড়াই। একই ভেন্যুতে ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি সিরিজে বাকি দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সংক্ষিপ্ত সফর শেষে আগামী ২৮ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশে উড়াল দেবেন টাইগাররা। পাকিস্তান সফরের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে বিসিবি। নিরাপত্তা শঙ্কায় এ সফর থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তবে অভিজ্ঞ দলই গেছে পাকিস্তান। মাহমুদউল্লাহর হাতে উঠেছে নেতৃত্বের ঝাণ্ডা। দলে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, লিটন দাস, সৌম্য সরকাররা আছেন। এদিন দলের সঙ্গে পাকিস্তান গেছেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, নতুন পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন, ক্রিকেট অপরাশেন্স কমিটির প্রধান আকরাম খান,

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার সাব্বির খান, বিসিবির সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম প্রমুখ। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের আত্মবিশ^াসে যেন চিড় না ধরে সে জন্য আজ পাকিস্তান যাবেন বিসিবি সভাপতিও। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘আমি ওদের (খেলোয়াড়) বলেছি, ২৩ তারিখ ওখানে গিয়ে তোমাদের সঙ্গে দেখা করব। বলেছি, ঠাণ্ডা মাথায় খেলবা। ইনশাআল্লাহ কিচ্ছু হবে না। আমি আসছি। একসঙ্গে থাকব, একসঙ্গে খাব। কোনো অসুবিধা নেই।’

পাকিস্তান সফরে প্রধান সমস্যা দেশটির নিরাপত্তা। এই ইস্যুতে অনেক দেশই সেখানে যেতে অনীহা দেখায়। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটারও ছিলেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। বিসিবির তরফ থেকে জানানো হয়, কাউকে জোর করা হবে না। শেষ পর্যন্ত একমাত্র মুশফিকুর রহিম ছাড়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সব ক্রিকেটারই আছেন এ সফরের দলে! পাকিস্তানের গণমাধ্যম বলছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। টিম হোটেল থেকে স্টেডিয়াম, সবখানেই নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। তারপরও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকছেই! গত মঙ্গলবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ভেন্যু লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের খুব কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে। যাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। দেশ ছাড়ার আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদসম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবশ্য জানিয়েছেন তারা এসব নিয়ে ভাবছেন না। বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমি একটা কথা বলতে পারি, দলের অন্য সদস্যরা এ ব্যাপারে চিন্তিত নন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে (সফরে যাওয়ার)। এখন আমরা শুধু খেলার কথাই চিন্তা করছি। কীভাবে ওখানে গিয়ে ভালো পারফর্ম করতে পারব এবং জিততে পারব আমরা এটা নিয়ে চিন্তিত।’

এদিন বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সৌম্য সরকার। তিনি জানান, ক্রিকেটের বাইরে অন্য কোনো কিছু নিয়ে ভাবছেন না। বলেন, ‘যতটুকু পারি টেনশন কম করার চেষ্টা করব।’ শফিউল ইসলামও একই সুরে কথা বলেছেন। জাতীয় দলের এই পেসার বলেন, ‘কোনো টেনশন কাজ করছে না। বোর্ড সবকিছু চেক করেই পাঠাচ্ছে, তাই কোনো টেনশন নেই। ভালো করে দেশে যেন ফিরতে পারি, ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারি, এটাই প্রত্যাশা।’ মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছেন, প্রতিটা ম্যাচ জয়ের জন্যই খেলবেন তারা। বলেছেন, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আর পারসোনালি চেষ্টা করব আমি যে সময়েই নামি দলের জন্য অবদান রাখার জন্য।’

বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের আগে আলোচনার বেশিরভাগ জুড়েই ছিল নিরাপত্তা প্রসঙ্গ। বিসিবি চেয়েছিল সংক্ষিপ্ত সফরে একটি টেস্ট খেলে দেশে ফিরে আসতে। তবে সম্প্রতি আইসিসির সভায় যোগ দেওয়ার পর বদলে যায় চিত্রনাট্য। সেখানে পিসিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি। এরপর জানানো হয়, তিন দফায় পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথম দফায় খেলবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের সঙ্গে একটি ওয়ানডে ম্যাচও যুক্ত করা হয়। মুজিববর্ষে তিন দফায় পাকিস্তান সফর নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। তবে বিসিবি সভাপতি সমালোচনার কোনো কারণ খুঁজে পাননি। বরং তার কাছে এটা ‘অদ্ভুত’ বলে মনে হয়েছে।

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলংকা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই পাকিস্তানে আর টেস্ট ম্যাচ হয়নি। তবে গত বছরের শেষ দিকে শ্রীলংকা তাদের দল পাঠায়। এরই মধ্য দিয়ে ১০ বছর পর আবারও টেস্ট ক্রিকেট ফেরে পাকিস্তানে। টেস্ট সিরিজ স্বাগতিকরা ১-০-তে এবং ওয়ানডে ২-০-তে জিতলেও লাহোরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলংকার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান।

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল : মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, নাইম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, মোস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন ও হাসান মাহমুদ।

advertisement
Evall
advertisement