advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘর বাঁধা হলো না চম্পার

কলাপাড়া ও তালতলী প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০৫
advertisement

ঘর বাঁধা হলো না নববধূ চম্পার। বিয়ের ২২ দিনের মাথায় উদ্ধার হলো তার মাটিচাপা দেওয়া লাশ। স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর গতকাল বুধবার চম্পার অর্ধ গলিত লাশ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামুইয়া ইউনিয়নের গামুরীবুনিয়া গ্রামে স্বামী বাবুল হাওলাদারের বাড়ির পাশের ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর থেকে বাবুল হাওলাদার পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বরগুনার তালতলী থানার ওসি

শেখ শাহিনুর রহমানের গড়িমসির কারণেই এ হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন চম্পার বাবা চাঁন মিয়া সিকদার। তিনি বাবুল হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, তালতলী উপজেলার কলারং গ্রামের চাঁন মিয়া সিকদারের মেয়ে চম্পা বেগমের সঙ্গে গত ১ জানুয়ারি কলাপাড়ার চাকামইয়া গ্রামের বাবুল হাওলাদারের বিয়ে হয়। গত ১২ জানুয়ারি বাবুল শ্বশুরবাড়ি থেকে বেড়ানোর কথা বলে স্ত্রীকে কলাপাড়ায় আসে। এরপর থেকে বাবুল ও চম্পা বেগমের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন চম্পা বেগমের বাবা চাঁন মিয়া সিকদার গত ১৪ জানুয়ারি তালতলী থানায় জিডি করেন।

গতকাল সকালে স্থানীয়রা বাবুল হাওলাদারের বাড়ির পাশের মাঠে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন অভিকে বিষয়টি জানান। পরে অভি কলাপাড়া থানায় খবর দেন। পুলিশ গিয়ে বিলের মধ্যে মাটিচাপা দেওয়া চম্পার অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে।

ওসি মনিরুল আরও জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে লাশ। এ ছাড়া মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিয়ের ১২ দিনের মাথায় চম্পাকে কেন, কী কারণে ও কারা হত্যা করেছে এ ঘটনার অনুসন্ধান চলছে। দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

বাবা চাঁন মিয়া সিকদার জানান, তালতলী থানায় জামাতা বাবুলের বিরুদ্ধে জিডি করলেও পুলিশ চম্পাকে উদ্ধার ও জামাতা বাবুলকে গ্রেপ্তারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাবুলের বড় বোনের মেয়ের জামাই মাহবুব গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে তালতলী থানায় নিয়ে যায়। থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমান এ ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে নামমাত্র জিজ্ঞাসাবাদ করে অজ্ঞাত কারণে মাহবুবকে ছেড়ে দেন। তালতলী থানার ওসি দ্রুত পদক্ষেপ নিলে চম্পার এমন পরিণতি হতো না বলে জানান চাঁন মিয়া সিকদার। তিনি বলেন, তালতলী থানার ওসির গড়িমসির কারণেই জামাতা বাবুল, জামাতার প্রথম স্ত্রী কহিনুর ও বোন জামাই মাহবুব গাজীসহ তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে চম্পাকে হত্যা করেছে। তিনি এ ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে তালতলী থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে চম্পা হত্যার ঘটনায় বাবা চাঁন মিয়া সিকদার কলাপাড়া থানায় জামাতা বাবুলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

চম্পার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, প্রথম স্ত্রী এক সন্তানের জননী কহিনুর বেগমকে বাবুল হাওলাদার গত বছর নভেম্বর মাসে তালাক দেন। এরপর এ বছর ১ জানুয়ারি চম্পাকে বিয়ে করেন তিনি। চম্পাকে বিয়ের পরপরই প্রথম স্ত্রী কহিনুর বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। বাবুলও প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে পুনরায় সংসার করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকেই পরিকল্পিতভাবে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে চম্পাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবুল ও কহিনুর বেগম।

চাকামুইয়া ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন অভি বলেন, স্থানীয় লোকজন মাঠে গরু চরাতে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে আমাকে জানায়। পরে স্থানীয় চৌকিদার ও লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মাটিচাপা দেওয়া লাশের মুখমণ্ডল দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে কলাপাড়া থানায় খবর দিই।

advertisement
Evall
advertisement