advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
বিষপান করে মুমূর্ষু স্কুলছাত্রী হাসপাতালে

এস এম কামাল খুলনা
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০৫
advertisement

বাগেরহাটে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বিষপান করে এখন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে শয্যাশায়ী। শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের ওই ছাত্রী তার স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাকে নোংরা প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নানাভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছে। বলছে, এ জন্যই সে লজ্জায় আত্মঘাতী হতে চেয়েছিল। ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ এ কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, তার স্কুলের শিক্ষক শাহীনুজ্জামান তাকে অনেকদিন ধরেই নোংরা প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। সুযোগ পেলেই উত্ত্যক্তও করতেন। তার এহেন কাণ্ডে আরও এক সহকারী শিক্ষকও জড়িত। ১৮ জানুয়ারিও তারা এমন অপকর্ম করেন। উপরন্তু প্রধান শিক্ষকও সেদিন তাকে ভীষণ বকাঝকা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেন। শুধু তাই নয়, তার মাকেও ফোনে নোংরা কথা শোনান। এসব কারণে কষ্টে-লজ্জায় সে বিষ খেয়ে মরতে চেয়েছিল। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব তুলে ধরে ওই কিশোরী। স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, তার কিছু হলে দায়ী হবেন অভিযুক্ত এসব শিক্ষক।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, শাহীনুজ্জামান স্যার এর আগেও নারীজনিত কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন এক সদস্যের মেয়ে তার কারণেই অন্তঃসত্ত্বা পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল। স্কুল থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করার পর মোটা টাকা দিয়ে তিনি এসব ধামাচাপা দিয়েছেন এবং চাকরিতে ফিরে এসেছেন। আমার মেয়ে ভালো বলেই চরিত্রহীন ওই স্যারের নোংরা প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তিনি বলেন, আমরা আইনের সহায়তা নিতে থানায় গিয়েছিলাম। তখন ওসি সাহেব ছিলেন না। অন্যরা মিটমাট করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর পর মেয়ের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় আমার আর থানায় যাওয়া হয়নি।

অভিযুক্ত শিক্ষক শাহীনুজ্জামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। স্কুলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মেয়েটি এসব অভিযোগ করছে। তিনি বলেন, ওর কিছু অশ্লীল ছবি এলাকার মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে অন্য ছেলেমেয়েরা তাকে টিটকারি করে। মূলত সেসব ঘটনার জন্যই সে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আর ইতিপূর্বে তার যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ওই ছাত্রীর মা যে অভিযোগ করেছেন, তাও অস্বীকার করেন তিনি।

রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ গাজীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে ওই ছাত্রী। এ বিষয়ে সুলতান আহমেদ গাজী বলেন, শিক্ষার্থীর বিষপানের কথা জানার পর আমরা শিক্ষকরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে গিয়েছিলাম। তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্কুলের সভাপতি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তিনি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মোস্তাফিজুর রহমান, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য গিয়াস উদ্দিন মুন্সি ও বর্তমান সদস্য অমলেন্দু হালদার রয়েছেন ওই কমিটিতে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ওই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

advertisement
Evall
advertisement