advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিআরবি জোড়া খুন
৭ বছর পর প্রধান আসামি অজিত বিশ্বাস গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০৫
advertisement

চট্টগ্রামের সিআরবি জোড়া খুনের মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি অজিত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে বোয়ালখালী উপজেলার ধোরলা গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

২০১৩ সালের ২৪ জুন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবি এলাকায় ৪৮ লাখ টাকা মূল্যের রেলের দরপত্র নিয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপঅর্থসম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক সাইফুল আলম লিমনের অনুসারীদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান যুবলীগকর্মী সাজু পালিত ও স্থানীয় সিআরবি বস্তির শিশু আরমান (৮)। নিহত সাজু পালিত ও অজিত বিশ্বাস দুজনই বাবরের অনুসারী।

গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার জাহেদুল ইসলাম বলেন, অজিত বিশ্বাস জোড়া খুনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। উচ্চ আদালত তাকে নিম্ন আদালতে হাজিরের আদেশ দেন। কিন্তু তিনি আর নিম্নআদালতে হাজির হননি। জানা যায়, পুলিশ বিভিন্ন

সময়ে অজিত বিশ্বাস পলাতক বলে দাবি করলেও তিনি নগর ও বোয়ালখালী এলাকায় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বোয়ালখালীতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। বোয়ালখালী থানার সাবেক ওসি হিমাংশু কুমার দাশকে অজিতের ফুল দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের উপনির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদের সঙ্গেও তার ছবি সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন। অজিত বিশ্বাসকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে থানাপুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সিআরবির জোড়া খুনের মামলায় কোতোয়ালি থানার তৎকালীন এসআই মহিবুর রহমান বাদী হয়ে ৮৭ জনের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছিলেন, তাতে ৭৮ নম্বরে ছিল অজিতের নাম। মামলার আসামিরা সবাই ছিলেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ঘটনার এক মাস পর যুবলীগকর্মী সাজু পালিতের মা মিনতি পালিত বাদী হয়ে অজিতকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে জোড়া খুনের বিষয়ে পুলিশ ও সাজু পালিতের মায়ের করা মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দেয়। তাতে ৬২ জনকে আসামি করা হয়। আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে অধিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পিবিআই দ্বিতীয় দফায় অভিযোগপত্র জমা দেয়। যাতে অভিযোগপত্রে ৬৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে অজিত বিশ্বাসকে এক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অজিত বিশ্বাসের গুলিতেই সেদিন দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, আগের বিভিন্ন দরপত্রের ভাগের টাকা পাওনা থাকায় সাজু পালিত ও অজিত বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সিআরবি সাতরাস্তার মাথায় একটি টং দোকানে পুরি খাচ্ছিলেন সাজু। পাওনা টাকার জন্য সেখানে উপস্থিত অজিত বিশ্বাসকে গালাগালি করেন তিনি। এ সময় অজিত কোমরে থাকা অবৈধ পিস্তল বের করে সাজুর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন। তখন লিমনের অনুসারীরা এগিয়ে গেলে অজিত এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং আরমান নিহত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

advertisement
Evall
advertisement