advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০৫
advertisement

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আসমা বেগম নামে এক গৃহবধূকে নগ্ন করে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। নির্যাতন চলাকালে ওই গৃহবধূর স্বামী নজরুল ইসলাম জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পরে পুলিশ এসে মুমূর্ষু অবস্থায় আসমাকে উদ্ধার করে নবীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গত রবিবার বিকালে উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক আছে। এ ঘটনায় পর দিন নজরুল ইসলাম নবীনগর থানায় চারজনের নামে মামলা করলেও পুলিশ কোনো আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নির্যাতিতার পরিবার অভিযোগ করেছে, পুলিশ ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করছে।

মামলার এজাহার সূত্র ও গ্রামবাসী জানায়, আসমার স্বামী নজরুল ইসলামের সঙ্গে পাশের বাড়ির শরীফ ডাক্তার ও তার ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গত রবিবার বিকালের দিকে আলোচনার কথা বলে আসমাকে শরীফ ডাক্তারের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। ওই বাড়িতে যাওয়া মাত্র শরীফ ডাক্তারের স্ত্রী সীমা আক্তার ও তার ভাই শাহেদ সরকার গৃহবধূ আসমাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আসমাকে নগ্ন করে রড ও কোমল পানীয়র বোতল দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। ওই সময় আসমা একাধিকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

কিন্তু নির্যাতনকারীরা পানি ঢেলে আসমার জ্ঞান ফিরিয়ে এনে আরও বেশ কয়েকবার মারধর করে। এ সময় আসমার চিৎকারে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে নজরুল স্ত্রীকে বাঁচাতে ফোন করেন ৯৯৯ নম্বরে। ফোন পেয়ে নবীনগর থানার এএসআই আশরাফ উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে অজ্ঞান অবস্থায় আসমাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সোমবার নজরুল ইসলাম নবীনগর থানায় শরীফ ডাক্তার, তার ভাই শাহেদ ও তাদের দুজনের স্ত্রীকে আসামি করে মামলা করেন।

এএসআই আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমি গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করি। আসমা পাঁচ লাখ টাকা চুরি করায় শরীফ ডাক্তারের বাড়ির লোকজন তাকে মারধর করেছেন বলে আমাকে জানানো হয়েছে। ওই সময়ে শরীফ ডাক্তার আসমার কাছ থেকে উদ্ধার করা চুরির তিন লাখ টাকা আমাকে এনে দিলে, আমি তা জব্দ করে থানায় নিয়ে আসি।’

এদিকে হাসপাতালে কাতরাতে থাকা আসমা গতকাল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি শরীফ ডাক্তারের ভাইয়ের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অনেক দিন ধরেই সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। ঘটনার দিন আমাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ওরা আমার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেয়। পরে তারা রড, বোতল দিয়ে আমাকে মারধর করে।’ নির্যাতিতার স্বামী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার মীমাংসার চেষ্টা বলেই মামলার পরও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।’

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মেহেদী হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি শুধু নির্মমই নয়, অমানবিক। চুরির অপবাদ হলেও কেউ এমন বর্বর নির্যাতন চালাতে পারে না। এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। কোনো মীমাংসা নয়, শিগগিরই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

advertisement
Evall
advertisement