advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, আহত ৬

চবি প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০১:১১
advertisement

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) খেলার মাঠে দৌড়ানোর ট্র্যাকে দাঁড়ানো নিয়ে বিরোধে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষের কর্মীরা। এ ঘটনার জের ধরে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী দুপক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৬ ছাত্র আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকালে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

তবে চবির প্রক্টর এসএম মনিরুল হাসান বলেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তার অবসান করা সম্ভব হয়েছে। রাতে ক্যাম্পাস শান্ত রয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

গতকাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৪টার দিকে ৪০০ মিটার দৌড়ের ট্র্যাকে দাঁড়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির পর ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আজাদকে মারধর করা হয়। তিনি শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) গ্রুপের কর্মী।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা শুরু হয়। মারধরের জন্য প্রতিপক্ষ শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সিএফসি। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সিএফসি শাহ আমানত হলে ও বিজয় গ্রুপ সোহরাওয়ার্দী হলে অবস্থান নেয়। সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলে বিজয় গ্রুপের কর্মীদের ওপর হামলা করে।

হামলা পাল্টাহামলায় আহতরা হলেনÑ বিজয় গ্রুপের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের আবু বক্কর সিদ্দিক, আইন বিভাগের অপূর্ব, সিএফসি গ্রুপের ইতিহাস বিভাগের আজাদ. সিক্সটি নাইন গ্রুপের নাট্যকলা বিভাগের মাহফুজুল হুদা লোটাস, একই শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইব্রাহিম খলিল এবং ইতিহাস বিভাগের জাহিদ শাকিল।

সিএফসি ও বিজয় গ্রুপের সদস্যরা চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নিয়ন্ত্রণে আছে। সিএফসি ও বিজয় গ্রুপের সদস্যরা উভয়ই শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

চবি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত করার ক্ষেত্রে বগিভিত্তিক সংগঠনগুলো সবচেয়ে বেশি দায়ী।

বিজয় গ্রুপের নেতা জাহাঙ্গীর জীবন বলেন, চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নেতৃত্বে এ মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সভাপতি হলেও তার মধ্যে সাংগঠনিক অপরিপক্বতা আছে।

এ উত্তেজনার মধ্যে চবি রেলস্টেশন সংলগ্ন সিপি ফাইভ দোকানের সামনে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সিক্সটি নাইন গ্রুপের ওপর হামলা চালিয়েছে একদল মুখোশধারী। এ ঘটনা ওই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সিক্সটি নাইনের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক অবরোধ করে আন্দোলন করে। প্রক্টর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সিক্সটি নাইন গ্রুপ চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। এ গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, কী কারণে কারা হামলা করল সেটা আমরা জানি না। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপ চাই। প্রশাসন কঠোর না হলে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।

advertisement
Evall
advertisement