advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বদলে যাচ্ছে রাজস্ব আহরণের ধরন

আবু আলী
২৪ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২০ ০০:৪৯
advertisement

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়াতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিবছর রাজস্ব আহরণ বাড়লেও তা জিডিপির তুলনায় কম। গত এক দশকে দেশে টেকসই উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরও রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা কাটছে না। এ জন্য টেকসই রাজস্ব আহরণে মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশলের মাধ্যমে ‘মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল নির্ধারণ’ করা হবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছবে। মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল প্রয়োগ করে ইতোমধ্যে উগান্ডা, সেনেগাল ও মোজাম্বিকের মতো দেশগুলো বিশেষ সফলতা পেয়েছে। এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কর আদায় পদ্ধতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে।

জানা গেছে, অন্যান্য দেশের জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আহরণ কম বাংলাদেশের। সামগ্রিকভাবে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকারি সংস্কারমূলক কার্যক্রম নিয়েছে। এ ছাড়া ‘মধ্যমেয়াদি রাজস্ব আদায় কৌশল’ হিসেবে একটি নতুন কাঠামোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের আদলে এ নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কর জিডিপি অনুপাত ১৬ শতাংশে উন্নীত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত ৫ বছরে গড়ে দেশের রাজস্ব জিডিপির অনুপাত ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ। যেখানে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশিয়ায় এ হার ছিল ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতে ২০ দশমিক ৩, নেপালে ২৩ দশমিক ৩, পাকিস্তানে ১৫ দশমিক ২ এবং শ্রীলংকায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থ বিভাগের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক দশকে বাংলাদেশের টেকসই উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্তে¡ও রাজস্ব আহরণের কৌশলে দুর্বলতা রয়েছে। এ দুর্বলতা দূর করতে মধ্যমেয়াদি কৌশল নিতে যাচ্ছে সরকার।

সূত্র জানিয়েছে, এ কৌশলের অংশ হিসেবে আগামী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে রাজস্ব আদায় পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে আগামী অর্থবছর থেকেই গঠন করা হবে রেভিনিউ থিংকট্যাংক। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার। এতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক। আগামী অর্থবছরে এটি চালুর জন্য প্রকল্পের বিনিয়োগ প্রস্তাব (ডিপিপি) এবং প্রকল্প প্রস্তাব (টিএপিপি) তৈরি করছে এনবিআর। বিষয়গুলো জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিশ্বের তৃতীয় বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। অথচ এর ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত মাত্র ৯ শতাংশ। দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ কর দেয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশ থেকে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। অথচ দেশের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘাটতি। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বাজেট বাস্তবায়নে এনবিআরকে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই-অক্টোবরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এই চার মাসে আয়কর, শুল্ক বা ভ্যাট কোনো খাতেই এনবিআর লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত মধ্যমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয় তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য। এনবিআর এ জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের রোডম্যাপ তৈরি করেছে। এতে তিন-চার মাসের পৃথক কয়েকটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশলে অর্থনীতি, করবিরতি এবং কর ব্যয় বিশ্লেষণ, সুশাসন, করদাতাদের দলিল, অর্থবছরের বিশ্লেষণ এবং রাজস্ব আহরণে রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সূত্র জানায়, রাজস্ব বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ২০১৭ সাল থেকে ‘গেøাবাল ট্যাক্স প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সদস্য দেশগুলো রাজস্ব এবং ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ করে থাকে। অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, জাপান, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য এ প্রোগ্রামে অর্থায়ন করে থাকে। প্রোগ্রামটির জন্য এখন পর্যন্ত ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গেøাবাল ট্যাক্স প্রোগ্রামের মতো রাজস্ব আহরণে মধ্যমেয়াদি কৌশল নেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংক গবেষণা, দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ব্যবসার ধরন নির্ধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল ও অটোমেশনে সহায়তা করবে। প্রাথমিকভাবে এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৬৯ লাখ ৯২০ টাকা (১১ লাখ ৪০ হাজার ৩৫২ ডলার)।

advertisement
Evaly
advertisement