advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সৌদি থেকে একদিনে ফিরলেন ২১৭ বাংলাদেশি

কামাল পারভেজ অভি,সৌদি আরব
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ২৩:৫৯ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২০ ০০:৪৬
সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত আসা কয়েকজন। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

সৌদি আরব থেকে প্রায় শূন্য হাতে দেশে ফিরলেন আরও ২১৭ জন বাংলাদেশি। এদের মধ্যে গতকাল বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ ফ্লাইটযোগে এসেছেন ১০৩ জন এবং রাত ১টা ১০ মিনিটে একই এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০২ ফ্লাইটযোগে এসেছেন ১১৪ জন। এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে আড়াই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

বুধবার ফেরত আসেন টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার দুই ভাই সুজন মিয়া ও মিন্টু মিয়া। সুজন পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে মাত্র চার মাস আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। আর মিন্টু মিয়া যান ২৩ মাস আগে। মিন্টুর আকামার (কাজের অনুমতিপত্র) মেয়াদ পাঁচ মাস থাকলেও সুজনের আকামা তৈরি করে দেননি নিয়োগকর্তা। দুই সহোদরই কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার পথে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

এ দুজনের মতো অনেকটা শূন্য হাতে ফেরত আসেন নড়াইলের সুজন বিশ্বাস। বিমর্ষ চেহারায় সুজন বিমানবন্দরে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, ‘এজেন্সি ও দালালের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে কি?’

প্রতারণার শিকার সুজন বলেন, ‘অফিসে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে তিন মাস আগে সৌদি আরবে পাঠায় আমাকে। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো কাজ পাইনি। বরং ধরা পড়ে দেশে ফিরতে হলো খালি হাতে।’

আরেক ফেরত আসা কর্মী টাঙ্গাইলের লিটন মাত্র ছয় মাস আগে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ নিয়ে সৌদি যান। সেখানে গিয়ে কোম্পানিতে কাজ করলেও কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। এমনকী আকামা তৈরি করে দেননি নিয়োগকর্তা। কর্মস্থল থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও তিনি আর কোনো দায়িত্ব নেননি লিটনের।

সুজন-লিটনদের মতোই দেশে ফিরেছেন নরসিংদীর মন্টু মিয়া, টাঙ্গাইলের কাদের মিয়া, সিরাজগঞ্জের জাহিদুল, সিলেটের নাজমুলসহ অনেকে, যারা এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘দেশে ফেরত আসা কর্মীদের কথায় স্পষ্ট যে প্রত্যেককে নানা স্বপ্ন দেখিয়েছিল দালাল চক্র ও রিক্রটিং এজেন্সি। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়েন তারা। অনেকে বেতন পাননি। অনেকে সৌদি আরবে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ফেরত এসেছেন। তারা সবাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায়। এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয়, সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।’

এর আগে ২০১৯ সালে ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর গত তিন সপ্তাহে দেশটি থেকে ফেরত এলেন আড়াই হাজারের বেশি বাংলাদেশি।

প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্যের বরাত দিয়ে শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার ৭৮৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় হাজার ১১৭ জন, ওমান থেকে সাত হাজার ৩৬৬ জন, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫ জন, কাতার থেকে দুই হাজার ১২ জন, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ জন ও কুয়েত থেকে ৪৭৯ জন শূন্য হাতে ফিরেছেন, যাদের পরিচয় ডিপোর্টি।

advertisement