advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সামুদ্রিক খাবার ও পশুর হাটে করোনা ভাইরাস বেশি ছড়ায়

দেশে সংক্রমণের ঝুঁকি আছে

২৪ জানুয়ারি ২০২০ ০১:৫১
আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২০ ০১:৫১
advertisement

করোনা ভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্বে আতঙ্ক বাড়ছে। উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহর হলেও থাইল্যান্ড, জাপান ও কোরিয়ায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশেও এটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে চেকপোস্টে থার্মাল স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে চীন এবং চীন থেকে বাংলাদেশ ভ্রমণকারীদের ওপর বিশেষ নজর রাখার পাশাপাশি চীন ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনা ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এ ছাড়া অনেক ধরনের করোনা ভাইরাস উটসহ বিভিন্ন পশু, বিড়াল ও বাদুড়ের মধ্যে দেখা যায়। প্রাণীদেহে সংক্রমিত করোনা ভাইরাস সাধারণত মানুষকে আক্রান্ত করে না। চীনের উহান শহরে শনাক্তকৃত বেশিরভাগ রোগী শহরের একটি সামুদ্রিক খাবার ও পশুরবাজার থেকে আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমার্জেন্সি হেলথ অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা আয়শা আক্তার বলেছেন, করোনা একটি নতুন ভাইরাস। চীনের উহান শহরে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। করোনা ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এ ছাড়া
অনেক ধরনের করোনা ভাইরাস উটসহ বিভিন্ন পশু, বিড়াল ও বাদুরের
মধ্যে দেখা যায়। প্রাণীদেহে সংক্রমিত করোনা ভাইরাস সাধারণত মানুষকে আক্রান্ত করে না। চীনের উহান শহরে শনাক্তকৃত বেশিরভাগ রোগী শহরের একটি সামুদ্রিক খাবার ও পশুরবাজার থেকে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত ৫০০ জন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ডের ৪ জন, জাপানের ১ জন, দক্ষিণ কোরিয়ার ১ জন মানুষ, তাইওয়ানের ১ জন ও ইউএস’র ১ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রথম মৃত্যু ঘটে ৯ জানুয়ারি। সর্বশেষ ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ডা. আয়শা আক্তার জানান, অতীতের মার্স করোনা ভাইরাস এবং সার্স করোনা ভাইরাস থেকে বলা যায়, সামনের দিনগুলোয় আরও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। মানুষের ভৌগলিক অবস্থান এবং আন্তজার্তিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে যে কোন সময়ে এই রোগ বাংলাদেশে প্রবেশ করার সম্ভবনা আছে। তাই এ দেশে রোগটি যাতে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।
ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ
করোনা ভাইরাস সম্পূর্ণ নতুন ভাইরাস। এ ভাইরাসের ভয়াবহতা ও বিস্তার সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানা সম্ভব এখনো হয়নি। তাই ভ্রমণকালীন বিশেষ করে চীন থেকে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ থেকে চীন ভ্রমণকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য স্বাভাবিক শ্বাসতন্ত্রের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থাকতে হবে।
ভ্রমণকারীরা আক্রান্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা ও হাত ধোয়া, যেখানে সেখানে কফ কাশি ফেলা যাবে না। বারবার প্রয়োজন মতো সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। জীবিত বা মৃত গৃহপালিত ও বন্যপ্রাণী থেকে দূরে থাকতে হবে।
দেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আছে : আইইডিসিআর
এদিকে, করোনা ভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকলেও এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগী বাংলাদেশে এখনো পাওয়া যায়নি। তবে দেশে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। নতুন ভাইরাস নিয়ে এখনই ভীত হওয়ার কিছু নেই। তবে এ ভাইরাস আমাদের দেশে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, দেশে এখন কমন কোল্ডের সময়। এ সময়ে যদি অসুস্থতা থাকে তা হলে যে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াতে আক্রান্ত হলে সেটা জটিলতার দিকে যেতে পারে। ‘মার্স এবং ‘সার্স পরিবারের এই নতুন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি সবকিছু জানা যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন এ ভাইরাসের নাম দিয়েছে ২০১৯-এনসিওভি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, নতুন এ করোনা ভাইরাসের লক্ষণ হলো জ্বর, কফ, শ্বাসকষ্ট। এর থেকে নিউমোনিয়া, তারপর কিডনি ফেইলিউর হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

advertisement