advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৭ দেহরক্ষীসহ জিকে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় চার্জ গঠন

আদালত প্রতিবেদক
২৮ জানুয়ারি ২০২০ ১৬:৫৪ | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২০ ১৭:১১
পুরোনো ছবি
advertisement

সাত দেহরক্ষীসহ যুবলীগের কথিত সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমের (৫৫) বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় চার্জগঠন করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রবিউল আলম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে এ চার্জগঠনের আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত আসামিদের অভিযোগ পাঠ করে শোনানোর পর তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করায় আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন।

আদালত চার্জগঠনের আদেশ দেওয়ার পর সব আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তাও নামঞ্জুর করা হয়।

চার্জগঠন হওয়ার অপর সাত আসামিরা হলেন, মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৯), মো. মুরাদ হোসেন (৫২), মো. জাহিদুল ইসালাম (৪১), মো. শহিদুল ইসলাম (৩৬), মো. কামাল হোসেন (৪৯), মো. সামসাদ হোসেন (৩৫) ও মো. আমিনুল ইসলাম (৩৪)।

চার্জগঠনের শুনানিতে শামীমসহ সব আসামির অব্যাহতির আবেদন করা হয়। আসামিদের মধ্যে আমিনুল ছাড়া অপর আসামিদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ ও শাওকত ওসমান আসামিদের অস্ত্রগুলো বৈধ এবং অস্ত্রের তারা কোনো অবৈধ ব্যবহার করেনি বলে দাবি করেন।

ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ সালাহউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘আসামিদের মধ্যে আমিনুলের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ধারায় এবং শামীমসহ অপর সাতজনের বিরুদ্ধে বৈধ অস্ত্র অবৈধ উপায়ে ব্যবহার এবং অস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ এবং অস্ত্র আইনের বিধি ভঙ্গের অভিযোগে অস্ত্র আইনের ১৯(ঙ)/২১/২৩ ধারায় চার্জগঠন করা হয়েছে।’

মামলার শুনানিকালে শামীমসহ আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির পর তাদের আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখর চন্দ্র মল্লিক গত বছর ২৭ অক্টোবর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার চার্জশিটে বলা হয়, আসামি আমিনুল ইসলাম জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়েছে মর্মে ডকুমেন্ট দেখালেও তা যাচাইয়ে তার সঠিকতা খুজে পাওয়া যায়নি। তাই তার অস্ত্রটি অবৈধ। সে ওই অবৈধ অস্ত্রের নকল কাগজপত্র নিয়ে ২০১৭ সালে প্রথমে এস এম বিল্ডাস কোম্পানিতে যোগদান করেন। পরে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি আসামি জিকে শামীমের দেহরক্ষী হিসেবে যোগদান করে কাজ করে আসছিল। সে মূলত অবৈধ অস্ত্রটি ৭০ হাজার টাকায় ক্রয় করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে। তাই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ১৯(ক)/২১/২৩ ধারার অভিযোগসহ প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮ ধারার তার বিরুদ্ধে পৃথক একটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আসামিরা নিরাপত্তার অযুহাতে অস্ত্রের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হলেও তারা শর্ত ভঙ্গ করে অস্ত্র প্রকাশ্যে বহণ, প্রদর্শন ও ব্যবহার করে লোকজনের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসা করে স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ১৯(ঙ)/২১/২৩ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে জিকে শামীমের নিজ কার্যালয় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতে একটি বিশেষ অভিযানে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আসামি শামীমের ৩২ বোরের কাঠের বাটযুক্ত ৩৭ রাউন্ড গুলি ও তিনটি গুলির খোসা পাওয়া যায় এবং পাঁচ বোতল বিদেশি মাদ পাওয়া যায়। অপর আসামিদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১২ বোরের সটগান পাওয়া যায়।

advertisement