advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কাতারে ২০১৯ সালে মারা গেছেন ১৬৮ বাংলাদেশি

কাজী শামীম,কাতার থেকে
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৫:০১ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৫:০১
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

গত ২০১৯ সালে কাতারে মৃত্যুবরণ করেন ১৬৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। যার অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রম কাউন্সিলর ড. মুস্তাফিজুর রহমান আমাদের সময় প্রতিবেদককে বলেন, প্রবাস থেকে একজন শ্রমিকের মরদেহ পাঠানোর সময়টা খুবই দুঃখজনক। একজন প্রবাসীর মৃত্যু কেবল তার একার মৃত্যু নয়, গোটা পরিবারের মৃত্যু।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিকট যখনই কোনো বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর খবর আসে, দ্রুততার সঙ্গেই দূতাবাস থেকে সকল প্রকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় যাতে শিগগিরই মরদেহটি বাংলাদেশে পাঠানো যায়।’

একজন প্রবাসীর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কখনো বিলম্ব হয় জানিয়ে দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর বলেন, ‘যখন কেউ মৃত্যুবরণ করে তখন কাতারের সরকারি হাসপাতাল থেকে একটি মৃত্যু সনদ নিতে হয় এবং পুলিশ রিপোর্ট প্রয়োজন হয় যা পুলিশ দপ্তর প্রদান করে থাকে। এ ছাড়া কাতার সরকারি সংস্থা সিআইডি থেকে একটি ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। সাধারণত মৃত ব্যক্তির নামে কোনো প্রকার মামলা কিংবা জীবিত থাকাকালীন কারও সঙ্গে লেনদেন নিয়ে কোনো অভিযোগ আছে কি না সেসব বিষয় নিয়ে সিআইডি একটি ক্লিয়ারেন্স দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন শ্রমিকের মৃত্যুর পর সকল প্রকার কাগজপত্র নিয়ে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পিআরও দূতাবাসে আসেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস তা পর্যবেক্ষণ করে এবং যে কোম্পানিতে কর্মরত ছিল তার থেকে সকল পাওনা বুঝে নিয়ে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানো হয়। কখনো কখনো কোনো প্রবাসীর মৃত্যুর পর তার প্রতিষ্ঠান কাতার সরকারের ব্লাক লিস্টে থাকায় তখন মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হয়।’

‘এ ছাড়া কাতারে বাংলাদেশি কিছু সামাজিক সংগঠন আছে যারা বিনামূল্যে মরদেহের জন্য কফিন সরবরাহ করে এবং দূতাবাসের কল্যাণ তহবিল থেকেও আমরা সহযোগিতা করে থাকি; যোগ করেন ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

অধিকাংশ মরদেহ বিনা খরচে দেশে পাঠাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে চিঠি পাঠান এবং তারাও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে জানান দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর। তিনি বলেন, ‘মরদেহটি বাংলাদেশে পৌঁছার পর ওয়েজ আর্নার কল্যাণ বোর্ড থেকে বিমানবন্দরে ৩৫ হাজার টাকা লাশ দাফনের জন্য এবং পরবর্তী সময়ে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।’

প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ পরিবহনের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজার রেজাউল আহসান বলেন, ‘যখন কোনো বাংলাদেশির লাশ বহন করার জন্য আমার নিকট খবর আসে তখন তা আমার অন্তরে লাগে। সড়ক দুর্ঘটনায় ও স্ট্রোকের কারণে এবং পরিবার ও আত্মীয় স্বজন ছাড়া এখানে একজন প্রবাসীর মৃত্যু যা মনে দুঃখ লাগে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের ফ্লাইটে একটি মরদেহ যাবে, নাম মাহফুজর রহমান। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। তার নিকট আত্নীয় বলছে, সে ছুটিতে দেশে যাবে বলে মার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। এই ধরনের আকস্মিক মৃত্যু আমাকে নাড়া দেয়। প্রায় আড়াই বছর আমি এখানে দায়িত্বে আছি। এর মধ্যে অসংখ্য লাশ আমার মাধ্যমে দেশে গেছে।’

কিছু লাশের বিমান পরিবহন খরচ কখনো তার নিয়োগকর্তা বা নিকট আত্মীয় স্বজনরা বহন করে, সে ক্ষেত্রে প্রতি মরদেহের জন্য ৩ হাজার ৬০০ কাতারি রিয়াল তাদের ব্যয় হয়। এ ছাড়া কোনো মরদেহের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বরাবর চিঠি আসলে তা সম্মানের সঙ্গে সরকারের নিয়ম নীতি মেনে বিনামূল্যে পরিবহন করা হয় বলেও জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজার।

advertisement
Evaly
advertisement