advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বইয়ের মান নিয়ে অভিযোগ

চপল মাহমুদ
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:০১
advertisement

কবিতা, উপন্যাস, রম্য, কমিকস, থ্রিলার, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ, মুক্তিযুদ্ধ, অনুবাদ ও ভ্রমণকাহিনিসহ বিভিন্ন ধরনের বইয়ে সয়লাব অমর একুশে গ্রন্থমেলা। প্রতিবারের তুলনায় এবারের মেলা প্রকাশনার দিক থেকে অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে। প্রকাশনায় এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে রয়েছে মানের দিকে। যেনতেন মানের বই প্রকাশ হওয়াতে একুশের চেতনা থেকে মেলা বিচ্যুত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাঠকদের অনেকে। শখের বশে অনেকে লেখক হতে গিয়ে প্রকাশকদের কাছে ধরনা দেন।

এ সুযোগে প্রকাশকরাও  পাণ্ডুলিপির মানদণ্ড বিচার না করে যেনতেন বই প্রকাশ করছেন। যার কারণে কোয়ানটিটির দিক থেকে গ্রন্থমেলা এগিয়ে থাকলেও কোয়ালিটির দিকে পিছিয়ে রয়েছে। এখনই যদি লাগাম টেনে না ধরা যায় তা হলে ভবিষ্যতে এটি একুশের গ্রন্থমেলার জন্য সুখকর হবে না বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক পাঠক। গতকাল গ্রন্থমেলার একাদশ দিন পর্যন্ত মেলায় নতুন বই এসেছে ১ হাজার ৪৪২টি। গতকাল একাদশ দিনে এসেছে ১৫৪টি। কাগজ, ছাপা, প্রুফ রিডিং, বাঁধাই, বিষয় বৈচিত্র্য, শব্দ চয়ন, বাক্যের গাঁথুনি ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করেই বইয়ের মান নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

উপরোল্লিখিত কোনো একটির ব্যত্যয় ঘটলে বই তার মান থেকে বিচ্যুত হয়। মানহীনতার পাশাপাশি চড়া দামে বই বিক্রি হচ্ছে-এ নিয়েও অভিযোগ করেন কয়েক পাঠক। কয়েক প্রকাশক জানান, মোটিভেশনাল বই পাঠকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে। পাঠকদের আশার আলো দেখানোর জন্য যারা মোটিভেশনাল বই বের করে তারা কি পাঠকদের বড় একটা অংশকে হতাশাগ্রস্ত মনে করে?

যার কারণে তাদের মোটিভেট করার জন্য এ ধরনের বইয়ের প্রকাশ। সৃজনশীলতার পরিবর্তে মোটিভেশনাল বইগুলোর কারণে মানহীনতার বিষয়টি পাঠকদের কাছে উঠে এসেছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক প্রকাশক। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ অধ্যয়ণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী তাসনুভা আদিবা বলেন, মোটিভেশনাল বই মানেই যে হতাশাগ্রস্তদের বই-এটি কিন্তু ঠিক না। ভালো কাজের প্রতি মানুষকে মোটিভেট করা ও ভালো কিছুর প্রতি মানুষকে মোটিভেট করে থাকে মোটিভেশনাল বইগুলো। যেমন আমার প্রকাশিত আয়মান সাদিক ও সাদমান সাদিকের ‘কমিউনিকেশন হ্যাকস’ বইটি পড়লেই পাঠকরা জানতে পারবে বইটি তাদের জন্য কতুটুক পজিটিভ। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই ডিজিটাল সময়ে তরুণ-তরুণীরা ফেসবুক, ইউটিউব নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে ছাপানো বইয়ের পাঠক কমে গেছে। আর মোটিভেশনাল বইগুলো তরুণ-তরুণীদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো দিক। এত এত প্রকাশনার ভিড়ে মান নিম্নমুখী কেন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রকাশকরাই দায়ী। কারণ বই প্রকাশের ক্ষেত্রে যদি মানসম্পন্ন পাণ্ডুলিপিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে তা হলে মানহীন বই প্রকাশ পাবে না।

সাহিত্য প্রকাশের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, এখন পাঠকদের চেয়ে লেখকের সংখ্যা বেশি। যার কারণে অনেক নিম্নমানের বই বাজার দখল করে আছে। তবে কোয়ালিটি না থাকলে কেউ বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না। তবে বইয়ের দাম বেশি কেন এমন প্রশ্নে প্রকাশনীটির ব্যবস্থাপক রথীন্দ্র প্রসাদ দাস বলেন, দিনে দিনে কাগজের দাম বাড়ছে, ছাপাখানার খরচ বাড়ছে, বাঁধাইসহ আনুষঙ্গিক জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে বইয়ের দাম বেড়েছে। সব কিছুর দাম যখন বাড়ছে অর্থাৎ বাজার যেখানে ঊর্ধ্বমুখী সেখানে বইয়ের দাম তো একটু বাড়বেই। তবে লেখক ও প্রকাশকদের সদিচ্ছা থাকলে বইয়ের মান বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল। তিনি বলেন, কোয়ান্টিটি বেশি হলে কোয়ালিটি তো একটু খারাপ হবেই। এদিকে গতকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলার একাদশ দিনে মেলার দুই প্রাঙ্গণ বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাঠকদের আশাতীত ভিড় ছিল। এদিন ব্যক্তিগত ও দলবদ্ধভাবে মেলায় এসেছেন পাঠকরা। আবার কেউ কেউ এসেছেন সপরিবারে। এদিনের মেলায় আগতদের প্রায় সবার হাতেই বই শোভা পেয়েছিল। কাল শুক্রবার বসন্তের প্রথম দিন ও বিশ্ব ভালোবাস দিবসে মেলা সফলতার দিকে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বেশিরভাগ প্রকাশক।

মূলমঞ্চ

বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অনুপম হায়াৎ রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র’ শীর্ষক আলোচনা।

এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদুল আউয়াল।

আলোচনায় অংশ নেন মোরশেদুল ইসলাম ও মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন অনুপম হায়াৎ। সভাপতিত্ব করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

প্রাবন্ধিক বলেন, অনুপম হায়াৎ রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধুর আমলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ও নানা প্রসঙ্গ, চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি পথে বিচ্ছুরিত আলোর মন্তাজ’ শীর্ষক অধ্যায়-বিন্যাসে বঙ্গবন্ধুর সাংস্কৃতিক সত্তাকে পরিস্ফুট করা হয়েছে। নিষ্ঠাবান গবেষক তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে এ বিশেষ কাজটিকে পূর্ণতা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নানা সময়ে নির্মিত তথ্যচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র প্রভৃতিতে বঙ্গবন্ধুর নানামুখী উপস্থাপনের বৃত্তান্তও তিনি তুলে ধরেছেন যদিও এ বিষয়ে আরও প্রামাণ্যতার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি গ্রন্থ বঙ্গবন্ধুপ্রেমী এবং একই সঙ্গে চলচ্চিত্র-উৎসাহীজনদের কাছে প্রয়োজনীয় সংগ্রহ হিসেবেই আদৃত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

সবশেষে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন জরিনা আখতার, সাজ্জাদ শরিফ, জাহিদ মুস্তাফা এবং নওশাদ জামিল।

আবৃত্তি করেন ফয়জুল্লাহ সাঈদ, মাহমুদুল হাকিম তানভীর ও আদিবা ইসমাত।

সংগীত পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা, বশিরুজ্জামান সাব্বির, নবীন কিশোর, প্রিয়াংকা বিশ্বাস ও অনন্যা আচার্য্য।

 

advertisement