advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ
পদে থেকেই মেয়র নির্বাচন

ইউসুফ আরেফিন
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৩:৫৬
এম হাফিজ উদ্দিন খান (বামে) ও বদিউল আলম মজুমদার
advertisement

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বর্তমান আইনে মেয়ররা নতুন করে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে পদত্যাগ করতে হয়। তারা যেন স্বপদে থেকেই অর্থাৎ পদত্যাগ না করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে আইন সংশোধন করতে চায় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, এখনো এ ব্যাপারে কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আমাদের সময়কে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মেয়রদের পদে বহাল রেখে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। এখনও বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আরও বিচার বিশ্লেষণ করে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছব। এ সংশোধনী আনতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে সে ধারাটিও সংশোধন করা হবে। এ ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার চিন্তা চলছে। নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের যেন বসে থাকতে না হয় সে জন্যই আইন সংশোধনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক সময় পদে থাকা পুরনো মেয়রও (ফের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া) সিটির জন্য কাজ করতে আর উৎসাহ দেখান না। ফলে সিটি করপোরেশন যথাযথ সেবা প্রদান থেকে বঞ্চিত হয়।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার যে উদ্যোগ মন্ত্রণালয় নিচ্ছে, সেটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এ ক্ষেত্রে ভোটের পর নবনির্বাচিতদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না। তবে মেয়রদের পদে রেখে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। এর ফলে আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কী আইন করল, কোন আইনে সংশোধনী আনল- তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। কারণ, সরকার চাইলে যেকোনো প্রক্রিয়াতেই তাদের লোকজনকে নির্বাচিত করে আনতে পারে। এখানে জনগণের ভোটাধিকার নেই। মেয়ররা পদত্যাগ করে নির্বাচন করলেও তারাই জোর করে জিতবে। পদত্যাগ না করলেও জিতবে। সুতরাং, এসব বিষয় এখন আর মুখ্য নয়।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯-এর ৯ ধারার ২ উপধারার (ঙ) অনুচ্ছেদে বলা আছেÑ কোনো ব্যক্তি মেয়র বা কাউন্সিলর নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না, যদি প্রজাতন্ত্রের বা সিটি করপোরেশনের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বর্তমান সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ না হওয়ায় নতুন মেয়ররা দায়িত্ব নিতে পারছেন না। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর। গত নির্বাচনের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রথম বৈঠক হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৭ মে। সে হিসেবে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকনের মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ১৬ মে। এর পরই নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব নিতে পারবেন।

অন্যদিকে আগামী ১৪ মের আগে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ নেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনির্বাচিত আতিকুল ইসলামেরও। গত নির্বাচনের পর এই সিটির প্রথম বৈঠক হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৪ মে। সে হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হবে ১৩ মে।

কর্মকর্তারা জানান, মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে আতিকুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এখন ডিএনসিসি চলছে প্যানেল মেয়র দিয়ে। তিনি শুধু রুটিন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই তার। ফলে ডিএনসিসির উন্নয়নকাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। যদি স্বপদে থেকেই মেয়র আতিক নির্বাচন করতে পারতেন তা হলে তিনি করপোরেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারতেন। এ জন্য স্বপদে থেকেই যেন মেয়ররা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন সেই বিধান যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট আইনটি সংশোধন করতে চায় মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলাপ আলোচনাও হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সভা করেননি তারা। শিগগিরই আইন সংশোধন নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে সভা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, মেয়রদের স্বপদে রেখেই নির্বাচন করা হলে সে নির্বাচন বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অন্য প্রার্থীরা ক্ষমতাসীন মেয়রের কাছে অসহায় হয়ে পড়বেন। তা হবে গণতন্ত্রের জন্য বুমেরাং। এটি কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়। তবে মেয়াদ শেষের ৯০ দিন আগে নির্বাচনের উদ্যোগকে ইতিবাচক মন্তব্য করে তিনি বলেন, মে মাসে বর্তমান সিটি মেয়রদের মেয়াদ শেষ হবে, মার্চ-এপ্রিলে ভোট করলেও কোনো অসুবিধা ছিল না। এত আগে কেন ভোট করা হলো এ প্রশ্নও রাখেন তিনি।

advertisement
Evaly
advertisement