advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বইয়ের সঙ্গে ফাল্গুনের আগাম উদযাপন

চপল মাহমুদ
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৮:৫২
advertisement

প্রতিবছর ইংরেজি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি উদযাপন হয়ে থাকে পহেলা ফাল্গুন। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের কারণে এ বছর থেকে ফাল্গুন মাস শুরু হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ ওই দিনই উদযাপিত হবে পহেলা ফাল্গুন। কিন্তু অনেকেই হয়তো সরকারি এ সিদ্ধান্ত জানতেন না। ফলে গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারিতেই অনেকে বাসন্তি সাজে বের হয়েছিলেন শীতকে বিদায় জানিয়ে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও যার ঢেউ লেগেছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। অনেকেই এদিন মেলায় এসেছিলেন বাসন্তি সাজে। হলুদ শাড়ি, পাঞ্জাবি আর মাথায় ফুলের রিং পরে ইচ্ছেমতো তারা ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন স্টলে, কিনেছেন বই।

মোহাম্মদপুর থেকে গতকাল বিকালে মেলায় এসেছিলেন নাসরিন জাহান। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী ও ছেলে। তারা তিনজনই সেজেছিলেন বসন্তের রঙে। নাসরিন বলেন, ‘মেলায় এসেছি বই কেনার জন্য। তবে শীতের শেষ আর বসন্ত শুরুর সন্ধ্যাটার সাক্ষী হতেই সবাই মিলে আজ চলে এলাম ঘুরতে। বই কেনার ইচ্ছে আছে, তবু আগে ঘুরব, তার পর ফেরার আগে কয়েকটি বই কিনব।’ কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নুসরাত জেরিনের সঙ্গে। বাসন্তি-রঙ শাড়ি

পরে তিনিও বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছিলেন। নুসরাত বলেন, তারিখে কী আসে যায়। শীত বিদায় নিয়ে বসন্ত আসছে-এটাই বড় কথা। তাই আজ পহেলা ফাল্গুন না হলেও বাসন্তি শাড়ি পরে মাঘকে বিদায় জানাতে এসেছি।’

গতকাল মেলায় তরুণ-তরুণীদের লক্ষণীয় উপস্থিতি দেখা গেলেও প্রকাশকরা অবশ্য তেমন সন্তুষ্ট নন। তারা বলছেন, এবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন একই দিনে পড়ায় এদিন কাক্সিক্ষত ভিড়টা হয়নি। তবে কাল (শুক্রবার) বিক্রি ও ভিড় অনেক হবে বলে আশা করছেন সবাই। কথাপ্রকাশ প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থাপক ইউনূস আলী বলেন, ‘বইমেলা আস্তে আস্তে জমে উঠছে। বইয়ের বিক্রিও প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ছে। অন্যবার ভালোবাসা দিবস ও ফাল্গুন উৎসব আলাদা হতো বলে দুটো দিন পাঠকের ভিড় থাকত বেশি। এবার একই দিনে হওয়ায় এবং ছুটির দিন হিসেবে শুক্রবার মেলা আরও বেশি জমে উঠবে বলে আশা করছি।’

গতকাল ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১২তম দিন। এদিন নতুন বই এসেছে ১৮০টি। এদিন বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সুব্রত বড়ুয়া রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন বড়ুয়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লুৎফর রহমান রিটন এবং মনি হায়দার। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। পরে ছিল কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা।

আজ শুক্রবার ১৩তম দিনে মেলা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এর মধ্যে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চ‚ড়ান্ত নির্বাচন।

advertisement