advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে এএনএফএলের ভবন নির্মাণ

আইন না মানলেও কিছু করার নেই সিডিএর!

মো. মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২৩:৩৯
advertisement

নির্মাণ আইন ভঙ্গ করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে এএনএফএল প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদিত নকশা না মানায় ভবনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা আমলে নিচ্ছেন না ভবনের মালিক। সিডিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, আইন প্রয়োগকারী জনবলের অভাবে কাজ বন্ধ করতে পারছে না তারা। তবে চট্টগ্রাম মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী নকশাবহিভর্‚ত কাজ করলে তা বন্ধের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে নীরব ভ‚মিকা পালন করছেন সিডিএর অথরাইজ অফিসার-১ ও ইমারত নির্মাণ কমিটি ১-এর সদস্য সচিব মো. ইলিয়াস।

জানা গেছে, নগরীর চান্দগাঁও সিডিএ আবাসিক এলাকার এ-বøকের ৩ নম্বর সড়কে ৫ কাঠার প্লটে ৯ তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমানে এক তলার ছাদ সম্পন্ন হয়েছে। নকশা না মেনে কাজ করায় গত বছরের ২ ডিসেম্বর সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছে একটি অভিযোগ দাখিল করেন পার্শ্ববর্তী প্লটের মালিক মোহাম্মদ ইকবাল। এর দুই মাস পর নকশাবহিভর্‚ত ভবন নির্মাণের অভিযোগে কারণ দর্শাও নোটিশ দেন অথরাইজ অফিসার মো. ইলিয়াস। গত ৩ ফেব্রæয়ারি স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ভবনের মালিক আইনের তোয়াক্কা না করে এবং সিডিএর নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সদস্য নয় বলে জানা গেছে।

আইন না মানলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে অসহায় খোদ সিডিএ কর্তৃপক্ষ। আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। তারা বলছেন, সিডিএর দেওয়া নকশা না মেনে ভবন নির্মাণ হলে কেউ তো সিডিএতে যাবে না। সবাই নিজের ইচ্ছে মতো ভবন তৈরি করবে।

ওই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে অথরাইজ অফিসার মো. ইলিয়াস আমাদের সময়কে বলেন, কাজ বন্ধ রাখার চিঠি দিয়েছিলাম। তারপরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে ফোর্স না থাকায় সরাসরি কাজ বন্ধ করতে পারছি না। চান্দগাঁও থানাকে অবহিত করে আরেকটি চিঠি দিচ্ছি। মো. ইলিয়াস জানান, ভবনের চারপাশে যে পরিমাণ খালি জায়গা রাখার জন্য বলা হয়েছিল তা রাখেননি ভবন মালিক আহসানুল করিম। এ ছাড়া উত্তরে শূন্য দশমিক ৩৫ মিটার, দক্ষিণে শূন্য দশমিক ৩০, পূর্বে ১ দশমিক ২২, ১ দশমিক ৮০, ১ দশমিক ৬৭ এবং পশ্চিমে ১ দশমিক ০৫ মিটার কলাম থেকে বাড়িয়ে সেন্টারিং করা হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী ভবনের মালিক মোহাম্মদ ইকবাল আমাদের সময়কে বলেন, কত টাকার বিনিময়ে নকশা অনুমোদন হয়েছে আমি জানি না। না হলে সিডিএর আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে কাজ করার সাহস কেউ পাবে না। এ বিষয়ে কথা বলতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসানুল করিমের মোবাইলে গত বুধবার একাধিকবার কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। গতকাল সকালে ফোন রিসিভ করে ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এরপর বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত একাধিবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। মোবাইলে মেসেজ পাঠানোর পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

advertisement