advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এক বছরের হল কমিটি চলছে তিন বছর

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:১৪
আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:১৪
advertisement

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদ এক বছর। সেই হিসেবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ছয় মাস আগে। কিন্তু ঢাবি শাখা কমিটি এখনো নতুন হল কমিটি দিতে পারেনি; যার মেয়াদ শেষ হয়েছে আরও দুই বছর আগে। এক বছর মেয়াদি হল কমিটি দিয়েই এখনো চলছে কার্যক্রম। ৩ বছরেও কমিটি না দেওয়ায় অসন্তোষ আর হতাশা সৃষ্টি হয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। ইতোমধ্যে অনেকেই রাজনীতিবিমুখ হয়ে নিয়মিত গ্রন্থাগারে যাওয়া শুরু করেছেন। আর যারা রাজনীতিতে সক্রিয়, তাদের ছাত্রত্ব নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। দ্রুত হল কমিটি দেওয়া হবে বলে বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও ঢাবি ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এখন পর্যন্ত তা করতে পারেননি।
এর আগে বিভিন্ন সময় সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের হল কমিটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা। ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৮ জুন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যথাক্রমে আবিদ আল হাসান ও মোতাহার হোসেন প্রিন্স। এর দেড় বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর ঢাবির হল কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়। হল কমিটির শীর্ষ দুই নেতা দায়িত্ব পাওয়ার ১১ মাস পর ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর হল কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়।
ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ঢাবি শাখা সাংগঠনিক জেলার মর্যাদা পায়। আর জেলা শাখার মেয়াদ এক বছর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০১৮ সালের নভেম্বরে হল কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর আগে ওই বছরের ২৯ এপ্রিল ঢাবি শাখার সম্মেলন হয়। আর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন হয় ১১ ও ১২ মে। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব পান রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন
এবং সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম রাব্বানী। এ ছাড়া সনজিত চন্দ্র দাসকে ঢাবি শাখার সভাপতি ও সাদ্দাম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মেয়াদপূর্তির দুই মাস আগে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের কমিটি দিতে পারেননি বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলেই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। ১৮টি হলের ৩৬ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন ২১ জন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য হয়েছেন একজন, হল সংসদের ভিপি ও জিএস হয়েছেন দুজন। বাকি ১২ জন কোনো পদ পাননি।
এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, ডাকসু ও হল সংসদে পদ পাওয়ায় হলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বর্তমান হলগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। স্থবির হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে হল কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া অন্য নেতারা গড়ে তুলেছেন এলাকাভিত্তিক নতুন নতুন উপদল। নতুন হল কমিটিতে ঠাঁই পেতে শুরু করেছেন তোড়জোড়। নেতার আস্থাভাজন হতে হলগুলোতে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ রেষারেষি। অন্যদিকে হল সংসদ নির্বাচনের ফলে নির্বাচিত ভিপি, জিএসরাই হলগুলো একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফলে বেশিরভাগ হলেই ‘হল শাখা ছাত্রলীগ’ ও ‘হল সংসদের’ মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া যেসব হলে ছাত্রলীগের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন, সেসব হলে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ কমেছে।
ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মী তৈরিতে সময়ক্ষেপণ, হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা ভাগাভাগি নিয়ে আটকে আছে হলগুলোর কমিটি। ছাত্রলীগের বেশ কয়েক জন দায়িত্বশীল নেতা জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এবং ঢাবি ছাত্রলীগের রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ওপর নির্ভর করে। তারা বলছেন, হল ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীরা কেন্দ্রীয় ও ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন। ফলে তারাই হলগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ ভাগাভাগি করে নেন। বিতর্কিত কর্মকা-ের জন্য পদ হারানো শোভন-রাব্বানীর নেতাকর্মী রয়েছেন প্রতিটি হলেই। তাদের অনেকে নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জয় ও লেখককে পুরোপুরি মেনে নিতে পারেননি। জয়-লেখক দায়িত্ব পাওয়ার পর তাদের এলাকাভিত্তিক অনেক হলে পদপ্রত্যাশী নেতার আবির্ভাব ঘটেছে। একই হলে নতুন নেতার আবির্ভাব হওয়ায় শোভন-রাব্বানীর কাছের কর্মীরা জয়-লেখকের কাছে যেতে পারেননি। অন্যদিকে জয়-লেখক তাদের সমর্থন বাড়াতে এখনো হল কমিটি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের।
হল কমিটির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা হল কমিটির কাজ শুরু করেছি। এ মাসের মধ্যেই কমিটি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, হলগুলোর কমিটির মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। হলগুলোয় যারা প্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করেছেন, তাদের ভেতর থেকেই যোগ্যতা বিবেচনায় দায়িত্ব দেওয়া হবে। আমরা এ মাসের মধ্যে কমিটি দেওয়ার চেষ্টা করছি।

advertisement
Evaly
advertisement