advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উহানের সেই ‘গোপন ভাইরাস ল্যাব’র দায়িত্ব পেলেন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৪:০৩ | আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৮:১১
মেজর জেনারেল চেং ওয়েই। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে অবস্থিত ‘খুবই গোপনীয়’ ভাইরাস গবেষণাগারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চেং ওয়েই নামে এক মেজর জেনারেলকে। আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমের ধারণা জৈব অস্ত্র তৈরির ওই গোপন ল্যাব থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস।

গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়। চীনের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানায়, গত মাসের শেষের দিকে মেজর জেনারেল চেং ওয়েইকে উহানে নিয়ে আসে কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পান তিনি।

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দৌবান ডটকমে প্রকাশিত একটি পোস্টের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, উহানে করোনাভাইরাসের পেছনে ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি ও চীনা সেনাবাহিনীর যোগসূত্র রয়েছে। আর সন্দেহের কারণ হলো, এই ল্যাবটিতে জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করছিল চীনের সেনাবাহিনী। এটা হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়েনি। প্রতিবেদনটির তথ্য মতে, জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার দাবিটি করা হয় মূলত দ্য ওয়াশিংটন টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে ড্যানি সোহাম নামে ইসরায়েলের সাবেক একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দুর্ঘটনাক্রমে গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অপর একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই ভাইরাস উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চীনে ছড়িয়ে দিয়েছে।

তবে বর্তমানে কীভাবে দ্রুততম সময়ে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা যায় তা নিয়ে কাজ করছেন ৫৪ বছর বয়সী চেং। ৩০ জানুয়ারি থেকে উহানেই একটি সুরক্ষিত জায়গা থেকে টিম নিয়ে কাজ করছেন এই জৈবঅস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলে জানান চীনা সরকারি কর্মকর্তারা।

চীনের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ভ্যাকসিনের একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ চেং। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করলে এক ধরনের মেডিকেল স্প্রে উদ্ভাবন করেন তিনি। তার এ উদ্ভাবনের ফলে চীনের প্রায় ১৪ হাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রাণঘাতি এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন চীনা রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইবোলা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের কারণে ‘টার্মিনেটর অব ইবোলা’ নামেও পরিচিত চীনের এই নারী শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।

করোনাভাইরাস মোকাবিলা প্রসঙ্গে চেং বলেছেন, ‘এই মহামারি একটা সামরিক পরিস্থিতির মতো। এর উৎপত্তিস্থল যুদ্ধক্ষেত্রের সমান।’

তবে চেং এর বিষয়ে চীনের গণমাধ্যমগুলোর ধারণা না থাকলেও প্যারিসভিত্তিক রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল গত শনিবার দাবি করে, ইতিমধ্যে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির দায়িত্ব নিয়েছেন চেং।

গোপন এই ল্যাবটি খোলা হয় ২০১৮ সালের নভেম্বরে। পি-ফোর শ্রেণিভুক্ত ল্যাবটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের জৈব-সুরক্ষিত।

advertisement