advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাঈদ খোকনের রাজনীতি কোন পথে

সানাউল হক সানী
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:১১
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পর ঢাকা-১০ আসনেও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন সাঈদ খোকন। পুরোনো ছবি
advertisement

মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটির মেয়র এবং আওয়ামী লীগের বড় একজন রাজনীতিক। দলের জন্য তার অবদান অনস্বীকার্য। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে তার নেত্রী শেখ হাসিনার সামনে মানবদেয়াল হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। বাবার এমন ত্যাগ স্বীকারের কারণেই মূলত সাঈদ খোকনের সামনে সুযোগ আসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার। দলও তাকে সে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু এর সদ্ব্যবহার করতে পারেননি সাঈদ খোকন। তার রাজনীতির ক্যারিয়ারে অর্জনের ঝুলি শূন্য। উপরন্তু তাকে নিয়ে দলের মধ্যেই রয়েছে নানা বিতর্ক, সমালোচনা। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগে এখন তিনি গুরুত্বহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দলটির দায়িত্বশীল নেতারাও বলছেন, এ থেকে উত্তরণের আপাতত কোনো পথ নেই সাঈদ খোকনের সামনে।

অবস্থাদৃষ্টে এটিই বাস্তবতা। মেয়রপ্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন না পেয়ে প্রথম হোঁচট খান সাঈদ খোকন। আর শেষ হোঁচটটি খেয়েছেন তিনি ঢাকা-১০ আসনে দলের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে। এতে তার প্রতি দলের দৃষ্টিভঙ্গি কী- সে বার্তাও আঁচ করা যায়।

বাবার জনপ্রিয়তা ও দলে তার অবদানের স্বীকৃতিসূত্রে কাঠখড় পোড়ানো ছাড়াই আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন সাঈদ খোকন। এমনকি অভিষেক সংসদ নির্বাচনে হারের পরও তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়। এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সাঈদ খোকন ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সে সময় দলটির নেতা হিসেবে সাঈদ খোকনের ভূমিকা ছিল খুবই প্রশ্নবিদ্ধ। এর পরও পৈতৃক অবদানের সূত্রে সাঈদ খোকনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নিজ যোগ্যতায় নয়, দলের সুবাদে মেয়র পদে অধিষ্ঠিতও হন তিনি। কিন্তু এর পর যে মঞ্চ তিনি পান, তা তার আলোয় আলোকিত হয়নি বরং তিনি সেই মঞ্চের আলোকে দিন দিন অনুজ্জ্বল করেছেন। উপরন্তু বেফাঁস মন্তব্য করে, ঠিকাদারির কাজে নির্দিষ্ট শতাংশ উপরি নিয়ে, দলের স্থানীয় নেতাদের নানাভাবে বঞ্চিত করে তিনি তার রাজনীতির ক্যারিয়ারে কাদা মাখিয়েছেন। এমনটাই বলছেন সমালোচকরা। এখন তার পাশে কেউই নেই। একজন কাউন্সিলরও তার পাশে এখন দেখা যাচ্ছে না।

মেয়রপ্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন ফরম নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাঈদ খোকন বলেছিলেন, তার রাজনৈতিক জীবনের এখন সবচেয়ে কঠিন সময়। সর্বশেষ ঢাকা-১০ আসনের মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনি। এখন তিনি তাই সেই সময়ের চেয়েও কঠিন সময়ই পার করছেন।

জানা গেছে ঢাকা ১০-এ মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর থেকে তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ জীবনযাপন শুরু করেছেন। কারোই ফোন ধরছেন না। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও এ প্রতিবেদকের ফোন তিনি রিসিভ করেননি।

আওয়ামী লীগের একজন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুজন নেতা আমাদের সময়কে বলেন, রাজনীতির বার্তা বুঝে রাজনীতি করতে হয়। সাঈদ খোকন যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছিলেন নিজেকে প্রমাণ করার। কিন্তু তিনি তার সব সুযোগ ব্যর্থ করে দিয়েছেন। রাজনীতি একদিনের জন্য নয়। এখন সাঈদ খোকনের অপেক্ষা করাটাই মঙ্গলজনক। পাশাপাশি দলীয় কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হতে হবে। সংক্ষেপে উতরে যাবেন, আপাতত এমন কোনো পথ নেই। তবে সান্ত্বনা এই যে, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ অন্তত পেয়েছেন তিনি।

একসময় সাঈদ খোকনের আশপাশে রাজনৈতিক নেতাদের ভিড় লেগে থাকলেও বর্তমানে কেউই তার ধারেকাছে ভিড়েন না। নগর ভবনের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারাও অনেকটা এড়িয়ে চলছেন তাদের মেয়রকে। মেয়র নিজেও এখন আর নিয়মিত অফিস করছেন না। নেই অন্য কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও। সাঈদ খোকনের রাজনৈতিক সহচররা বিষয়টি নিয়ে বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে সাঈদ খোকনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই। তবে দলের প্রতি আনুগত্য ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলে একসময় হয়তো স্বমহিমায় ফিরতে পারবেন। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারাও একই কথা বলছেন। তারা এও জানিয়েছেন, সাঈদ খোকনকে দলের তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যাওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনাও তারা এখন দেখছেন না। আর আগামীতে কোন পথে যাবে তার রাজনীতিÑ এ প্রশ্নের উত্তর আগামীর গর্ভেই। কারণ রাজনীতিতে চূড়ান্ত বলতে কিছু নেই।

 

 

advertisement
Evall
advertisement