advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আন্দোলনের শপথ নিলেন বিএনপির তৃণমূল নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:০৭
বিএনপির লোগো
advertisement

আওয়ামী লীগ তো বটেই, দলটির প্রতি বাধ্যগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্যাতন-নিপীড়ন-হয়রানির কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিন কেন্দ্রে টিকে থাকতে পারেননি। এমনকি নানা রকম হেনস্তার কারণে কাউন্সিলর প্রার্থীরা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিতে পারেননি। দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই ক্ষমতাসীন প্রতিপক্ষের কাছে এমন নাজেহাল হতে হয়েছে।

একই কারণে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ভিত্তিহীন মামলায় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এভাবেই গতকাল নিজ দলের ব্যবচ্ছেদ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা মনে করেন, এ অবস্থার উত্তরণে এবং দলের চেয়ারপারসনের কারামুক্তির জন্য সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে, বিশেষ করে রাজধানীতে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটানুষ্ঠান ইস্যুতে গতকাল মতবিনিময়সভার আয়োজন করে বিএনপি। নয়াপল্টনের আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে এদিন দলটির নেতারা দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেন। এতে প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা যে আলোচনা করেন, তার সার-সংক্ষেপ একটি প্রতিবেদন আকারে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। দলটির তৃণমূল নেতারা আগামীতে আন্দোলনের জন্য এদিন শপথ নেন বলেও জানা গেছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণে ধানের শীষ প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, দলের কেউ ঝুঁকি নেবে, কেউ ঘুমিয়ে থাকবে- এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। তিনি তার বক্তব্যের সমর্থনে ভোটের দিনের নানা চিত্র তুলে ধরেন।

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক আরও বলেন, নির্বাচনের দিন সকাল বেলা ভোট দিয়ে আমি নিজেও কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রে ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি আকাশ-পাতাল তফাত লক্ষ্য করেছি। কিছু কিছু এলাকায় আমি দেখেছি, কাউন্সিলর প্রার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও চেষ্টা করেছে বিজয়ী হওয়ার, ভোট কারচুপি ঠেকানোর। আবার কিছু কিছু জায়গায় দেখেছি, কাউন্সিলর প্রার্থী পর্যন্ত কেন্দ্রে নেই। আমাদের যেসব নেতাকর্মী সচেষ্ট ছিলেন, তাদের আমরা সংগঠিতই করতে পারিনি। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে এবং এ থেকে উঠে আসতে হবে। নয়তো আমাদের সাফল্য আসবে না।

তিনি বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে আমাদের অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা। সামনের দিনগুলোতে আমরা যদি সুসংগঠিত হয়ে আন্দোলন বেগবান করতে না পারি, তাহলে কিন্তু আমাদের নেত্রীর মুক্তি মিলবে না; দেশেও গণতন্ত্র ফিরবে না।

বিএনপি ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মতবিনিময়কালে বলেন, আজ আমরা নির্বাচন-পরবর্তী বিশ্লেষণ করতে বসেছি। যা শুনলাম, নির্বাচনে সাত থেকে আট শতাংশের বেশি ভোটার কেন্দ্রে যাননি। এর পরও ইভিএমের ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে দক্ষিণে ২৯ শতাংশ, উত্তরে ২৫ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। এ নির্বাচনে ইভিএম গ্রহণযোগ্য নয়, ত্রুটিপূর্ণ এবং এ নির্বাচন কমিশনও অগ্রহণযোগ্য বলে পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।

মতবিনিময়ের শুরুতে খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দৃশ্যত তেমন কিছুই করতে পারিনি। এ জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাদের দায়ী করে থাকেন। এক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকায় দলকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়Ñ সে সম্পর্কে আপনারা কথা বলবেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, যেখানে আওয়ামী লীগ লাঠিসোটা, র‌্যাব-পুলিশ নিয়ে হানা দিয়েছে, সেখানে আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থীরা টিকতে পারেননি। আমার একটাই প্রশ্ন, আমাদের সংগঠনটা কি এতই উইক যে আমরা কিছুই করতে পারলাম না? এর পর তিনি যোগ করেন, আমাদের কিছু একটা করা উচিত ছিল। কিন্তু এমন একটা সংবাদও পেলাম না যে, কোথাও কিছু একটা হয়ে গেছে। হয়নি। সুতরাং এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের জন্য, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য আমাদের সংগঠনকে আরও সুন্দর ও সুসংগঠিত করতে হবে।

সবার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ড. মোশাররফ বলেন, আজ কাউন্সিলর প্রার্থীরা এখানে শপথ গ্রহণ করেছেন ওয়ার্ড-থানাসহ সব পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করে, আরও শক্তিশালী করে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করার। আমরা আশা করি, ঢাকা মহানগরী সারাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে এখন প্রস্তুত।

মতবিনিময় সভায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সদস্য সচিব আবদুস সালাম, সদস্য হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, আফরোজা আব্বাস, শিরিন সুলতানা, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সুরুজ মিয়া, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, নবী উল্লাহ নবী, রফিক শিকদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

advertisement
Evall
advertisement