advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নির্মাতা ফারুকী ও মহেশ ভাটকে লিগ্যাল নোটিশ

বিনোদন প্রতিবেদক
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৭:১৯ | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২০:১৩
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও মহেশ ভাট। ফাইল ছবি
advertisement

হলি আর্টিজান হামলার ঘটনা নিয়ে কোনো প্রকার চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র বা নাটক নির্মাণ না করতে বাংলাদেশের নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ভারতীয় চলচ্চিত্রকার মহেশ ভাটকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে ল’ ফার্ম ‘লিগ্যাল কাউন্সিল’। পাশাপাশি এ বিষয়ে আজ বুধবার জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

‘লিগ্যাল কাউন্সিল’র অন্যতম সত্ত্বাধিকারী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা জানান, অবিন্তা কবির ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাধারণ সম্পাদক মিসেস রুবা আহমেদের পক্ষে তারা এই আইনি নোটিশটি পাঠিয়েছেন। হলি আর্টিজানের মর্মান্তিক ঘটনায় মেয়ে অবিন্তা কবিরকে হারিয়েছেন রুবা আহমেদ।

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, ‘ওনাদের মেয়েকে নিয়ে কোনো চলচ্চিত্র বা কোনো ধরনের ভিজ্যুয়াল নির্মাণ হোক সেটি তারা চান না। ভারতীয় নির্মাতা মহেশ ভাট তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এই বিষয়ে যেখানে যারাই কাজ করছে বা করবে তাদের আমরা আমাদের মক্কেলের অবস্থান জানিয়ে দেব। প্রয়োজনে অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই নোটিশটি পাঠিয়েছি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ “শনিবার বিকেল” চলচ্চিত্রের বাংলাদেশি প্রযোজক জাজ মাল্টিমিডিয়া ও জার্মানের প্রযোজক টেন্ডেম প্রডাকশনকে। সেইসঙ্গে ভারতের তিন চলচ্চিত্রকার মহেশ ভাট, অগ্নিদেব চ্যাটার্জি ও গুলপানাংকেও নোটিশ দিয়েছি।’

এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, ‘মিসেস রুবা আহমেদ গত ১ জুলাই ২০১৬ এর হলি আর্টিজানের মর্মান্তিক হামলায় তার একমাত্র সন্তান অবিন্তা কবিরকে হারিয়েছেন। অবিন্তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর কয়েকজন নির্দেশক/প্রযোজক মিসেস রুবা আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হলি আর্টিজানের কাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তাব দেন। মিসেস রুবা আহমেদে সে সব নির্দেশককে স্পষ্টভাবে তার তীব্র আপত্তিজ্ঞাপন করেন।

অবিন্তা কবির ছিলেন তাদের একমাত্র সন্তান এবং বেদনাদায়ক মৃত্যু তার পরিবারের সদস্যদের জীবনকে নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তারা প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছেন। সবার কাছে যা কেবল একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড, তা অবিন্তার মা এবং তার পরিবারের জন্য এক চরম দুর্ভাগ্য এবং নির্মম সত্য, যা তারা প্রতিনিয়ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বয়ে চলেছেন।

সেখানে আরও বলা হয়েছে, হলি আর্টিজানকে কেন্দ্র করে কোনরুপ মিডিয়া নির্মাণের মাধ্যমে সে সব ঘটনা আবার জনগণের মাঝে প্রচার করলে, তা কেবল সেই দুর্ঘটনার করুণ এবং কষ্টদায়ক স্মৃতিগগুলোকেই আবার জাগিয়ে তুলবে, যা অবিন্তার মা এবং তার পরিবার প্রতিনিয়ত ভুলে থাকার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সবশেষে বলা হয়েছে, সম্মানিত প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, কলাকুশলী, মিডিয়া সংস্থা, মিডিয়া বিতরণকারী সংস্থা, লেখক, ক্লিপ-লেখকদের হলি আর্টিজানের ঘটনাকে তুলে ধরে বা এমন কোনো চরিত্রকে বর্ণনা করে যার সঙ্গে অবিন্তা কবিরের প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষ সাদৃশ্যতা রয়েছে, সেই রূপ যেকোনো ধরনের পূর্ণ বা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, টেলিফিল্ম, নাটক, নাটিকা, উপন্যাস, গল্প, ইত্যাদির রচনা, প্রযোজনা, পরিচালনা, বিতরণ, বিপণন, উপস্থাপন, প্রকাশনা, অভিনয় ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তা সত্ত্বেও যদি কেউ এমন কোনো কাজে লিপ্ত হন, তাহলে সব লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডি নিয়ে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর চলচ্চিত্র ‘শনিবার বিকেল’ ইতিমধ্যেই সেন্সর বোর্ডে আটকে গেছে। সেন্সর বোর্ডের সদস্যদের তথ্য মতে, যেহেতু ছবির মধ্যে হলি আর্টিজানের ইঙ্গিত আছে, তাই এটি পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। ‘শনিবার বিকেল’ ছবির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় দুই তারকা জাহিদ হাসান ও নুসরাত ইমরোজ তিশা। এছাড়াও ছবিতে আছেন ইরেশ যাকের, ভারতের পরমব্রত, ফিলিস্তিনের চলচ্চিত্র তারকা ইয়াদ হুরানিসহ আরও অনেকে। ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশ-ভারত-জার্মান।

advertisement
Evall
advertisement