advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বগুড়ায় বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক,বগুড়া
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২৩:৩১ | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০২:০০
হামলায় আহত বিএনপি কর্মী আল মামুন। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

বগুড়ায় প্রকাশ্যে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিজ দলের এক নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। একই সময় নিহত আপেল মাহমুদ ফকিরের (৩৫) বড়ভাই বিএনপি কর্মী আল মামুনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে সদর উপজেলার বুজরুক মাঝিড়া নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিএনপি কর্মী সনি হত্যার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে এলাকাবাসী ও পুলিশের দাবি।

নিহত আপেল মাহমুদ বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামের আবদুল মান্নান ফকিরের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী এবং তার বড়ভাই আহত আল মামুন ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। আহত মামুনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আপেল ও তার বড়ভাই মামুন মাংস ব্যবসায়ী। বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল কিনে স্থানীয় পলাশবাড়ি বাজারে মাংস বিক্রি করেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালে ছাগল বিক্রির কথা বলে ওই দুই ভাইকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে পাশের লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের বুজরুক মাঝিড়া গ্রামে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা গোকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা ওই দুই ভাইয়ের ওপরে হামলা চালান। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের দুই ভাইকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ফেলে রেখে তারা চলে যান তারা। এতে ঘটনাস্থলেই আপেল মারা যান। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত মামুনকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে।

গোকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন আহম্মেদ বিপুল বলেন, ‘এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজ দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গোকুল হল বন্দর এলাকায় মিজানের সহযোগী সনিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সনি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন মামুন। ওই হত্যাকাণ্ডের কারণেই মামুন ও তার পরিবারের ওপরে ক্ষিপ্ত ছিল মিজান ও তার সহযোগীরা।’

বগুড়ার ছিলিমপুর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আজিজ মণ্ডল বলেন, ‘আহত মামুনের দুই হাতের কবজির প্রায় ৯০ শতাংশ সন্ত্রাসীরা কেটে ফেলেছে। কোনো মতে তার হাতের সঙ্গে চামড়াসহ হাতটি লেগে আছে। তার হাতে অস্ত্রোপচার হয়েছে।’

বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, ‘হত্যাকারীরা মুঠোফোনেই ডেকে নেয় দুই ভাইকে। এরপর তারা অটো ভ্যানে করে সেখানে যাচ্ছিল। পৌঁছার আগেই ভ্যান থেকে তাদেরকে নেমে নেওয়া হয়। তারপর লিচু বাগানে প্রকাশ্য হত্যা করা হয়।’

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, ‘দলীয় কোন্দলের কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। আপেলের মরহেদ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই বিএনপি কর্মী খুন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে।’

advertisement
Evall
advertisement