advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাঙালি এখন ভাষাপ্রতিবন্ধী

আরিফুজ্জামান মামুন
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:০২
ইতিহাসবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। পুরোনো ছবি
advertisement

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যে পদ্ধতিতে ইংরেজি সেখানো হচ্ছে সেখানে কেউ ইংরেজি শিখতে পারে না। ফলে অবস্থা দাঁড়াচ্ছে, বাঙালি এখন বাংলাও জানে না, ইংরেজিও জানে না। বাংলা যেভাবে আমরা বলি বা লিখি তার কোনো গুণগত মান নেই। উপরন্তু আদালতে এখন ইংরেজিতে রায় লেখা হয়।

বাংলা সর্বস্তরে চালু হয়নি। ১৯৮৭ সালে অবৈধ সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন বটে; কিন্তু তা ছিল লোকদেখানো। সেজন্য বাংলার দশা আমি মনে করি অত্যন্ত করুণ অবস্থায় পৌঁছেছে। আমার চূড়ান্ত কথা হচ্ছে বাংলাদেশের বাঙালি এখন ভাষাপ্রতিবন্ধী জাতি। শিক্ষালয়ে বাংলা ভাষাকে অনেকাংশে অবজ্ঞা আর অবহেলায় টেনে নিয়ে এক কোনায় রাখা হচ্ছে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে বাংলা ও ইংরেজির মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে এক উদ্ভট পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর জন্য দায়ী আমাদের অবৈজ্ঞানিক এবং অযৌক্তিক মনমানসিকতা।

আমি মনে করি শিক্ষার উচ্চপর্যায়ে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যম থাকা উচিত। উপরন্তু শিক্ষার উচ্চপর্যায়ে প্রথম সেমিস্টার প্রত্যেক বিভাগে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কোর্স করানো উচিত। পাশাপাশি ইংরেজি কোর্সও আব্যশক হবে। ফলে আমাদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা বিশ্ব কর্মবাজারে ঢোকার সনদ পাবে। বাংলাও ভালো শিখবে। বর্তমানে যে শিক্ষানীতি সেই নীতির সঙ্গে আমি একমত নই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্র ঠাকুরের কথা ছিল যেন ইংরেজি বাংলা সমান্তরালভাবে চলে। সর্বস্তরে বাংলা চালু করতে গিয়ে আমরা বাংলাও চালু করতে পারিনি, ইংরেজিও হারিয়েছি।

সৈয়দ আনোয়ার হোসেন : ইতিহাসবিদ

advertisement
Evall
advertisement