advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা আক্রান্ত সন্দেহে যুবকের ছবি ফেসবুকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও বেনাপোল প্রতিনিধি
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:২১
advertisement

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে পরীক্ষা ছাড়াই ভারত থেকে আসা এক তরুণের নাম, পরিচয়সহ তার ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের কাস্টমস কমিশনার বেলাল চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে ওই যুবকের ছবি ও পরিচয় পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওই যুবক করোনা আক্রান্ত নয় বলে নিশ্চিত করেন যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন। এর মধ্যেই সন্দেহের ভিত্তিতে ওই যুবকের নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হলে বিকালে নিজের পোস্ট ডিলিট করে দিয়ে আবার স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ কাজের জন্য ক্ষমা চান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল সকালে ভারত থেকে আসা ওই তরুণ হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় পরীক্ষা ছাড়াই তাকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেন কাস্টমস কমিশনার বেলাল চৌধুরী। পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ওই তরুণের পাসপোর্ট ও ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে বেলাল চৌধুরী লেখেন ‘বেনাপোলে ভারত থেকে আসা করোনা রোগী শনাক্ত।’ এর নিচে তরুণের বাবার নামসহ পুরো পরিচয়ও তুলে দেন তিনি। পরে চিকিৎসকরা ওই তরুণ করোনা আক্রান্ত নয় বলে চিহ্নিত করলে সেই ফেসবুক পোস্ট মুছে দেন বেলাল চৌধুরী। এ সময় আবারও তরুণের বিস্তারিত পরিচয়সহ ছবি তুলে ধরে আরেক

পোস্টে তিনি লেখেন ‘শনাক্ত নয়’।

প্রথম পোস্টে বেলাল চৌধুরী ওই তরুণের ছবি ও নাম-পরিচয় দিয়ে লেখেন, ‘ভারত থেকে আসা বন্ধন এক্সপ্রেস থেকে একজন করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা রেলের নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে একজন বিশ্বস্ত সূত্রে গোপনে সংবাদ পায় এবং রোগীকে শনাক্ত করেন। তাৎক্ষণিক এসি উত্তম চাকমা ও আকরাম হোসেন বিষয়টি যশোর সিভিল সার্জন অফিস ও উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসকে জানান এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে আনেন। তিনি (ওই তরুণ) চীন থেকে ভারতে আসেন। ভারতীয়রা বিষয়টি সম্ভবত বুঝতে পেরে তাকে টিকিট ছাড়াই ট্রেনে তুলে দেয়। তিনিও আত্মগোপন করেছিলেন। কাস্টমস টিম চিকিৎসকদের আসা নিশ্চিত করে। বর্তমানে তিনি সিভিল সার্জন টিমের হেফাজতে আছেন। বিস্ময়কর হলেও বেনাপোল কাস্টম হাউসে কর্মকর্তাদের তৎপরতায় এ অঞ্চলে প্রথম করোনা রোগী দেশে ঢোকার আগেই ধরা পড়ে। যে কেউ এমন রোগী দেখলে চিকিৎসক টিমকে জানান। রোগী যথার্থ পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, ভাইরাস ছড়িয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগে। অবহেলায় উল্টোটা ঘটে।’

ওই তরুণকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বেলাল চৌধুরীর এ পোস্ট নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পর আগের পোস্ট ডিলিট করে ফের নতুন পোস্ট দেন তিনি। তাতে বেলাল চৌধুরী লেখেন, ‘চিকিৎসকের পরীক্ষায় জনাব করোনা ভাইরাসমুক্ত বলা হয়েছে। আমরা নিজেদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি। ভারতের রেলগার্ড মেন্যুফেস্টো দিতে গিয়ে বেনাপোল কাস্টমস টিমের রাজস্ব কর্মকর্তাকে বলেন, ট্রেনে ৬৫ জন যাত্রী, একজন অনুপস্থিত ও একজন করোনা রোগী আছে! তাৎক্ষণিক চেকপোস্টের ডাক্তার আজিমউদ্দিন আসেন এবং তার পাসপোর্ট দেখে তাকে সম্ভাব্য রোগী হিসেবে আলাদা করে নেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করেন। গার্ডের বক্তব্য, ডাক্তারের করোনা সন্দেহজনক যাত্রী খুঁজে পাওয়া ও যাত্রীর ভাবভঙ্গি থেকে তাকে আমাদের টিম সন্দেহবশত ‘করোনা রোগী’ বলেছে। এ বিষয়ে কোনো সংশয় তৈরি হলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত! কাস্টমস চেকপোস্টে সচেতনতার জন্য আমরা গত ২৯ জানুয়ারি করোনা সচেতনতা সেমিনার করি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের প্রদর্শিত নির্দেশনালোকে কাস্টমস টিম দায়িত্বের অংশ হিসেবে রোগী আলাদা করে স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা সচেতনতার জন্য পোস্ট দেই। সংশয়ের জন্য নয়। দয়া করে কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না।’

গোটা বিষয়টি নিয়ে বেলাল চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ওই তরুণকে নিয়ে তার টিম আতঙ্কিত ছিল বলেই তিনি ছবিসহ পোস্ট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সচেতনতার জন্য পোস্ট দেই, সংশয়ের জন্য নয়।’ কিন্তু টিম আতঙ্কিত হলেই কি কারও ছবি ফেসবুকে দিতে হবে, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যদি তিনি রোগী হতেন তা হলে কিন্তু আমাদের ক্রেডিট থাকত। যেহেতু রোগী নন, সে কারণেই এত কথা হচ্ছে।’

ওই তরুণের বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। ওই তরুণকে বাড়িতে চলে যেতে এবং ১৪ দিন বাসার ভেতরে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

এদিকে সন্দেহের ভিত্তিতে বিদেশ ফেরত কারও ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে গোপনীয়তা লঙ্ঘন অপরাধ বলে সবাইকে সাবধান করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। গতকাল এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘দেশের কোনো এক স্থলবন্দরে দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা বিদেশ থেকে আসা একজন যাত্রীকে কোভিড-১৯ সংক্রমিত সন্দেহ করে তার ব্যক্তিগত পরিচয় সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করে দিয়েছেন। এ ধরনের অপেশাদার আচরণ শুধু নৈতিকতাবিরোধীই নয়, সংবেদনশীল সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন সংক্রান্ত সরকারি চাকরি বিধির লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তি কোভিড-১৯ সংক্রমিত কিনা তা নিশ্চিত করার ও প্রকাশ করার সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আইইডিসিআর। কোভিড-১৯ শনাক্তের জন্য সব পর্যায়ের সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা তথা সর্বস্তরের জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভুল পদ্ধতিতে সহযোগিতা করতে গেলে তা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকেই বিপন্ন করবে।’

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয় পলিমেরেজ চেইন রিঅ্যাকশন বা পিসিআরের মাধ্যমে। পিসিআর করতে চীন বাংলাদেশকে ৫০০ কিট দিয়েছে। এসব কিট বৃহস্পতিবার আইইডিসিআর বুঝে পেয়েছে। প্রাপ্ত কিট পিসিআরে ব্যবহার করা হবে। তবে এটার পরীক্ষা পদ্ধতিসহ অন্যান্য বিষয় এখনো বিশ্লেষণ করিনি। এগুলো দিয়ে কত পরীক্ষা করা যাবে সেটা এখনো জানি না।’

advertisement
Evall
advertisement