advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আজ মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

মেহেদী হাসান
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:১৫
ফাইল ছবি
advertisement

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হলো মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা জানায় জাতি। সেখানে প্রথমেই শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত বাড়তেই শহীদ মিনার অভিমুখী রাস্তায় ঢল নামে নানা বয়সী মানুষের। মা-বাবার হাত ধরে আসে শিশুরাও। রাত ১২টা বাজতেই অর্থাৎ আজ শুক্রবারের প্রথম প্রহরে সারিবদ্ধভাবে ফুল হাতে শহীদ মিনারের বেদি অভিমুখে যায় সুশৃঙ্খল জনতার সারি। তাদের কণ্ঠে ছিল চির অমøান সেই গান- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...’। শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ঢেকে যায় শহীদ মিনারের বেদি।

বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে আজ থেকে ৬৮ বছর আগে ১৯৫২ সালের এই দিনে বুকের রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন ঢাকার রাজপথ। পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হয়েছিল মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের অভূতপূর্ব নজির। মাতৃভাষার জন্য বাঙালির আত্মদানের এই অনন্য ঘটনা স্বীকৃত হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সেই সময়ের পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চোখ রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাদের এই আত্মদান নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নরও আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেন- ‘বরকত, সালামকে আমরা ভালোবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা- বরকত-সালাম আমাদের ভালোবাসে। ওরা আমাদের ভালোবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সেই রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত।’ তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে আমরা অমরতা পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না। কেননা বরকত-সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমরতার স্পর্শ দিয়ে গেছেন।’ বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবুল ফজল একুশ নিয়ে তার এক লেখায় বলেছেন- ‘মাতৃভাষার দাবি স্বভাবের দাবি; ন্যায়ের দাবি, সত্যের দাবি- এ দাবির লড়াইয়ে একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদরা প্রাণ দিয়েছেন। প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, স্বভাবের ব্যাপারে, ন্যায় ও সত্যের ব্যাপারে কোনো আপস চলে না, চলে না কোনো গোঁজামিল। জীবনমৃত্যুর ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই হতে হয় তার সম্মুখীন।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্টজনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণের ঢল নামে শহীদ মিনারে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনাসভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ৭টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরিসহ আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন। এ ছাড়া আগামীকাল শনিবার বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে দিবসটি উপলক্ষে দলটির আলোচনাসভারও কর্মসূচি রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি গতকাল আলোচনাসভা করেছে। আজ ভোরে দলের নেতাকর্মীরা নিউমার্কেটসংলগ্ন বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে প্রভাতফেরি নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এর পর আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত করবেন।

২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বাণী দিয়েছেন।

ঢাবির কর্মসূচি : ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্ব অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে প্রভাতফেরিসহ আজিমপুর কবরস্থান হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গমন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ। বাদ জুমা অমর একুশে হলে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত, ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাবি সংগীত বিভাগের উদ্যোগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় টিএসসি মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রয়েছে।

যেসব সড়ক বন্ধ থাকবে : টিএসসি মোড় থেকে জগন্নাথ হলের পূর্ব পাশের রাস্তা অর্থাৎ শিববাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে শহীদ মিনারে ও মেডিক্যাল কলেজে যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। উপাচার্য ভবন গেট থেকে ফুলার রোড হয়ে ফুলার রোড মোড় পর্যন্ত রাস্তা এবং চানখাঁরপুল থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা (কার্জন হলের পশ্চিম পাশের রাস্তা) জনসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

advertisement
Evall
advertisement