advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অমর একুশে আজ
আজ মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:৫৫
আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০২:১০
advertisement

‘রক্তে আমার আবার প্রলয় দোলা/ফাল্গ–ন আজ চিত্ত আত্মভোলা/আমি কি ভুলিতে পারি/একুশে ফেব্রুয়ারি’Ñ আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ও আলতাফ মাহমুদ সুরারোপিত এ গান চেতনার পথে দ্বিধাহীন অভিযাত্রী বেশে বাঙালিকে সর্বদা চলার প্রেরণা জোগায়। আজ সেই দিনÑ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। রক্তস্নানের মধ্য দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দিন। সব বাধা অতিক্রম করে বাংলাকে পাথেয় করে এগিয়ে যাওয়ার শপথের দিন। বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য এদিন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। তাই দিনটি গৌরবের পাশাপাশি শোকেরও। দিবসটি শুধু বাঙালির নয়, পৃথিবীর সব মানুষের। আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস হিসেবে
বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষও দিনটিকে স্মরণ করছে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন। ফুল দিয়ে তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবির ওপরে কালো মুজিব কোট, বাঁ হাতে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ এবং প্রধানমন্ত্রী পরেছিলেন সাদা রঙের শাড়ির সঙ্গে কালো ব্লাউজ ও কালো চাদর। এর পর শেখ হাসিনা তার দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নেতাদের নিয়ে ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একে একে শ্রদ্ধা জানানÑ স্পিকার ড শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া; সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার নেতৃত্বে দলটির নেতারা। এর পর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনীপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী ও বিমানবাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, পুলিশ বাহিনীর প্রধান জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি, ভাষাসংগ্রামী, মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
একুশ বাঙালির চেতনায় সদা জাগ্রত। আজ তাই সব পথ মিশে গেছে শহীদ মিনারের বেদিতে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত বাড়তেই শহীদ মিনার অভিমুখী রাস্তায় ঢল নামে নানা বয়সী মানুষের। মা-বাবার হাত ধরে আসে শিশুরাও। প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে যাওয়ার পরই সারিবদ্ধভাবে ফুল হাতে শহীদ মিনারের বেদি অভিমুখে যায় সুশৃঙ্খল জনতার সারি। তাদের কণ্ঠে ছিল চির অমøান সেই গানÑ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি...’। শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ঢেকে যায় শহীদ মিনারের বেদি। আজ সারাদিন বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে খালি পায়ে সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শুধু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নয়, দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সব শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে ভাষাশহীদদের।
আজ থেকে ৬৮ বছর আগে ১৯৫২ সালের এই দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চোখ রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলনের দুর্বার গতি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন গুলি চালায় পুলিশ। রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ। সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা অনেকেই শহীদ হন। পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হয় মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের অভূতপূর্ব নজির। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) দিনটিকে ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়। সেই থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নরও আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেনÑ ‘বরকত, সালামকে আমরা ভালোবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথাÑ বরকত, সালাম আমাদের ভালোবাসে। ওরা আমাদের ভালোবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সেই রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত।’ তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে আমরা অমরতা পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না। কেননা বরকত-সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমরতার স্পর্শ দিয়ে গেছেন।’
বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবুল ফজল একুশ নিয়ে তার এক লেখায় বলেছেনÑ ‘মাতৃভাষার দাবি স্বভাবের দাবি; ন্যায়ের দাবি, সত্যের দাবিÑ এ দাবির লড়াইয়ে একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদরা প্রাণ দিয়েছেন। প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, স্বভাবের ব্যাপারে, ন্যায় ও সত্যের ব্যাপারে কোনো আপস চলে না, চলে না কোনো গোঁজামিল। জীবনমৃত্যুর ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই হতে হয় তার সম্মুখীন।’
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনাসভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑ সকাল ৭টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরিসহ আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন। এ ছাড়া আগামীকাল শনিবার বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে দিবসটি উপলক্ষে দলটির আলোচনাসভারও কর্মসূচি রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি গতকাল আলোচনাসভা করেছে। আজ ভোরে দলের নেতাকর্মীরা নিউমার্কেটসংলগ্ন বলাকা সিনেমা হলের সামনে থেকে প্রভাতফেরি নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পর আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত করবেন।
২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বাণী দিয়েছেন।
যেসব সড়ক বন্ধ থাকবে : টিএসসি মোড় থেকে জগন্নাথ হলের পূর্ব পাশের রাস্তা অর্থাৎ শিববাড়ীর পশ্চিম পাশ দিয়ে শহীদ মিনারে ও মেডিক্যাল কলেজে যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। উপাচার্য ভবন গেট থেকে ফুলার রোড হয়ে ফুলার রোড মোড় পর্যন্ত রাস্তা এবং চানখাঁরপুল থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা (কার্জন হলের পশ্চিম পাশের রাস্তা) জনসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

 

advertisement
Evall
advertisement