advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিএনপি নেতারা বিকল্প দেখছেন না কঠোর আন্দোলনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:৩৩ | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৩:৪৪
advertisement

কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এবার জামিন না দিলে কঠোর আন্দোলন ছাড়া বিকল্প থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তারা বলেন, তাদের আশা সুপ্রিমকোর্ট খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেবেন। যদি না দেন, আন্দোলন ছাড়া বিকল্প থাকবে না। গতকাল বিকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় নেতারা এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসুন আজকে সবাই শপথ নিই এই ভাষা শহীদদের স্মরণ করে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি। গণতন্ত্রকে মুক্ত করি।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, যুবদলের গোলাম মাওলা শাহিন, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ। ভাষা আন্দোলনের পটভূমি নিয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সমাজের অবস্থা কোন জায়গায় নিয়ে গেছে আজকের খবরের কাগজ খুললে দেখবেন, একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরবার জন্য তার বাড়ি থেকে তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে এসেছে। ৪০ বছর তার বয়স। তুলে নিয়ে এসে তাকে থানার মধ্যে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এ রকম ঘটনা আমরা আগে কখনো শুনতে পাইনি। এখন এই সরকারের আমলে সেগুলো দেখছি, এখানে নারীদের কোনো সম্মান নেই, মানুষের সম্মান ও জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।

দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলা যায় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১১০ কোটি দিয়ে বেসিক ব্যাংকের এক এমডি বাড়ি কিনেছেন। আজকে খালেদা জিয়ার বিচার হয়, সাজা হয় ২ কোটি টাকার একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে। অথচ যিনি ১১০ কোটি টাকার বাড়ি বানিয়েছেন, শত শত কোটি টাকার লুটপাট করে নিয়েছেন তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন দেখতে পায় না। এখন পর্যন্ত তাকে একটা নোটিশ পর্যন্ত করা হয়নি। এই হচ্ছে এদেশের অবস্থা। বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে একটা নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে বাংলাদেশে কী হচ্ছে? কোনটা বলব। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কে ভোট দিল, কে ভোট দিল না- এটা আমাদের দেখার বিষয় না। আওয়ামী লীগ এগুলো কেয়ার করে না।’ কত বড় অন্যায় কথা। আমাদের এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র। ১৯৭৫ সালে সেই গণতন্ত্রকে একবার হত্যা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, আবার এখন অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ২৯ তারিখ রাতে ডাকাতি করে। তারা ভালো করে জানে, জনগণ সুযোগ পেলে তাদের ভোট দেবে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রতিবাদের মনোভাব নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য দরখাস্ত করেছি। জজ সাহেব বললেন, এটা তো আগেই দেখেছি আবার কেন আনলেন? আমরা বললাম, ওনার (খালেদা জিয়া) যে গত দুই মাসে কত অবনতি হয়েছে সেটা আপনাদের দৃষ্টিতে আনা দরকার এবং এখন তার অবস্থা অনেক খারাপ। দুই মাস আগে আপনি রিফিউজ করেছেন, আপনি দেননি জামিন। আমরা এখন নতুন গ্রাউন্ড নিয়ে এসেছি, শুনানি করতে চাই। আশা করি, সুপ্রিমকোর্ট নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেবেন। যদি না দেন, আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই আমাদের কাছে।

advertisement